চরচা ডেস্ক

সম্প্রতি বিদেশি দূতাবাস, হাইকমিশন ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের ভিসাপ্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ভিসা বন্ড ও ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিটের অর্থ বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কী এই ভিসা বন্ড? এর কাজটাই বা কী?
ভিসা বন্ড হলো একটি আইনি এবং আর্থিক চুক্তি। যখন কোনো দেশের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ মনে করে, কোনো একজন আবেদনকারী সেই দেশে গিয়ে আইন ভঙ্গ করতে পারেন বা মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় থাকতে পারেন, তখন তারা ওই ব্যক্তির কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট অংকের অর্থ জামানত হিসেবে দাবি করে। এটি একটি গ্যারান্টি হিসেবে কাজ করে যে, যাত্রী তার সফরের সকল শর্ত মেনে চলবেন।
উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কথাই ধরা যাক। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর গত বছরের ৫ আগস্ট একটি টিএফআর জারি করে ১২ মাসের ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম চালু করে। এটি চলবে চলতি বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত। যেসব দেশের নাগরিকরা ভিসার মেয়াদের বেশিদিন থাকে প্রোগ্রামটি তাদের লক্ষ্য করে করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও।
কেন এই বন্ড প্রয়োজন হয়?
অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সাধারণত তিনটি প্রধান কারণে এই বন্ড দাবি করে—
১. ভিসার মেয়াদের বেশিদিন থাকা রোধ: অনেক সময় পর্যটক বা ছাত্ররা নির্দিষ্ট মেয়াদের পর নিজ দেশে ফিরে না গিয়ে অবৈধভাবে থেকে যান। আর্থিক বন্ড থাকলে ফিরে আসার প্রবণতা বাড়ে।
২. আইনি খরচ মেটানো: কোনো বিদেশি নাগরিক যদি সে দেশে অপরাধ করেন বা তাকে জোরপূর্বক বহিষ্কার করতে হয়, তবে সেই ব্যয়বহুল প্রক্রিয়াটি যেন সরকারের তহবিল থেকে খরচ না করতে হয়, সেজন্য ওই বন্ডের টাকা ব্যবহার করা হয়।
৩. আর্থিক সক্ষমতা যাচাই: বন্ড জমা দেওয়ার ক্ষমতা প্রমাণ করে যে আবেদনকারী আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং তিনি সেখানে গিয়ে রাষ্ট্রীয় বোঝা হবেন না।
ভিসা বন্ডের কার্যপ্রক্রিয়া
আবেদন ও নোটিশ: ভিসা প্রক্রিয়ার সময় যদি ইমিগ্রেশন অফিসার মনে করেন আপনার প্রোফাইল কিছুটা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, তবে তারা আপনাকে বন্ড জমা দেওয়ার নোটিশ দিতে পারেন।
অর্থ জমা: এই অর্থ সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সরকারি বন্ড অ্যাকাউন্টে বা অনুমোদিত ব্যাংকে জমা দিতে হয়। দেশভেদে এই অংক এক হাজার ডলার থেকে শুরু করে ১০ হাজার ডলার বা তার বেশি হতে পারে। যেমন: আমেরিকা ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত নিয়ে থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ভিসা বন্ডের অর্থ বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠানো যাবে এবং আন্তর্জাতিক/ভার্চুয়াল কার্ড ইস্যু করা যাবে। ফেরত এলে দ্রুত দেশে আনতে হবে। এটি আবেদনকারীদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করেছে।
শর্ত পূরণ ও ফেরত: যদি যাত্রী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নিজ দেশে ফিরে আসেন এবং কোনো আইন না ভাঙেন, তবে তিনি দেশে ফিরে ওই টাকা ফেরতের জন্য আবেদন করতে পারেন।
যদি কোনো ব্যক্তি ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেন—যেমন, ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে কাজ করা, অপরাধে জড়ানো বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে যাওয়া—তবে তার জামানতকৃত পুরো টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। শুধু তাই নয়, ওই ব্যক্তি ভবিষ্যতে আর কখনো সেই দেশে প্রবেশের অনুমতি পান না।
ভিসা বন্ড পর্যটকদের জন্য একটি বাড়তি আর্থিক চাপ হলেও এটি অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক। এটি একদিকে যেমন সরকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, অন্যদিকে যোগ্য আবেদনকারীদের ভিসা পাওয়ার পথ সুগম করে, যাদের প্রোফাইল হয়তো বন্ড ছাড়া প্রত্যাখ্যাত হতো।
তথ্যসূত্র: মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইট, অস্ট্রেলিয়ান ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যান্ড অ্যাফেয়ার্স, আল জাজিরা

সম্প্রতি বিদেশি দূতাবাস, হাইকমিশন ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের ভিসাপ্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ভিসা বন্ড ও ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিটের অর্থ বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কী এই ভিসা বন্ড? এর কাজটাই বা কী?
