চরচা ডেস্ক

সুদানের এল-ফাশের অবরোধে বাবা নিহত হওয়ার পর ইসলাম ইব্রাহিম যখন দেশটি ছেড়ে পালিয়ে যান, তখন তিনি ভেবেছিলেন যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়টি পেছনে ফেলে এসেছেন।
২০ বছর বয়সী ফার্মেসি বিভাগের এই শিক্ষার্থী মা ও ছয় বোনকে নিয়ে প্রতিবেশী মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে (সিএআর) আশ্রয় নেন। যুদ্ধের কারণে মাঝপথেই থেমে যায় তার ফার্মেসি বিষয়ে পড়াশোনা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইসলাম ইব্রাহিম বর্তমানে করসি শরণার্থী শিবিরে নতুন আসা সুদানি নারী ও কিশোরীদের সহায়তা করেন। যুদ্ধের আগে অর্জিত চিকিৎসাবিষয়ক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দারফুর থেকে দীর্ঘ ও বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়ে আসা ক্লান্ত শরণার্থীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সেবা দিচ্ছেন।
তবে নির্বাসনেও তিনি স্বস্তি পাননি। ইসলাম ইব্রাহিম বলেন, সুদান থেকে পালিয়ে এলেও সেখানে থাকা সামাজিক চাপ যেন তার পিছু ছাড়েনি।
তার চাচারা শরণার্থী শিবিরে এসে পরিবারকে সুদানে ফিরে যেতে বলছেন, যাতে তার মা নিহত স্বামীর সম্পত্তির বণ্টন করতে পারেন। কিন্তু ইসলাম ইব্রাহিম আশঙ্কা করেন, দেশে ফিরলে শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই ফিরতে হবে না, বরং তাকে ও তার বোনদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আত্মীয়দের সঙ্গে বিয়ের চাপও সহ্য করতে হতে পারে।
আল জাজিরাকে ইসলাম ইব্রাহিম বলেন, “আমি শুধু পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্যই সুদানে ফিরতে চাই। বাবার সম্পত্তি ভাগাভাগি করতে দারফুরে ফিরতে চাই না।”
যুদ্ধে থমকে যাওয়া একটি প্রজন্ম
ইসলাম ইব্রাহিমের গল্প করসি শরণার্থী শিবিরের অসংখ্য তরুণ-তরুণীর গল্পের প্রতিচ্ছবি। পুরো একটি প্রজন্ম যুদ্ধের কারণে ভেঙে পড়া ভবিষ্যৎকে আবার গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
কয়েক দিনের ব্যবধানে আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলেছেন ৩০ জনেরও বেশি সুদানি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। তাদের সবার জীবনই যুদ্ধের কারণে থমকে গেছে। পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়েছে, স্বপ্ন ভেঙেছে, আর অনেকেই জানেন না আদৌ কোনো দিন দেশে ফিরতে পারবেন কি না।
তাদের বেশির ভাগের বয়স বিশের কোঠায়। তারা দারফুর সীমান্তবর্তী শহর আমদাফকের বাসিন্দা। সহিংসতা বাড়তে থাকায় শহরটি প্রথমে আশ্রয়স্থল, পরে দেশ ছাড়ার পথ হয়ে ওঠে।
প্রথমদিকে তাদের ধারণা ছিল, বাস্তুচ্যুতি সাময়িক হবে। যুদ্ধ থামলেই দেশে ফিরে ডিগ্রি শেষ করতে পারবেন। কিন্তু সেই আশা এখন দিন দিন আরও ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষায় বেড়ে চলা বৈষম্য
এই শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা সুদানের যুদ্ধ যে শিক্ষাব্যবস্থায় গভীর বৈষম্য সৃষ্টি করেছে, তারই প্রতিফলন।
আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) নিয়ন্ত্রিত দারফুরসহ অন্য এলাকায় স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের লাখো শিক্ষার্থী টানা তিন বছরেরও বেশি সময় নিয়মিত পড়াশোনা এবং জাতীয়ভাবে স্বীকৃত পরীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
অন্যদিকে, সুদানি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বারবার বিঘ্ন ঘটলেও ধীরে ধীরে অনেক শিক্ষার্থী আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে এবং পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ফলে যুদ্ধের দুই পক্ষের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের তরুণদের শিক্ষার সুযোগে বৈষম্য আরও বেড়েছে।
হারিয়ে যাওয়া বছরগুলো
