নরেন্দ্র মোদি ১৯৮০-এর দশকে একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর আরএসএস-এর রাজনৈতিক শাখায় নিযুক্ত হয়েছিলেন। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তিনি সংগঠনটিকে একটি বিশাল নদীর সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখান থেকে অসংখ্য শাখা-প্রশাখা বেরিয়ে ভারতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতীয় সমাজ যখন অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ রক্ষায় ভূমিকা রাখার জন্য তিনি সংগঠনটির প্রশংসা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “সেবা, নিষ্ঠা, সংগঠন ও শৃঙ্খলাই এর বৈশিষ্ট্য।”
বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, আরএসএস একটি সামাজিক সেবা সংগঠন। সংগঠনের নীতিমালা গড়ে উঠেছে পাড়া-মহল্লাভিত্তিক গোষ্ঠীর ওপর, যেখানে শরীরচর্চা ও আধ্যাত্মিক অনুশীলনের মাধ্যমে সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এভাবেই আরএসএস-এর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং এখান থেকেই সংগঠনটি জীবনের সব ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করা শুরু করে।
মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নিজেদের বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বলে দাবি করে এবং যার সদস্যসংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি। এই গোষ্ঠীর অসংখ্য শাখার মধ্যে রয়েছে ছাত্র সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন, কৃষক ইউনিয়ন, পেশাজীবী নেটওয়ার্ক, ধর্মীয় সংগঠন এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এসব সহযোগী সংগঠন নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক করে এবং আরএসএস-এর হিন্দু এজেন্ডাকে বাস্তবায়ন করতে রাজনৈতিক শক্তি সঞ্চয় করে। নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি এভাবে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে বলে মনে করে তারা।
দুর্গা নন্দ ঝা একজন শিক্ষাবিদ এবং দীর্ঘদিন ধরে আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত একটি থিংক ট্যাঙ্কের নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, “আমাদের হাতে ক্ষমতা থাকলে সবকিছু নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে।” তবে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশের ওপর বিপুল প্রভাব রাখা এই সংগঠনটির মধ্যে স্বচ্ছতা বা জবাবদিহি খুব একটা নেই। তারা বিস্তারিত নথি সংরক্ষণ করে না। তাদের বিপুল সম্পদ ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ছোট ছোট স্বতন্ত্র সংগঠন ও ট্রাস্টের মধ্যে।
আরএসএস-এর মুম্বাই অঞ্চলের নেতা ড. নিশিথ ভাণ্ডারকার বলেন, “আরএসএস-এর মালিকানায় আসলে কিছুই নেই, আমাদের আছে শুধু মানুষ।” সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরএসএস-এর নেতারা প্রকাশ্যে এমন একটি অবস্থান নিয়েছেন, যেখানে দেশের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ শাসনের একটি তুলনামূলকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ধারণা তুলে ধরা হয়। কিন্তু মাঠের রাজনীতিতে এই সূক্ষ্ম অবস্থান প্রায়ই হারিয়ে যায়। নতুন প্রজন্মের কিছু চরম ডানপন্থী নেতা প্রচারের আলোয় আসার জন্য প্রতিযোগিতা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বক্তব্যে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলে।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে প্রায়ই নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ছবি: রয়টার্স
