Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

এআই-এর দিন শেষ হতে যাচ্ছে?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮: ৪৮
এআই-এর দিন শেষ হতে যাচ্ছে?

প্রায় তিন বছর আগে মনে হয়েছিল কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের লড়াইয়ে গোল্ডম্যান স্যাক্স সবার চেয়ে এগিয়ে আছে। ধনী গ্রাহকদের বিনিয়োগ থেকে আরও বেশি মুনাফা এনে দিতে এই ব্যাংকটি এক দল বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী নিয়োগ দিয়েছিল এবং অ্যামাজনের সাথে জোট বেঁধেছিল। কিন্তু গবেষণায় যা বেরিয়ে এল, তাতে তারা চমকে যায়।

গবেষকরা দেখলেন, একটি সমস্যার সমাধান করতে কোয়ান্টাম কম্পিউটারকে লাখ লাখ বছর ধরে চলতে হবে। শুধু তাই নয়, এর জন্য প্রয়োজন হবে ৮০ লাখ লজিক্যাল কিউবিট। অথচ বর্তমানের আধুনিক কম্পিউটারগুলোতে ১০০টি কিউবিটও নেই।

এর পরপরই খরচ কমানোর দোহাই দিয়ে গোল্ডম্যান স্যাক্স তাদের কোয়ান্টাম টিম ভেঙে দেয়। এখন সেখানে এই কাজে কেউ নেই বললেই চলে। উল্টোদিকে, তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী জেপি মরগান কিন্তু দমে যায়নি। তারা ৫০ জনেরও বেশি বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বোঝার চেষ্টা করছে, কীভাবে এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নতমানের কাজে ব্যবহার করা যায়।

বিশ্বের বড় দুই ব্যাংকের এই ভিন্ন অবস্থান একটি বড় প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে- এআই এর পর কি তবে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-ই হতে যাচ্ছে পরবর্তী বড় বিপ্লব? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি ওষুধ আবিষ্কার থেকে শুরু করে অর্থ বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানো পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার মুনাফা এনে দিতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো, এটি বাস্তবে কাজে লাগাতে আরও বহু বছর সময় লাগতে পারে। তাই এখনই এতে বিনিয়োগ করা কতটা বুদ্ধিমানের কাজ, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস
ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস

ওষুধ বা প্রতিরক্ষা খাতের কোম্পানিগুলো জানে তারা এই প্রযুক্তি কোথায় ব্যবহার করবে। কিন্তু ব্যাংক বা বিমা কোম্পানিগুলোর সামনে রয়েছে হাজারো জটিল সমস্যা, যেমন লেনদেনে জালিয়াতি ধরা, বিনিয়োগ থেকে বেশি লাভ করা বা শেয়ার বাজারের সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া। তবে, হার্ডওয়্যারের সীমাবদ্ধতার কারণে কোন কাজটি আগে করা উচিত, তা তারা ঠিক করতে পারছে না।

এই অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ব্যাংকই এখন চুপচাপ বসে আছে এবং দেখছে অন্যরা কী করে। কিন্তু জেপি মরগান ঝুঁকি নিচ্ছে। তারা প্রচুর অর্থ ও জনবল নিয়োগ করছে এই আশায় যে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে দেবে।

জেপি মরগানের প্রযুক্তি গবেষণা প্রধান রব ওটার বলেন, “আমরা এখন থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করছি যাতে ভবিষ্যতে আমাদের সব ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়।”

জেপি মরগান তাদের দলের সদস্য সংখ্যা প্রকাশ না করলেও ওটার জানিয়েছেন, তার দল বর্তমানে বিনিয়োগ ব্যাংক এবং ঋণের বাজার বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের গতি বাড়াতে কোয়ান্টাম কম্পিউটার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে।

গত নভেম্বরে ব্যাংকটি জানায়, তারা কোয়ান্টিনুয়াম লিমিটেডের একটি বিশেষ প্রসেসর ব্যবহার করে দ্রুত ডেটা বিশ্লেষণ করার নতুন পদ্ধতি তৈরি করেছে। এর ফলে ব্যাংকের টাকা লেনদেনে কোনো জালিয়াতি হচ্ছে কি না, তা খুব দ্রুত ধরা সম্ভব হবে। এছাড়া গত বছরের মার্চে তারা অ্যামাজনের সাথে মিলে এমন একটি সিস্টেম দেখিয়েছে, যা বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।