সম্প্রতি মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সীমান্তপারের সেলেকা বিদ্রোহী জোটের যোদ্ধারা আমদাফক দখল করে নেওয়ায় বহু পরিবারের জন্য দেশে ফেরার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সহায়তায় কয়েক ডজন সুদানি শরণার্থী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বহু বছরের বিঘ্নের পর এটি তাদের জন্য আবার শিক্ষাজীবনে ফেরার একটি সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যাওয়াও সহজ নয়।
আরবি মাধ্যমে পড়াশোনা শেষ করা এসব শিক্ষার্থীকে এখন ফরাসি ভাষায় পড়তে হচ্ছে। নতুন ভাষা শিখতে শিখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার সঙ্গে তাল মেলানো তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তাদের ভাষায়, অতিরিক্ত কয়েক বছরের পড়াশোনা, আর্থিক সংকট এবং বাস্তুচ্যুত জীবনের মানসিক চাপ মিলিয়ে মনে হচ্ছে এমন মূল্যবান সময় হারিয়ে যাচ্ছে, যা আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না।
আল জাজিরাকে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই অনেক বছর হারিয়েছি।”
অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী গামার এল-শেখ বলেন, “আমরা বিরাও শরণার্থী শিবির ছেড়ে এসেছিলাম এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ নিয়ে একদিন প্রিয়জনদের কাছে ফিরব। কিন্তু বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও নানা বাধার কারণে সেই প্রতিশ্রুতি রাখা প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছে।”
আরেক শিক্ষার্থী বাদেরেলদ্দিয়ান ইসা জানান, তার বাবা ছিলেন আমদাফকের একজন ইমাম। মসজিদের খুতবায় আরএসএফের সমালোচনা করায় তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
এর ফলে পরিবারটি সুদান ছেড়ে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। সেখানে বসে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু দেশে ফেরার আশা দিন দিন ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
কঠিন সিদ্ধান্ত
কিছু শিক্ষার্থীর জন্য বাস্তুচ্যুতি আরও বেদনাদায়ক সিদ্ধান্ত বয়ে এনেছে।
এল-সাদিগ যুদ্ধে স্বামীকে হারান ইন্তিসার। পরে ছোট সন্তানকে নিয়ে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে আশ্রয় নেন।
ইউএনএইচসিআর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দিলে তিনি কঠিন এক সিদ্ধান্ত নেন। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য রাজধানীতে চলে যান, আর তিন বছরের ছেলেকে করসি শরণার্থী শিবিরে তার মায়ের কাছে রেখে আসেন।
সুযোগ পেলেই তিনি ছেলের কাছে ফিরে যান। কিন্তু প্রতিবারের বিচ্ছেদ তার জন্য অত্যন্ত কষ্টের।
ইন্তিসার বলেন, “আমি পড়াশোনা করছি, কারণ এই যুদ্ধ আমাদের সবকিছু কেড়ে নিক, তা আমি চাই না। এখন যদি থেমে যাই, তাহলে শুধু বাড়িঘর আর স্বামীকেই নয়, আমাদের ভবিষ্যৎকেও হারাব।”
স্বপ্ন এখন শুধু বেঁচে থাকা
আহমেদের জীবনও যুদ্ধের কারণে ওলটপালট হয়ে গেছে।
যুদ্ধের আগে তিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা করতেন এবং বিচারক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।
এল-ফাশেরে যুদ্ধ চলাকালে তার বাবা নিহত হন। তিনি সুদানি সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা ছিলেন। পরে পরিবারটি নিরাপদ আশায় নিয়ালায় চলে গেলেও আহমেদের অভিযোগ, সেখানে আরএসএফের যোদ্ধারা তাদের ওপর হামলা চালায়। ওই হামলায় তার মায়ের হাত ভেঙে যায়।
শেষ পর্যন্ত পরিবারটি মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে আশ্রয় নেয়।
নির্বাসনে এসে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। বিচারক হওয়ার স্বপ্ন এখন সঙ্কুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে কেবল বেঁচে থাকার লড়াইয়ে।