আরএসএস-এর সদস্য হিসেবে গর্বের সঙ্গে পরিচয় দেওয়া উগ্রবাদীরা ধর্মীয় ভিত্তিতে জনজীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে মুসলিম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক বয়কট কার্যকর করে। তারা হিন্দু উৎসবগুলোকে শক্তি প্রদর্শনের প্রকাশ্য মঞ্চে পরিণত করেছে। জোর করে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরের অভিযোগ তুলে তারা গির্জা ভাঙচুর করেছে, বড়দিনের উৎসবে তাণ্ডব চালিয়েছে এবং মুসলিমদের কবর খুঁড়ে লাশ বের করেছে। আন্তঃধর্মীয় সম্পর্কের সন্দেহে তারা ট্রেন থেকে অনেক প্রেমিকযুগলকে টেনে নামিয়েছে। এছাড়া গরুর মাংস বহনের অভিযোগে বহু মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করেছে তারা।
এই সংগঠনের ধারণাগুলো ভারতের সর্বত্র গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়ছে- ইতিহাসের পাঠ্যবইয়ের পাতা থেকে শুরু করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, টেলিভিশন বিতর্ক, এমনকি দেশের আদালত পর্যন্ত, অথচ এগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার রক্ষক হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে।
গত ডিসেম্বর মাসে আরএসএস-এর সবচেয়ে কট্টর সহযোগী সংগঠনগুলোর একটি এলাহাবাদ হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে একটি সেমিনার আয়োজন করে। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিচারপতি শেখর কুমার যাদব মুসলিমদের কথা বলতে গিয়ে একটি অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেন এবং তাদের সম্পর্কে তিনি যা ভুল মনে করেন তার তালিকা তুলে ধরেন। ওই বিচারপতি বলেন, “হিন্দু সমাজ তার দুর্বলতাগুলো সংশোধন করে নিয়েছে। আমি বলতে কোনো দ্বিধা বোধ করি না যে ভারত সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছা অনুযায়ীই পরিচালিত হবে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে আরএসএস-এর বহুদিনের আকাঙ্ক্ষা অবশেষে বাস্তব রূপ পায়। এর আগে অবশ্য আরএসএস একবার রাজনৈতিক ক্ষমতায় এসেছিল। নব্বইয়ের দশকে বিজেপি থেকে অটল বিহারি বাজপেয়ি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তবে সেই সময়ে তাদের প্রভাব সীমিত ছিল। বাজপেয়ি বাস্তববাদী চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং তার রাজনৈতিক জোটে বিভিন্ন মতাদর্শের দল অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আরএসএস-এর ব্যাখ্যানুযায়ী সাংস্কৃতিকভাবে ভারতের সবাইকে তারা হিন্দু হিসেবে গণ্য করেন। প্রতীকী ছবি: এআই দিয়ে তৈরিমোদি শক্তিশালী হিন্দু নেতাদের চরিত্রের সঙ্গে আধুনিক রাষ্ট্রনায়কের সংমিশ্রণে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি গড়ে তোলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার শাসনামলে অযোধ্যায় দেবতা রামের নামে একটি জাঁকজমকপূর্ণ মন্দির নির্মিত হয়। তার সরকার আরএসএস-এর আরেকটি বহুদিনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করে। সেটি হলো, ভারতের একমাত্র মুসলিম-অধ্যুষিত রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরের আধা-স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে সেটিকে সরাসরি নয়াদিল্লির নিয়ন্ত্রণে আনা। ক্ষমতাসীন বিজেপি ধর্মীয় মেরুকরণকেও স্বাভাবিকীকরণ করে তুলছে এবং দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
গত এক দশকে দেশজুড়ে আরএসএস-এর সামাজিক উপস্থিতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। সংগঠনটির নেতারা নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতার সঙ্গে স্বাধীনতা ও বিলাসিতা ভোগ করছেন। তারা নয়াদিল্লিতে ৩.৭ একর জমির ওপর একটি ক্যাম্পাস খুলেছেন। যেখানে তিনটি ১৩-তলা টাওয়ার আছে। মোহন ভগবত প্রায় মোদির সমান নিরাপত্তা বহর নিয়ে চলাফেরা করেন।
সবকিছু অবশ্য এত মসৃণ ছিল না। কিছু আরএসএস নেতা মনে করেন, মোদি এতটাই ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছেন যে তিনি সংগঠনের সংস্কৃতিকে গ্রাহ্য করছেন না। শিক্ষা ও সংস্কৃতির মতো ক্ষেত্রগুলোতে, যা আরএসএস-এর প্রধান মনোযোগের জায়গা–সেখানে মোদি সবকিছু নিজের পছন্দানুযায়ী সব করছেন। মোদির এই প্রবণতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ভগবতকে সূক্ষ্ম কৌশল অবলম্বন করতে হচ্ছে।
