Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

ইমিউনোথেরাপিতে যেভাবে নির্মূল হবে ক্যানসার

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ৪৭
ইমিউনোথেরাপিতে যেভাবে নির্মূল হবে ক্যানসার

প্রায় ১০০ বছরের দীর্ঘ বিবর্তন ও গবেষণার পর অবশেষে ক্যানসার চিকিৎসায় এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করার পদ্ধতি যা ‘ইমিউনোথেরাপি’ নামে পরিচিত,তা এখন রোগীদের জীবন বাঁচাতে অবিশ্বাস্য সাফল্য দেখাচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

মরিন সিডেরিসের কথাই ধরা যাক।

৭১ বছর বয়সী মরিন সিডেরিসের অভিজ্ঞতা এই পরিবর্তনের এক অনন্য উদাহরণ। ২০০৮ সালে যখন তিনি প্রথমবার কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হন, তখন তাকে অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। সফল চিকিৎসা সত্ত্বেও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক।

ঠিক ১৪ বছর পর, নিউইয়র্কের বাসিন্দা সিডেরিস যখন খাদ্যনালীর ক্যানসারে আক্রান্ত হন, তখন তার চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল একেবারেই ভিন্ন। একটি ক্লিনিকাল ট্রায়ালের আওতায় তাকে নিউইয়র্ক সিটির মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিং ক্যানসার সেন্টারে প্রতি তিন সপ্তাহে মাত্র ৪৫ মিনিটের জন্য ডস্টারলিম্যাব নামক একটি ওষুধের ইনফিউশন নিতে হয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, মাত্র চার মাসের এই চিকিৎসায় সিডেরিসের টিউমার সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেছে। কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি কিংবা রেডিয়েশন ছাড়াই তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ক্লান্তিজনিত কিছু সমস্যা থাকলেও বিবিসিকে সিডেরিস বলেন, “এটি অবিশ্বাস্য! মনে হয় যেন কোনো সায়েন্স ফিকশন বা কল্পবিজ্ঞান দেখছি।”

তবে এটি কোনো কল্পনা নয়, বরং এক কঠোর বাস্তবতা। সিডেরিসের মতো ক্রমবর্ধমান অসংখ্য রোগী এখন ইমিউনোথেরাপির সুফল পাচ্ছেন। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিল তিল করে গড়ে ওঠা এই চিকিৎসা পদ্ধতি এখন পূর্ণতা পেয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত বা পার্সোনালাইজড থেরাপি, দীর্ঘমেয়াদী ক্যানসার মুক্তি এবং কেমো বা রেডিয়েশনের তুলনায় অনেক কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সুস্থ থাকার এক নতুন আশা তৈরি হয়েছে।

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

ইমিউনোথেরাপির এই অভাবনীয় সাফল্য দেখে আবেগাপ্লুত খোদ গবেষকরাও। টেক্সাসের এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারের সার্জিক্যাল অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক এবং ইমিউনোথেরাপি গবেষক জেনিফার ওয়ারগো বলেন, “এটি দেখে আমার গায়ে কাঁটা দেয়, গলা ধরে আসে। এই রোগে আক্রান্তরা এখন কেবল বেঁচে নেই, বরং সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। তাই আমরা এখন আর শুধু চিকিৎসার কথা বলছি না, আমরা ক্যানসার নিরাময় করার কথা বলছি।”

শরীরের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এক সহজাত ক্ষমতা রয়েছে, যা আমাদের শরীরের বাইরের যেকোনো ক্ষতিকর কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। ইমিউনোথেরাপির উন্নয়নে কাজ করা মার্কিন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান পার্কার ইনস্টিটিউট ফর ক্যানসার ইমিউনোথেরাপির প্রধান নির্বাহী কারেন নুডসেন এই প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে বিবিসিকে বলেন, আমাদের শরীর প্রাকৃতিকভাবেই এমন কোষগুলো খুঁজে বের করতে সক্ষম যা শরীরের নিজস্ব সুস্থ কোষ নয়। যদি সব কিছু ঠিকঠাক কাজ করে, তবে ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলোও এই পদ্ধতিতে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা।

তবে কখনও কখনও ক্যানসার কোষগুলো শরীরের এই সুশৃঙ্খল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে শেখে। তারা শরীরের সুস্থ কোষগুলোর ছদ্মবেশে নিজেদের লুকিয়ে রাখে। এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তাদের শনাক্ত করতে পারে না। ফলে কোনো বাধা ছাড়াই ক্যানসার কোষগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

ইমিউনোথেরাপির মূল লক্ষ্য হলো ক্যানসার কোষগুলোর সেই ছদ্মবেশ উন্মোচন করা। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলে যাতে তারা লুকিয়ে থাকা ক্যানসার কোষগুলোকে খুঁজে বের করতে পারে এবং কার্যকরভাবে ধ্বংস করতে পারে। আর এর ফলাফল হতে পারে অবিশ্বাস্য।