জেপি মরগানের গবেষণা প্রধান রব ওটার বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে তারা কোয়ান্টাম কম্পিউটার দিয়ে আসল কাজ শুরু করতে পারবেন। এখন তারা শুধু অপেক্ষা করছেন যাতে এই প্রযুক্তিটি ব্যবসায়িক ব্যবহারের জন্য আরও সহজলভ্য হয়।

‘আমেরিকার অর্থনীতি পুরোপুরি এআইনির্ভর’badrul alam 16

কোয়ান্টাম প্রযুক্তি মূলত বিজ্ঞানের একটি জটিল শাখার ওপর ভিত্তি করে চলে। সাধারণ কম্পিউটার যেখানে একটার পর একটা কাজ করে, সেখানে কোয়ান্টাম কম্পিউটার একসাথে অনেকগুলো কাজ করতে পারে। ফলে এটি সাধারণ কম্পিউটারের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।

মার্কিন স্ট্রাটেজি ও ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং ফার্ম ম্যাককিনস-এর মতে, বর্তমানে এই খাতে চার বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হলেও ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ৭২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। বিশেষ করে কেমিক্যাল ও ফিন্যান্স খাতে এর প্রভাব হবে সবচেয়ে বেশি।

জেপি মরগান ছাড়াও ইউবিএস তাদের ৫০ জন কর্মীকে এই প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। স্প্যানিশ ব্যাংক বিবিভিএ বিনিয়োগের উন্নতির জন্য এবং ক্রেডিট অ্যাগ্রিকোল ঋণের ঝুঁকি বুঝতে এটি ব্যবহার করছে। পাশাপাশি অনেক ব্যাংক তাদের সাইবার নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে, কারণ এই শক্তিশালী কম্পিউটার বর্তমানের যেকোনো পাসওয়ার্ড বা সিকিউরিটি ভেঙে ফেলার ক্ষমতা রাখে।

বর্তমানে এই খাতের মূল লড়াই চলছে গুগল এবং আইবিএম-এর মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে। তাদের পাশাপাশি অনেক নতুন স্টার্টআপও এই দৌড়ে যোগ দিয়েছে। তারা গুগলের উইলো এবং আইবিএমের হেরনের মতো প্রসেসর ব্যবহার করে নতুন নতুন সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও বর্তমানের এই কম্পিউটারগুলো এখনো খুব একটা শক্তিশালী বা নির্ভরযোগ্য নয়, তবুও তারা ক্লাউড প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির সাথে মিলে এটি কীভাবে ভবিষ্যতে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে।

উদাহরণস্বরূপ, বিএমডব্লিউ বর্তমানে এনভিডিয়া এবং কোয়ান্টাম সফটওয়্যার ফার্ম ক্লাসিকের সাথে মিলে গাড়ির ড্রাইভট্রেন ও কুলিং সিস্টেম উন্নত করার উপায় খুঁজছে। নভো নরডিস্ক এবং রোশ হোল্ডিং নতুন ওষুধ আবিষ্কারের জন্য মলিকুলার মডেলিং নিয়ে কাজ করছে। এমনকি এক্সন মবিল তাদের ট্যাংকার বহরের জন্য সবচেয়ে কার্যকর রুট ম্যাপ তৈরি করতে আইবিএমের সাথে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ঝুঁকি সহনশীলতা এবং পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণের সমাধান বের করা কিছুটা জটিল হয়ে পড়ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস
ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস

তাছাড়া, অর্থখাতে এই প্রযুক্তির প্রয়োগ কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে বর্তমানে প্রচুর বিভ্রান্তি রয়েছে। কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রিগেটি কম্পিউটিংয়ের প্রধান নির্বাহী সুবোধ কুলকার্নি বলেন, সিস্টেমের গঠনশৈলী এবং এটি তৈরির প্রযুক্তির ভিন্নতার কারণে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর অর্থ হতে পারে, একটি ব্যাংকের প্রয়োজন মেটাতে তারা কেবল একটির বদলে একাধিক কোয়ান্টাম কম্পিউটিং কোম্পানির সাথে কাজ করতে বাধ্য হতে পারে। 

সুবোধ বলেন, “বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এই প্রযুক্তি নিয়ে এখন ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আমরা দেখছি, তারা কোয়ান্টাম পদার্থবিদ নিয়োগ দিচ্ছে এবং আমাদের মতো কোম্পানি বা আইবিএমের সাথে মিলে নতুন সব উপায় নিয়ে গবেষণা করছে।”

ক্যালিফোর্নিয়ার ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি রিগেটি ইতিমধ্যেই এইচএসবিসির সাথে অবৈধ অর্থ লেনদেন বা মানি লন্ডারিং রোধে কাজ করেছে। এছাড়া তারা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সাথেও গবেষণায় যুক্ত হয়েছে।