ভগবত অবশ্য মূল সংগঠন ও তার রাজনৈতিক শাখার মধ্যে দ্বন্দ্বের খবর নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সংঘর্ষ থাকলেও ঝগড়া নেই।” আরএসএস-এর বিশাল নেটওয়ার্কের কাছে মোদির প্রতীকী গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি যেহেতু তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন, তাই বিষয়গুলো তিনি আরও ভালো বোঝেন।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে আরএসএস-এর বহুদিনের আকাঙ্ক্ষা অবশেষে বাস্তব রূপ পায়। রয়টার্সের ছবিতে আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত ও মোদিঅক্টোবরে আরএসএস-এর শতবর্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে তারা তাদের অতীতের কোনো দুষ্কর্ম সামনে আনেনি। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সম্প্রচারে দেখা যায়, প্রভাবশালী রাজনীতিকরা তাদের ঐতিহ্যবাহী ইউনিফর্মে আরএসএস-এর প্রথাগত স্যালুটে অংশগ্রহণ করেন। বলিউড তারকা থেকে শুরু করে দালাই লামা পর্যন্ত অসংখ্য বিশিষ্ট ব্যক্তি শুভেচ্ছা জানান। আরএসএস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল নাগপুরে এবং প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তরও সেখানেই। মোহন ভগবত প্রায় ১০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ইউনিফর্মধারী স্বেচ্ছাসেবকদের ড্রিল, গান ও যোগাভ্যাস দেখেন। অভ্যাগত দর্শকদের মধ্যে ডজনখানেক বিদেশি কূটনীতিকও ছিলেন।
প্রধান অতিথি বক্তৃতায় ভগবত তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আরএসএস-কে প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি রাস্তায় বিস্তৃত হতে হবে। তবে তার বক্তৃতায় কিছু দ্ব্যর্থক কথাবার্তা ছিল। তিনি এমন কিছু কথা বলেন যা আরএসএস-এর অনেক কার্যক্রমের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি ভারতের কঠোর বর্ণব্যবস্থার প্রভাব কমিয়ে একটি শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার চেষ্টার কথা বলেন। তিনি আরএসএস-এর সহিংসতার সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, আরএসএস মসজিদ ভেঙে মন্দির নির্মাণ সমর্থন করে না (অযোধ্যারটি ছাড়া)।
আরএসএস-এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো একটি ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা করা। তবে ভগবত বলেন, এই শব্দটির ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ‘হিন্দু রাষ্ট্র’র প্রকৃত অর্থ হলো হিন্দু জাতির সংহতি। তাদের ব্যাখ্যানুযায়ী সাংস্কৃতিকভাবে ভারতের সবাইকে তারা হিন্দু হিসেবে গণ্য করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বক্তৃতাগুলোতে ভগবত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বোঝাতে ‘অন্যান্য সম্প্রদায়’ শব্দ ব্যবহার করেন। তিনি হিন্দু দম্পতিদের তিনটি সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দেন, কারণ হিন্দুদের জন্মহার ‘অন্যান্য সম্প্রদায়’-এর তুলনায় দ্রুত কমছে।
নাগপুরে শতবর্ষ উদ্যাপনের বক্তৃতায় ভগবত অন্যান্য ধর্মের অনুসরণকারী ও তাদের উপাসনালয়গুলোর প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সম্মানজনক আচরণের আহ্বান জানান। তিনি উচ্ছৃঙ্খলতা ও সহিংসতার উসকানি দিতে নিরুৎসাহিত করেন। তবে তার বক্তৃতায় একটু ফাঁক রেখে দেন, যা তিনি প্রায়ই করেন। তিনি বলেন, “তবে সমাজের ভালো মানুষ ও তরুণ প্রজন্মকেও সজাগ ও সংগঠিত থাকতে হবে, প্রয়োজনে তাদের হস্তক্ষেপও করতে হবে।”
এই ধরনের দ্ব্যর্থবোধক কথাবার্তা বাস্তবে কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে হলে ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশের দিকে দৃষ্টি ফেরাতে হবে, যেখানে জনসংখ্যা ২০ কোটিরও বেশি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, যিনি বিজেপির সমর্থক, তাকে প্রায়ই নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