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে ইমিউনোথেরাপির লড়াই

বর্তমানে ক্যানসার চিকিৎসায় ইমিউনোথেরাপির দুটি পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি কার্যকর, কার টি-সেল থেরাপি এবং ইমিউন চেকপয়েন্ট ইনহিবিটরস।

সহজ কথায়, কার টি-সেল থেরাপিতে রোগীর রক্ত থেকে টি-সেল (শরীরের বিশেষ রক্ষী কোষ) সংগ্রহ করে ল্যাবে সেগুলোকে শক্তিশালী করা হয়, যাতে তারা ক্যানসার কোষকে চিনে আক্রমণ করতে পারে। বর্তমানে এটি মূলত ব্লাড ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

অন্যদিকে, আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় একটি স্বাভাবিক ‘অফ সুইচ’ থাকে, যাতে শরীর ভুল করে নিজের সুস্থ কোষকে আক্রমণ না করে। কিন্তু চতুর ক্যানসার কোষগুলো অনেক সময় এই সুইচটি টিপে টি-সেলগুলোকে থামিয়ে দেয়। ইমিউন চেকপয়েন্ট ইনহিবিটর নামক ওষুধগুলো এই সুইচটিকে বন্ধ হতে দেয় না, ফলে টি-সেলগুলো ক্যানসার শত্রু হিসেবে চিনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই বৈপ্লবিক উদ্ভাবনের জন্য ২০১৮ সালে বিজ্ঞানীরা নোবেল পুরস্কার জয় করেন।

এত সম্ভাবনা সত্ত্বেও এই চিকিৎসার কিছু বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখনো ৯০ শতাংশেরও বেশি ক্যানসার বা সলিড টিউমারের বিরুদ্ধে এই পদ্ধতিকে কার্যকর করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ ছাড়া এই চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

লন্ডনের ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সামরা তুরাজলিক বলেন, এই চিকিৎসার ফলে অনেক সময় সুস্থ কোষও আক্রান্ত হতে পারে। এর ফলে সাধারণ ত্বকে র‍্যাশ বা ক্লান্তির পাশাপাশি ক্ষেত্রবিশেষে লিভার, হার্ট বা কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

তুরাজলিকের মতে, অনকোলজি জগতের প্রধান সমস্যা হলো কোনো ইমিউনোথেরাপিই সব রোগীর ক্ষেত্রে কাজ করে না। টিউমারের গঠন বা প্রতিরক্ষা কোষের বৈশিষ্ট্যের কারণে গড়ে মাত্র ২০ থেকে ৪০ শতাংশ রোগী এই চিকিৎসায় সুফল পান। অর্থাৎ, বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রেই এই চিকিৎসা তেমন কাজে আসে না, উল্টো তারা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে থাকেন।

ক্যানসার চিকিৎসায় ইমিউনোথেরাপি। ছবি: এআই
ক্যানসার চিকিৎসায় ইমিউনোথেরাপি। ছবি: এআই

বহুমুখী পদ্ধতি

ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়াতে বিজ্ঞানীরা এখন প্রথাগত চিকিৎসার বাইরেও নানা চমকপ্রদ উপায় খুঁজে পাচ্ছেন। অধ্যাপক জেনিফার ওয়ারগোর প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব রোগী আঁশযুক্ত খাবার খায়, তাদের চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মূলত অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া পরিবর্তনের ফলে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং টিউমারের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

গবেষণায় আরও একটি বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে। কোলেস্টেরল কমানোর সস্তা ও সহজলভ্য ওষুধ স্ট্যাটিন কোষের মধ্যকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের মাধ্যমে ইমিউনোথেরাপির প্রভাব বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি চিকিৎসার সময় নিয়েও চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। দেখা যাচ্ছে, দিনের পরের ভাগের চেয়ে যারা সকালের দিকে চিকিৎসা নেন, তাদের সুস্থ হওয়ার হার তুলনামূলক ভালো।

অন্যদিকে, ইমিউনোথেরাপির সঙ্গে রেডিয়েশন বা আল্ট্রাসাউন্ডের সমন্বয়কে বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন গবেষকরা। নিউইয়র্কের ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল সেন্টারের গবেষক সান্দ্রা ডেমারিয়া ব্যাখ্যা করেন, রেডিয়েশন আসলে লুকিয়ে থাকা টিউমারকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কাছে দৃশ্যমান করে তোলে। একইভাবে উচ্চ-কম্পাঙ্কের শব্দ তরঙ্গ বা আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপিও ইমিউনোথেরাপিকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে।

ক্যানসার চিকিৎসায় এখন আর সবার জন্য একই পদ্ধতি নয়, বরং রোগীর শরীরের ধরণ অনুযায়ী বিশেষায়িত বা পার্সোনালাইজড চিকিৎসার দিকে ঝুঁকছেন বিজ্ঞানীরা। পার্কার ইনস্টিটিউট ফর ক্যান্সার ইমিউনোথেরাপির প্রধান কারেন নুডসেন বলেন, “ক্যানসার আসলে একটি রোগ নয়, এটি ২০০টি ভিন্ন ভিন্ন রোগের সমষ্টি। এদের প্রত্যেকের উৎপত্তির কারণ আলাদা, তাই চিকিৎসাও হতে হবে আলাদা।” এমনকি একই ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত দুজন রোগীর কোষের গঠনও সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে।

মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিং ক্যানসার সেন্টারের বিজ্ঞানীরা একটি বিশেষ জিনগত প্রোফাইল বা জেনেটিক সিগনেচার শনাক্ত করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট এই জিনের অধিকারী টিউমারগুলো ডস্টারলিম্যাবের মতো ইমিউনোথেরাপিতে অভাবনীয় সাড়া দেয়। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চালানো পরীক্ষায় রেকটাল, খাদ্যনালী এবং পাকস্থলী ক্যানসারের ১১৭ জন রোগীর ওপর এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। ফলাফল ছিল বিস্ময়কর। এদের মধ্যে ১০৩ জন রোগীর মধ্যে সিডেরিসসহ ৮৪ জনের টিউমার কোনো অস্ত্রোপচার ছাড়াই সম্পূর্ণ নির্মূল হয়ে গেছে।

একই ধরনের আশাব্যঞ্জক ফলাফল জানিয়েছে, এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারের গবেষকরাও। বিশেষজ্ঞ লুই ডিয়াজের মতে, এটি ক্যানসার চিকিৎসার এক নতুন যুগের সূচনা। তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যযুগীয় বর্বর চিকিৎসা পদ্ধতি থেকে আধুনিক যুগে প্রবেশ করতে হবে। ক্যানসার সারাতে, রেকটাল বা পাকস্থলী কেটে ফেলে দেওয়ার চেয়েও ভালো কিছু আমাদের করতে হবে।”

তবে একটি বড় সীমাবদ্ধতা এখনো রয়ে গেছে। ডিয়াজ সতর্ক করে জানান, বর্তমানে মাত্র ৫ শতাংশ টিউমারে এই বিশেষ জিনগত বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় যা বিনা অস্ত্রোপচারে ইমিউনোথেরাপির জন্য উপযুক্ত। বাকি ৯৫ শতাংশ রোগীর জন্য এখন একই ধরনের কার্যকর কোনো পথ খুঁজে বের করাই বিজ্ঞানীদের পরবর্তী লক্ষ্য।

ইমিউনোথেরাপির জয়যাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে ‘ক্যানসার ভ্যাকসিন’। সাধারণ টিকা যেমন শরীরকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শেখায়, ক্যানসার ভ্যাকসিনও ঠিক একইভাবে রোগীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নির্দিষ্ট টিউমার কোষ চিনে নিয়ে তা ধ্বংস করার প্রশিক্ষণ দেয়। তফাৎ শুধু এটুকুই যে, এটি রোগ প্রতিরোধের চেয়ে নিরাময়ে বেশি কাজে লাগবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডানা-ফারবার ক্যানসার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা সম্প্রতি এক বিশেষ ধরনের কিডনি ক্যানসারে আক্রান্ত ৯ জন রোগীর জন্য ‘পার্সোনালাইজড’ ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন। ২০২৫ সালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ত্রোপচারের পর এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করায় ওই ৯ জন রোগীর শরীর থেকে ক্যানসারের অবশিষ্টাংশ সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে এবং বছরের পর বছর তারা সুস্থ আছেন। মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারের ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতি দারুণ সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।

গবেষক কারেন নুডসেন এই উদ্ভাবনকে প্রিসিশন মেডিসিনের প্রকৃত উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে একে একটি বোল্ড নিউ ওয়ার্ল্ড বা সাহসী নতুন বিশ্ব বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এখন খুব দ্রুত রোগীর নির্দিষ্ট টিউমারের ধরণ অনুযায়ী টিকা তৈরি করা সম্ভব।

তবে এই পথ এখনো অনেক দীর্ঘ। গবেষক সান্দ্রা ডেমারিয়া সতর্ক করে বলেছেন, অনেক আশাব্যঞ্জক পদ্ধতিই প্রাথমিক ট্রায়াল পার করতে পারে না। এছাড়া সব ধরনের ক্যানসার ইমিউনোথেরাপিতে সাড়া নাও দিতে পারে। লুইস ডিয়াজের মতে, ক্যানসারের কিছু নিজস্ব ‘সুপারপাওয়ার’ বা বিশেষ শক্তি থাকে যা সব সময় ইমিউন সিস্টেম দমন করতে পারে না।

তা সত্ত্বেও, ইমিউনোথেরাপি এখন হাজারো রোগীর জীবন বদলে দিচ্ছে। নিউইয়র্কের রোগী মরিন সিডেরিস আজ ক্যান্সারমুক্ত। তার চিকিৎসকের মতে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন দেওয়াটা মান্ধাতা আমলের বিষয় হিসেবে গণ্য হবে।

*বিবিসি থেকে অনূদিত*

বিষয়: টিকারোগগবেষকক্যানসারগবেষণাবিবিসিওষুধ
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।