জেপি মরগান এবং গোল্ডম্যান স্যাক্স প্রায় সাত বছর আগেই এই পথে হাঁটা শুরু করেছিল। জেপি মরগানের সাবেক প্রধান মার্কো পিস্তোয়া জানান, তারা যখন বড় আকারে কর্মী নিয়োগ শুরু করেন, তখন অন্য ব্যাংকগুলোও তাদের অনুসরণ করতে বাধ্য হয়।

বর্তমানে একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সিইও হিসেবে কর্মরত পিস্তোয়া মজা করে বলেন, “অন্যান্য ব্যাংকের কোয়ান্টাম বিভাগের প্রধানরা আমাকে বলতেন, ‘মার্কো, তোমার কারণেই আজ আমরা আমাদের বিভাগে নতুন লোক নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি’।”

এআই বট বানিয়েছে নিজেদের ‘ফেসবুক’, আছে নতুন ধর্মMoltbook

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে গুগল ঘোষণা দেয় যে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপার কম্পিউটারের যে কাজ করতে ১০ হাজার বছর সময় লাগত, তাদের কোয়ান্টাম কম্পিউটার তা মাত্র কয়েক মিনিটে করে ফেলেছে। এরপরই এই খাতে বিনিয়োগের ধুম পড়ে যায়।

কোয়ান্টাম সফটওয়্যার কোম্পানি কিউসি ওয়্যারের প্রধান ম্যাট জনসন বলেন, “মূলত অন্যরা এগিয়ে যাচ্ছে দেখে পিছিয়ে পড়ার ভয় থেকেই সবাই এখানে বিনিয়োগ করতে শুরু করেছিল।”

তবে অরকা কম্পিউটিংয়ের সিইও রিচার্ড মারে মনে করেন, ব্যাংকগুলো হয়তো অনেক দ্রুত বা ভুল সময়ে এই প্রযুক্তিতে টাকা ঢেলেছে।

রিগেটির সুবোধ কোম্পানির কুলকার্নি জানান, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নিয়ে অতিরিক্ত বাড়িয়ে বলার কারণেই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিভ্রান্ত হয়েছে। ২০২৩ সালের একটি অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি পরিষ্কার বুঝতে পেরেছিলাম যে ব্যাংকগুলো যা আশা করছিল, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি তখন সেই পর্যায়ে ছিল না। আমাদের কোম্পানিসহ এই শিল্পের সবাই তখন বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু সেগুলো পূরণ করার ক্ষমতা আমাদের ছিল না।”

প্রযুক্তি জগতের ভেতরেও এ নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। যেমন: মাইক্রোসফট যখন নতুন এক পদ্ধতিতে ‘কিউবিট’ তৈরির দাবি করল, তখন অনেকেই তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াং গত বছর বলেন যে, এই প্রযুক্তি এখন একটি বড় পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে। অথচ এর আগে তিনিই বলেছিলেন যে, কার্যকর কোয়ান্টাম কম্পিউটার পেতে আরও বহু বছর অপেক্ষা করতে হবে।

তবে মাইক্রোসফট তাদের দাবিতে অটল। কোম্পানির বিশেষজ্ঞ চেতন নায়ক জানান, তারা আত্মবিশ্বাসী যে কয়েক দশক নয়, বরং আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই তারা ব্যবহারের উপযোগী কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করতে পারবেন।

চীনের এআই রোবট যেভাবে পাল্টে দিচ্ছে বিশ্বব্যবস্থাWhatsApp Image 2026-03-16 at 16.58.52

অন্যদিকে, এইচএসবিসি ব্যাংকের সাবেক কোয়ান্টাম বিশেষজ্ঞ স্টিভ সুয়ারেজ বলেন, “বড় বড় কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে যা করার স্বপ্ন দেখাচ্ছে, তা অবিশ্বাস্য। তারা যে সময়ের মধ্যে এসব করার কথা বলছে, তা আমার কাছে মোটেও বাস্তবসম্মত মনে হয় না।”

গোল্ডম্যান স্যাকসের সাবেক গবেষক ডেভিড বাডার, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সেখানে কাজ করেছেন। বর্তমানে নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ডেটা সায়েন্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে কর্মরত বাডার মনে করে,ন ব্যাংকের এই গবেষণা পুরো খাতের প্রত্যাশাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তার মতে, “এই ধরনের কঠোর যাচাই-বাছাই আসল উন্নতি আর স্রেফ অনুমানের মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়ে দেয়।”