আশা এখনো বেঁচে আছে
করসি শরণার্থী শিবিরজুড়ে এই হারানোর অনুভূতি নানা রূপে ছড়িয়ে আছে।
যারা একসময় ফার্মাসিস্ট, বিচারক, প্রকৌশলী, শিক্ষক বা গবেষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তারা এখন নির্বাসিত জীবনে নতুন ভাষা শিখে অপরিচিত শিক্ষাব্যবস্থায় নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে সুদানে আটকে থাকা স্বজনদের নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
ইসলাম ইব্রাহিমের মতো অনেকের জন্য বাস্তুচ্যুতি উত্তরাধিকার ও বিয়ের নতুন সামাজিক চাপও তৈরি করেছে। অন্যদের কাছে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো পড়াশোনার সেই হারিয়ে যাওয়া বছরগুলো, যা হয়তো আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না।
ইসলাম ইব্রাহিম এখনো শরণার্থী শিবিরে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন। গামার, বাদেরেলদ্দিয়ান ও ইন্তিসার অসংখ্য বাধা সত্ত্বেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর আহমেদ এখনো বিচারক হওয়ার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে আছেন।
এই তরুণ সুদানিদের কাছে শিক্ষা এখন শুধু ভবিষ্যৎ গড়ার পথ নয়; এটি আশ্রয়, প্রতিরোধ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়ার শেষ অবলম্বন।
চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে আহমেদ আল জাজিরাকে বলেন, “আমরাই সুদানের হারিয়ে যাওয়া প্রজন্ম। এই যুদ্ধে আমরা সবকিছু হারিয়েছি।”

সুদানের এল-ফাশের অবরোধে বাবা নিহত হওয়ার পর ইসলাম ইব্রাহিম যখন দেশটি ছেড়ে পালিয়ে যান, তখন তিনি ভেবেছিলেন যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়টি পেছনে ফেলে এসেছেন।
২০ বছর বয়সী ফার্মেসি বিভাগের এই শিক্ষার্থী মা ও ছয় বোনকে নিয়ে প্রতিবেশী মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে (সিএআর) আশ্রয় নেন। যুদ্ধের কারণে মাঝপথেই থেমে যায় তার ফার্মেসি বিষয়ে পড়াশোনা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইসলাম ইব্রাহিম বর্তমানে করসি শরণার্থী শিবিরে নতুন আসা সুদানি নারী ও কিশোরীদের সহায়তা করেন। যুদ্ধের আগে অর্জিত চিকিৎসাবিষয়ক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দারফুর থেকে দীর্ঘ ও বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়ে আসা ক্লান্ত শরণার্থীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সেবা দিচ্ছেন।
তবে নির্বাসনেও তিনি স্বস্তি পাননি। ইসলাম ইব্রাহিম বলেন, সুদান থেকে পালিয়ে এলেও সেখানে থাকা সামাজিক চাপ যেন তার পিছু ছাড়েনি।
তার চাচারা শরণার্থী শিবিরে এসে পরিবারকে সুদানে ফিরে যেতে বলছেন, যাতে তার মা নিহত স্বামীর সম্পত্তির বণ্টন করতে পারেন। কিন্তু ইসলাম ইব্রাহিম আশঙ্কা করেন, দেশে ফিরলে শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই ফিরতে হবে না, বরং তাকে ও তার বোনদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আত্মীয়দের সঙ্গে বিয়ের চাপও সহ্য করতে হতে পারে।
আল জাজিরাকে ইসলাম ইব্রাহিম বলেন, “আমি শুধু পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্যই সুদানে ফিরতে চাই। বাবার সম্পত্তি ভাগাভাগি করতে দারফুরে ফিরতে চাই না।”
যুদ্ধে থমকে যাওয়া একটি প্রজন্ম
ইসলাম ইব্রাহিমের গল্প করসি শরণার্থী শিবিরের অসংখ্য তরুণ-তরুণীর গল্পের প্রতিচ্ছবি। পুরো একটি প্রজন্ম যুদ্ধের কারণে ভেঙে পড়া ভবিষ্যৎকে আবার গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
কয়েক দিনের ব্যবধানে আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলেছেন ৩০ জনেরও বেশি সুদানি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। তাদের সবার জীবনই যুদ্ধের কারণে থমকে গেছে। পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়েছে, স্বপ্ন ভেঙেছে, আর অনেকেই জানেন না আদৌ কোনো দিন দেশে ফিরতে পারবেন কি না।
