চরচা প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুর একজন অর্থনীতিবিদ। শুধু তা–ই নয়, ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যতজন গভর্নর নিয়োগ পেয়েছেন, তারা সবাই অর্থনীতি, ব্যবসায় প্রশাসন ও ব্যাংকিং ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা। কেউ কেউ ছিলেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আমলা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরির অভিজ্ঞতা ছিল তাদের। তবে আহসান এইচ মনসুরের উত্তরসূরি যিনি হতে চলেছেন, সেই মোস্তাকুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। ব্যাপারটি দিনভর যথেষ্ট কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান অবশ্য পড়াশোনা করেছেন হিসাববিজ্ঞানে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে স্নাতক পাস করেন। ১৯৮৮ সালে করেন স্নাতকোত্তর। পরবর্তী সময়ে তিনি আইসিএমএবি থেকে হিসাববিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। মোস্তাকুর রহমান পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি হেরা সোয়েটার্স নামের একটি তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানের মালিক। নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত তার প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশবান্ধব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। তৈরি পোশাক ছাড়াও আবাসন খাতে মোস্তাকুর রহমানের ব্যবসা আছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে সব ব্যবসা ও নিজের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। এ ব্যাপারে আইনি বাধ্যবাধকতা আছে।
নতুন গভর্নর ৩০ বছর ধরে আর্থিক খাতে সুশাসন নিয়ে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে করপোরেট ফিন্যান্স, রপ্তানি, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তার।
মোস্তাকুর রহমান তৈরি পোশাকের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব, অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব), ঢাকা চেম্বারের সদস্য। এসব সংগঠনের বিভিন্ন কমিটিতে তিনি কাজ করেছেন। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন আবদুর রউফ তালুকদার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবদুর রউফ তালুকদারও পালিয়ে যান। তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট আহসান এইচ মনসুরকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয় মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ আসনে জিতে বিএনপি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করার ৯ দিনের মাথায় আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করা হলো।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান এ এন এম হামিদুল্লাহ। তিনি ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৪ সালের ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি বাণিজ্য বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। ছিলেন একজন ক্যারিয়ার–ব্যাংকার।

দ্বিতীয় গভর্নর ছিলেন এ কে এম নাজিরউদ্দীন আহমেদ। তিনি ১৯ নভেম্বর ১৯৭৪ থেকে ১৩ জুলাই, ১৯৭৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। নাজিরউদ্দীন আহমেদ ছিলেন একজন অর্থনীতিবিদ।
ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মো. নূরুল ইসলাম। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। তিনিও ছিলেন একজন অর্থনীতিবিদ।
এরপর এক এক করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন যথাক্রমে শেগুফতা বখত চৌধুরী, খোরশেদ আলম, লুৎফর রহমান সরকার, মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, ফখরুদ্দীন আহমেদ, সালেহউদ্দিন আহমেদ। এদের মধ্যে লুৎফর রহমান সরকার ছিলেন ব্যাংকার। বাকিরা সবাই ছিলেন অর্থনীতিবিদ।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান আতিউর রহমান। তিনি ছিলেন একজন অর্থনীতিবিদ। এর পরের দুই গভর্নর ফজলে কবির ও আবদুর রউফ তালুকদার ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। ফজলে কবিরের লেখাপড়া ছিল অর্থনীতি বিষয়ে, রউফ তালুকদারের ব্যবসায় প্রশাসন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কয়েকদিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন নুরুন নাহার। তিনি বিএসসি পাস করে এমবিএ পড়েছিলেন। ছিলেন একজন ক্যারিয়ার ব্যাংকার।
নতুন গভর্নর ব্যবসায়ী হলেও আর্থিক খাত নিয়ে তার কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। দেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার কিংবা আমলারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন একজন ব্যবসায়ী কীভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা করেন, দেখার বিষয় এটিই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুর একজন অর্থনীতিবিদ। শুধু তা–ই নয়, ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যতজন গভর্নর নিয়োগ পেয়েছেন, তারা সবাই অর্থনীতি, ব্যবসায় প্রশাসন ও ব্যাংকিং ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা। কেউ কেউ ছিলেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আমলা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরির অভিজ্ঞতা ছিল তাদের। তবে আহসান এইচ মনসুরের উত্তরসূরি যিনি হতে চলেছেন, সেই মোস্তাকুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। ব্যাপারটি দিনভর যথেষ্ট কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান অবশ্য পড়াশোনা করেছেন হিসাববিজ্ঞানে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে স্নাতক পাস করেন। ১৯৮৮ সালে করেন স্নাতকোত্তর। পরবর্তী সময়ে তিনি আইসিএমএবি থেকে হিসাববিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। মোস্তাকুর রহমান পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি হেরা সোয়েটার্স নামের একটি তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানের মালিক। নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত তার প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশবান্ধব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। তৈরি পোশাক ছাড়াও আবাসন খাতে মোস্তাকুর রহমানের ব্যবসা আছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে সব ব্যবসা ও নিজের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। এ ব্যাপারে আইনি বাধ্যবাধকতা আছে।
নতুন গভর্নর ৩০ বছর ধরে আর্থিক খাতে সুশাসন নিয়ে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে করপোরেট ফিন্যান্স, রপ্তানি, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা আছে তার।
মোস্তাকুর রহমান তৈরি পোশাকের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব, অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব), ঢাকা চেম্বারের সদস্য। এসব সংগঠনের বিভিন্ন কমিটিতে তিনি কাজ করেছেন। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন আবদুর রউফ তালুকদার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবদুর রউফ তালুকদারও পালিয়ে যান। তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট আহসান এইচ মনসুরকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয় মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ আসনে জিতে বিএনপি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করার ৯ দিনের মাথায় আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করা হলো।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান এ এন এম হামিদুল্লাহ। তিনি ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৪ সালের ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি বাণিজ্য বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। ছিলেন একজন ক্যারিয়ার–ব্যাংকার।

দ্বিতীয় গভর্নর ছিলেন এ কে এম নাজিরউদ্দীন আহমেদ। তিনি ১৯ নভেম্বর ১৯৭৪ থেকে ১৩ জুলাই, ১৯৭৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। নাজিরউদ্দীন আহমেদ ছিলেন একজন অর্থনীতিবিদ।
ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মো. নূরুল ইসলাম। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। তিনিও ছিলেন একজন অর্থনীতিবিদ।
এরপর এক এক করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন যথাক্রমে শেগুফতা বখত চৌধুরী, খোরশেদ আলম, লুৎফর রহমান সরকার, মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, ফখরুদ্দীন আহমেদ, সালেহউদ্দিন আহমেদ। এদের মধ্যে লুৎফর রহমান সরকার ছিলেন ব্যাংকার। বাকিরা সবাই ছিলেন অর্থনীতিবিদ।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান আতিউর রহমান। তিনি ছিলেন একজন অর্থনীতিবিদ। এর পরের দুই গভর্নর ফজলে কবির ও আবদুর রউফ তালুকদার ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। ফজলে কবিরের লেখাপড়া ছিল অর্থনীতি বিষয়ে, রউফ তালুকদারের ব্যবসায় প্রশাসন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কয়েকদিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন নুরুন নাহার। তিনি বিএসসি পাস করে এমবিএ পড়েছিলেন। ছিলেন একজন ক্যারিয়ার ব্যাংকার।
নতুন গভর্নর ব্যবসায়ী হলেও আর্থিক খাত নিয়ে তার কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। দেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার কিংবা আমলারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন একজন ব্যবসায়ী কীভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা করেন, দেখার বিষয় এটিই।