তবে এই উত্তেজনা বাজারে বেশ প্রভাব ফেলেছিল। ২০২৪ সালে কোয়ান্টাম কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। যেমন- রিগেটির শেয়ারের দাম বেড়েছিল ১,৪৫০%, ডি-ওয়েভ কোয়ান্টামের ৮৫৪% এবং আয়নকিউ এর ২৩৭%। কিন্তু গত বছর থেকে মানুষ যখন বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে শুরু করল, তখন এই লাভের গতি কমে আসে। তাছাড়া, বর্তমানে সারা বিশ্বের নজর এখন এআইয়ের দিকে, যা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আগাচ্ছে।

কিউসি ওয়্যারের জনসন বলেন, “প্রযুক্তিটি বর্তমানে আসলে কোন পর্যায়ে আছে, তা নিয়ে এখন সবার মনে একটি পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয়েছে।” তিনি আরও জানান যে, ব্যাংকগুলো এখন অনেক বেশি বাস্তববাদী হচ্ছে- কোয়ান্টাম প্রযুক্তি কত দ্রুত উন্নত হচ্ছে তার সাথে মিল রেখেই তারা এখন বিনিয়োগের গতি ঠিক করছে।

অন্যদিকে, স্টিভ সুয়ারেজ মনে করেন, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে কোম্পানিগুলো অন্তত এটা প্রমাণ করতে পারে যে তারা ‘ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন’ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাথে আছে। তার সাবেক কর্মস্থল এইচএসবিসি গত সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিল যে, আইবিএমের প্রসেসর ব্যবহার করে বন্ডের দামের পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা ৩৪% পর্যন্ত উন্নতি দেখেছে। তবে এই পরীক্ষায় তথ্যের পরিমাণ ছিল সাধারণের তুলনায় বেশ কম। এমনকি গবেষকরাও স্বীকার করেছেন যে, এই উন্নতি ঠিক কীভাবে সম্ভব হয়েছে তা তারা পুরোপুরি নিশ্চিত নন।

এইচএসবিসি ব্যাংক। ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস
এইচএসবিসি ব্যাংক। ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস

দাভোসে ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এইচএসবিসি ব্যাংকের কর্মকর্তা মাইকেল রবার্টস বলেন, “আমি মনে করি কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ভবিষ্যতে ব্যাংকিং ব্যবসার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে।” তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে তারা এটি ব্যবহার করে সাইবার নিরাপত্তা এবং আয় বাড়ানোর উপায় নিয়ে কাজ করছেন।

ব্রিটিশ এই ব্যাংকটি বর্তমানে হাইকু নামক একটি সফটওয়্যার কোম্পানির সাথে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য হলো কোয়ান্টাম ডিভাইসে তথ্যগুলো সঠিকভাবে সাজানো, যাতে তারা মন্টে কার্লো অ্যালগরিদমের মতো জটিল গাণিতিক সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারে। শেয়ার বাজারের জটিল হিসাব-নিকাশে এই পদ্ধতিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

যদিও এই প্রযুক্তিতে এখনই খুব বড় কোনো সাফল্য দেখা যাচ্ছে না, তবে এটি স্পষ্ট যে, ওয়াল স্ট্রিটসহ বিশ্বের বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে, বড় কোনো সুফল পাওয়ার আগে তাদের আরও কয়েক বছর কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।

গোল্ডম্যান স্যাকস বর্তমানে তাদের কাজের গতি কমিয়ে দিলেও ভবিষ্যতে তারা হয়ত আরও বড় পরিসরে ফিরে আসবে। তবে এ বিষয়ে ব্যাংকটির কোনো প্রতিনিধি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জেপি মরগান ইতিমধ্যেই তাদের গবেষণার কিছু অংশ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। তাদের আশা, বিজ্ঞানীদের সাহায্য করার মাধ্যমে কোয়ান্টাম প্রযুক্তির উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং কাঙ্ক্ষিত সাফল্য দ্রুত হাতের নাগালে আসবে।

এ বিষয়ে জেপি মরগানের প্রযুক্তি গবেষণা প্রধান রব ওটার বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু এই খাতে নেতৃত্ব দেওয়া নয়, বরং এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তা নির্ধারণে সাহায্য করা।”

*ব্লুমবার্গের নিবন্ধ থেকে অনূদিত*

বিষয়: আমেরিকাঝুঁকিবিনিয়োগব্যাংকপ্রযুক্তিএআইপদার্থ বিজ্ঞান
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।