তাদের বেশির ভাগের বয়স বিশের কোঠায়। তারা দারফুর সীমান্তবর্তী শহর আমদাফকের বাসিন্দা। সহিংসতা বাড়তে থাকায় শহরটি প্রথমে আশ্রয়স্থল, পরে দেশ ছাড়ার পথ হয়ে ওঠে।
প্রথমদিকে তাদের ধারণা ছিল, বাস্তুচ্যুতি সাময়িক হবে। যুদ্ধ থামলেই দেশে ফিরে ডিগ্রি শেষ করতে পারবেন। কিন্তু সেই আশা এখন দিন দিন আরও ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষায় বেড়ে চলা বৈষম্য
এই শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা সুদানের যুদ্ধ যে শিক্ষাব্যবস্থায় গভীর বৈষম্য সৃষ্টি করেছে, তারই প্রতিফলন।
আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) নিয়ন্ত্রিত দারফুরসহ অন্য এলাকায় স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের লাখো শিক্ষার্থী টানা তিন বছরেরও বেশি সময় নিয়মিত পড়াশোনা এবং জাতীয়ভাবে স্বীকৃত পরীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
অন্যদিকে, সুদানি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বারবার বিঘ্ন ঘটলেও ধীরে ধীরে অনেক শিক্ষার্থী আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে এবং পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ফলে যুদ্ধের দুই পক্ষের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের তরুণদের শিক্ষার সুযোগে বৈষম্য আরও বেড়েছে।
হারিয়ে যাওয়া বছরগুলো
সম্প্রতি মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সীমান্তপারের সেলেকা বিদ্রোহী জোটের যোদ্ধারা আমদাফক দখল করে নেওয়ায় বহু পরিবারের জন্য দেশে ফেরার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সহায়তায় কয়েক ডজন সুদানি শরণার্থী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বহু বছরের বিঘ্নের পর এটি তাদের জন্য আবার শিক্ষাজীবনে ফেরার একটি সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যাওয়াও সহজ নয়।
আরবি মাধ্যমে পড়াশোনা শেষ করা এসব শিক্ষার্থীকে এখন ফরাসি ভাষায় পড়তে হচ্ছে। নতুন ভাষা শিখতে শিখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার সঙ্গে তাল মেলানো তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তাদের ভাষায়, অতিরিক্ত কয়েক বছরের পড়াশোনা, আর্থিক সংকট এবং বাস্তুচ্যুত জীবনের মানসিক চাপ মিলিয়ে মনে হচ্ছে এমন মূল্যবান সময় হারিয়ে যাচ্ছে, যা আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না।
আল জাজিরাকে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই অনেক বছর হারিয়েছি।”
অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী গামার এল-শেখ বলেন, “আমরা বিরাও শরণার্থী শিবির ছেড়ে এসেছিলাম এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ নিয়ে একদিন প্রিয়জনদের কাছে ফিরব। কিন্তু বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও নানা বাধার কারণে সেই প্রতিশ্রুতি রাখা প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছে।”
আরেক শিক্ষার্থী বাদেরেলদ্দিয়ান ইসা জানান, তার বাবা ছিলেন আমদাফকের একজন ইমাম। মসজিদের খুতবায় আরএসএফের সমালোচনা করায় তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
এর ফলে পরিবারটি সুদান ছেড়ে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। সেখানে বসে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু দেশে ফেরার আশা দিন দিন ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
কঠিন সিদ্ধান্ত
কিছু শিক্ষার্থীর জন্য বাস্তুচ্যুতি আরও বেদনাদায়ক সিদ্ধান্ত বয়ে এনেছে।
এল-সাদিগ যুদ্ধে স্বামীকে হারান ইন্তিসার। পরে ছোট সন্তানকে নিয়ে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে আশ্রয় নেন।