ভিসা বন্ড হলো একটি আইনি এবং আর্থিক চুক্তি। যখন কোনো দেশের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ মনে করে, কোনো একজন আবেদনকারী সেই দেশে গিয়ে আইন ভঙ্গ করতে পারেন বা মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় থাকতে পারেন, তখন তারা ওই ব্যক্তির কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট অংকের অর্থ জামানত হিসেবে দাবি করে। এটি একটি গ্যারান্টি হিসেবে কাজ করে যে, যাত্রী তার সফরের সকল শর্ত মেনে চলবেন।
উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কথাই ধরা যাক। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর গত বছরের ৫ আগস্ট একটি টিএফআর জারি করে ১২ মাসের ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম চালু করে। এটি চলবে চলতি বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত। যেসব দেশের নাগরিকরা ভিসার মেয়াদের বেশিদিন থাকে প্রোগ্রামটি তাদের লক্ষ্য করে করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও।
কেন এই বন্ড প্রয়োজন হয়?
অভিবাসন কর্তৃপক্ষ সাধারণত তিনটি প্রধান কারণে এই বন্ড দাবি করে—
১. ভিসার মেয়াদের বেশিদিন থাকা রোধ: অনেক সময় পর্যটক বা ছাত্ররা নির্দিষ্ট মেয়াদের পর নিজ দেশে ফিরে না গিয়ে অবৈধভাবে থেকে যান। আর্থিক বন্ড থাকলে ফিরে আসার প্রবণতা বাড়ে।
২. আইনি খরচ মেটানো: কোনো বিদেশি নাগরিক যদি সে দেশে অপরাধ করেন বা তাকে জোরপূর্বক বহিষ্কার করতে হয়, তবে সেই ব্যয়বহুল প্রক্রিয়াটি যেন সরকারের তহবিল থেকে খরচ না করতে হয়, সেজন্য ওই বন্ডের টাকা ব্যবহার করা হয়।
৩. আর্থিক সক্ষমতা যাচাই: বন্ড জমা দেওয়ার ক্ষমতা প্রমাণ করে যে আবেদনকারী আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং তিনি সেখানে গিয়ে রাষ্ট্রীয় বোঝা হবেন না।
ভিসা বন্ডের কার্যপ্রক্রিয়া
আবেদন ও নোটিশ: ভিসা প্রক্রিয়ার সময় যদি ইমিগ্রেশন অফিসার মনে করেন আপনার প্রোফাইল কিছুটা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, তবে তারা আপনাকে বন্ড জমা দেওয়ার নোটিশ দিতে পারেন।
অর্থ জমা: এই অর্থ সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সরকারি বন্ড অ্যাকাউন্টে বা অনুমোদিত ব্যাংকে জমা দিতে হয়। দেশভেদে এই অংক এক হাজার ডলার থেকে শুরু করে ১০ হাজার ডলার বা তার বেশি হতে পারে। যেমন: আমেরিকা ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত নিয়ে থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ভিসা বন্ডের অর্থ বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠানো যাবে এবং আন্তর্জাতিক/ভার্চুয়াল কার্ড ইস্যু করা যাবে। ফেরত এলে দ্রুত দেশে আনতে হবে। এটি আবেদনকারীদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করেছে।
শর্ত পূরণ ও ফেরত: যদি যাত্রী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নিজ দেশে ফিরে আসেন এবং কোনো আইন না ভাঙেন, তবে তিনি দেশে ফিরে ওই টাকা ফেরতের জন্য আবেদন করতে পারেন।
যদি কোনো ব্যক্তি ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেন—যেমন, ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে কাজ করা, অপরাধে জড়ানো বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে যাওয়া—তবে তার জামানতকৃত পুরো টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। শুধু তাই নয়, ওই ব্যক্তি ভবিষ্যতে আর কখনো সেই দেশে প্রবেশের অনুমতি পান না।
ভিসা বন্ড পর্যটকদের জন্য একটি বাড়তি আর্থিক চাপ হলেও এটি অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক। এটি একদিকে যেমন সরকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, অন্যদিকে যোগ্য আবেদনকারীদের ভিসা পাওয়ার পথ সুগম করে, যাদের প্রোফাইল হয়তো বন্ড ছাড়া প্রত্যাখ্যাত হতো।
তথ্যসূত্র: মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইট, অস্ট্রেলিয়ান ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যান্ড অ্যাফেয়ার্স, আল জাজিরা