নিউইয়র্ক টাইমসআদিত্যনাথ নিয়মিতভাবে প্রধান প্রধান হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং হিন্দু তীর্থযাত্রীদের শোভাযাত্রার ওপর হেলিকপ্টার থেকে পুষ্প বর্ষণ করেন। কিন্তু রাজ্যের পুলিশ যখন মুসলমানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ওপর দমননীতি চালায়, তখন তিনি মৌন থাকেন। তিনি এই বলে যুক্তি দেন, ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র এবং মুসলমানদের তাদের ধর্মীয় চর্চা ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।
যখন আরএসএস-এর শতবর্ষের অনুষ্ঠান উদযাপিত হচ্ছিল, তখন উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশ কয়েক দিন ধরে অশান্ত ছিল এবং এজন্য সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিল। মুসলমানদের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)- এর জন্মদিনে “I ❤️ Muhammad” লেখা একটি বড় সাইনবোর্ড প্রদর্শন করায় এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মুসলমানরা রাস্তায় নেমে আসলে সরকার আরও পুলিশ মোতায়েন করে। তারা লাঠিচার্জ করে সমাবেশ ভেঙে দেয়, কয়েক ডজন মানুষকে গ্রেপ্তার করে এবং এক হাজারেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে।
আদিত্যনাথ এই বিক্ষোভের প্রথম সারির নেতাদের বাড়িঘর ভাঙতে বুলডোজার ব্যবহারের নির্দেশ দেন। যার ফলে তিনি ‘বুলডোজার বাবা’ নামে পরিচিতি পান। তার এই দমননীতির সমর্থনে ধর্মীয় আবেগে উদ্বুদ্ধ হয়ে যখন বিপুলসংখ্যক হিন্দু সমর্থক রাস্তায় নামে, তখন পুলিশ নীরব ছিল। তারা যে সাইনবোর্ড বহন করছিল, সেখানে লেখা ছিল “I ❤️ মহাদেব”, “I ❤️ Yogi” এবং “I ❤️ Bulldozer।”
ভারতে প্রতিক্রিয়া
কয়েকটি ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী বা সংঘবাদী সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধটিকে অবিশ্বস্ত, পক্ষপাতদুষ্ট বা ভুলভাবে ফ্রেম করা হিসেবে উল্লেখ করছে। তারা বলছে যে আর্টিকেলে আরএসএসকে ‘ছায়া সংগঠন’, ‘কট্টর দক্ষিণপন্থী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা বাস্তবে ভুল বা অতিরঞ্জিত। এরা দাবি করে যে, আরএসএস কোনো গোপন সংগঠন নয় বরং স্বচ্ছ সাংগঠনিক সামাজিক কাজ করে এমন একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। নিউইয়র্ক টাইমসের ভাষা ‘পশ্চিমা-উগ্র-উদারবাদী আখ্যান’ থেকে উদ্ভূত।
নরেন্দ্র মোদি সরকার এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। অথচ এই নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা যখন দিল্লির একটি বামপন্থী অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজ ক্লিক চীনের কাছ থেকে অর্থ পায় বলে খবর প্রকাশ তরে তখন মোদির রাষ্ট্রীয় বাহিনী ওই পোর্টালের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নিউজ ক্লিকের প্রধান সম্পাদক প্রবীর পুরকায়স্থ দীর্ঘ দিন কারাগারে বন্দী ছিলেন। পরে সব অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় প্রবীর বেকসুর খালাস পান।
অথচ মোদি সরকার ও বিজেপির কাছে ওই সময় প্রমাণ ছাড়াই নিউইয়র্ক টাইমসের খবর সত্য বলে মনে হয়েছিল। এখন তারাই অখুশি। তাদের অভিযোগ, মোদি ও আরএসএসের বদনাম করতেই এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজেপির সমালোচকেরা বলছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমেরিকা সফরে গেলে নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম পাতায় এক কলামও খবর ছাপা হয় না। অথচ প্রথম পৃষ্ঠায় এতটা জায়গা দিয়ে চার হাজার শব্দের দুটি প্রতিবেদন ছাপা তারাই প্রকাশ করেছে। ফলে এর অন্যরকম গুরুত্ব আছে। এই প্রতিবেদনের ব্যাপারে লেখক ও রাজনীতিবিদ সঞ্জয় ঝা সাংবাদিক দীপক শর্মার সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারতের প্রজাতন্ত্র এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। গণতন্ত্র থেকে ধর্মতন্ত্রের দিকে চলেছে ভারত। দেশ আসলে ভুল রাস্তায় চলেছে। (শেষ)