ইউএনএইচসিআর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দিলে তিনি কঠিন এক সিদ্ধান্ত নেন। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য রাজধানীতে চলে যান, আর তিন বছরের ছেলেকে করসি শরণার্থী শিবিরে তার মায়ের কাছে রেখে আসেন।
সুযোগ পেলেই তিনি ছেলের কাছে ফিরে যান। কিন্তু প্রতিবারের বিচ্ছেদ তার জন্য অত্যন্ত কষ্টের।
ইন্তিসার বলেন, “আমি পড়াশোনা করছি, কারণ এই যুদ্ধ আমাদের সবকিছু কেড়ে নিক, তা আমি চাই না। এখন যদি থেমে যাই, তাহলে শুধু বাড়িঘর আর স্বামীকেই নয়, আমাদের ভবিষ্যৎকেও হারাব।”
স্বপ্ন এখন শুধু বেঁচে থাকা
আহমেদের জীবনও যুদ্ধের কারণে ওলটপালট হয়ে গেছে।
যুদ্ধের আগে তিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা করতেন এবং বিচারক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।
এল-ফাশেরে যুদ্ধ চলাকালে তার বাবা নিহত হন। তিনি সুদানি সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা ছিলেন। পরে পরিবারটি নিরাপদ আশায় নিয়ালায় চলে গেলেও আহমেদের অভিযোগ, সেখানে আরএসএফের যোদ্ধারা তাদের ওপর হামলা চালায়। ওই হামলায় তার মায়ের হাত ভেঙে যায়।
শেষ পর্যন্ত পরিবারটি মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে আশ্রয় নেয়।
নির্বাসনে এসে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে। বিচারক হওয়ার স্বপ্ন এখন সঙ্কুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে কেবল বেঁচে থাকার লড়াইয়ে।
আশা এখনো বেঁচে আছে
করসি শরণার্থী শিবিরজুড়ে এই হারানোর অনুভূতি নানা রূপে ছড়িয়ে আছে।
যারা একসময় ফার্মাসিস্ট, বিচারক, প্রকৌশলী, শিক্ষক বা গবেষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তারা এখন নির্বাসিত জীবনে নতুন ভাষা শিখে অপরিচিত শিক্ষাব্যবস্থায় নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে সুদানে আটকে থাকা স্বজনদের নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
ইসলাম ইব্রাহিমের মতো অনেকের জন্য বাস্তুচ্যুতি উত্তরাধিকার ও বিয়ের নতুন সামাজিক চাপও তৈরি করেছে। অন্যদের কাছে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো পড়াশোনার সেই হারিয়ে যাওয়া বছরগুলো, যা হয়তো আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না।
ইসলাম ইব্রাহিম এখনো শরণার্থী শিবিরে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন। গামার, বাদেরেলদ্দিয়ান ও ইন্তিসার অসংখ্য বাধা সত্ত্বেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর আহমেদ এখনো বিচারক হওয়ার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে আছেন।
এই তরুণ সুদানিদের কাছে শিক্ষা এখন শুধু ভবিষ্যৎ গড়ার পথ নয়; এটি আশ্রয়, প্রতিরোধ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়ার শেষ অবলম্বন।
চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে আহমেদ আল জাজিরাকে বলেন, “আমরাই সুদানের হারিয়ে যাওয়া প্রজন্ম। এই যুদ্ধে আমরা সবকিছু হারিয়েছি।”

সরকার প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে সভরেন বা সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর চিন্তা করছে। অবশ্য এটি প্রথমবার নয়। এর আগেও একবার এমন চিন্তা হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। কিন্তু এবার বেশ জোরেশোরেই এ চিন্তা করা হচ্ছে। মূলত অভ্যন্তরীণ ঋণ কমানোর লক্ষ্যেই এ চিন্তা করছে সরকার। কিন্তু অর্থনীতিকে সঠিক

এই অদ্ভুত চুপচাপ, নির্বিকার স্বভাবের কারণে ওলিস একটা নাম পেয়েছেন। তা হল - ‘মিস্টার ননশ্যালান্ট’ বা শান্ত, নির্বিকার স্বভাবের একজন মানুষ। তবে ফুটবল পায়ে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষ। লন্ডনে জন্ম নেওয়া এই ফরাসি প্লেমেকারকে দূর থেকে যতোটা নির্লিপ্ত মনে হয়, বাস্তবে তিনি এর ঠিক উল্টোটাই।