দেশে ১২ শতাংশ মৃত্যুর কারণ ক্যানসার, প্রতিকার কী?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
দেশে ১২ শতাংশ মৃত্যুর কারণ ক্যানসার, প্রতিকার কী?
ছবি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

২০২৫ সালে দেশে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) বৃহত্তর গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রতি এক লাখে ক্যান্সারের আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০৬ জন। এছাড়াও প্রতি বছর এ রোগে নতুন করে ৫৩ জন আক্রান্ত হচ্ছে। দেশে মোট মৃত্যুর ১২ শতাংশই ক্যানসারের রোগী।

৪ ফেব্রুয়ারি, ‘বিশ্ব ক্যানসার দিবস’। বিশ্বজুড়ে বিকলাঙ্গতা ও মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত এই রোগ। আমাদের দেশের পাশাপাশি বর্তমানে বিশ্বজুড়েও ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।  

আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যান্সার রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২ কোটি মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ওই বছরে এই রোগে ১০ কোটিরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

যদিও বয়সভিত্তিক ক্যানসারে মৃত্যুর হার বিশ্বব্যাপী হ্রাস পেয়েছে, তবুও গবেষকরা বলছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে নতুন ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা তিন কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। জনসংখ্যার বৃদ্ধি এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে যত মৃত্যু হয়, তার মধ্যে বেশির ভাগই চাইলে এড়ানো যায়। এর মধ্যে তামাক, অ্যালকোহল, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার, স্থূলতা ও বায়ু দূষণ অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

এর অর্থ হলো, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সঠিক পদক্ষেপ-যেমন ধূমপান ত্যাগ করতে উৎসাহিত করা এবং মদ্যপানের মাত্রা কমিয়ে আনার মাধ্যমে ক্যানসারের প্রায় অর্ধেক ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অ্যালকোহল অন্তত সাত ধরনের ক্যানসারের সাথে সরাসরি যুক্ত। অন্যদিকে, স্তন ও কোলোন ক্যান্সারের মতো ক্রমবর্ধমান রোগসহ এক ডজনেরও বেশি ক্যানসারের সাথে স্থূলতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

ক্যানসার শনাক্তকরণ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে আধুনিক উদ্ভাবন অভূতপূর্ব সাফল্য নিয়ে এসেছে। তবে এই অগ্রগতির সুফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং বৈষম্য এই লড়াইকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।

সম্পর্কিত