Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

মেক্সিকোর ফুটবলে মিশে আছে খনি শ্রমিকের ঘাম

ডা. আবু হেনা মোস্তফা বেলাল

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ২৩: ২৫
মেক্সিকোর ফুটবলে মিশে আছে খনি শ্রমিকের ঘাম

মেক্সিকোর পাহাড়ি শহর পাচুকার আকাশে আজও কখনো কখনো কর্নওয়ালের বাতাস ভেসে আসে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

অবশ্য ভূগোলের বই খুলে দেখলে এমন কথা মানা কঠিন। ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমের এক প্রান্তিক উপদ্বীপ আর মেক্সিকোর মধ্যভাগের এক খনি শহরের মধ্যে হাজার হাজার মাইল সমুদ্রের দূরত্ব। কিন্তু মানুষের ইতিহাসে দূরত্ব বলে কিছু নেই। মানুষ যেখানে যায়, তার সঙ্গে ভেসে যায় ভাষা, স্মৃতি, খাবার, গান—এমনকি ফুটবলও।

পাচুকার স্টেডিয়ামে যখন সমর্থকেরা বিশাল এক পতাকা মেলে ধরে, সেখানে দেখা যায় এক খনি শ্রমিককে। তার এক হাতে খনির গাঁইতি, অন্য হাতে এক অদ্ভুত আকৃতির পেস্ট্রি। পাশে কালো পতাকায় সাদা ক্রস। যারা কর্নওয়ালকে চেনে, তারা মুহূর্তেই বুঝতে পারে—এ মানুষটি কর্নিশ।

মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসের শিকড়ে যে কিছু ইংরেজ খনি শ্রমিকের ঘাম মিশে আছে, সেই স্মৃতির প্রতিই এই শ্রদ্ধা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

গল্পটির শুরু ১৮২৪ সালে।

মেক্সিকো তখন সদ্য স্বাধীন। দীর্ঘ যুদ্ধ দেশের অর্থনীতিকে বিধ্বস্ত করেছে। বিশেষ করে রূপার খনিগুলো প্রায় মৃত। ঠিক সেই সময় কর্নওয়ালের এক খনি প্রকৌশলী, জন টেলর, দূর দেশ মেক্সিকোর রেয়াল দেল মন্তের খনিগুলোর দিকে তাকিয়ে ভাবলেন—যা কর্নওয়ালে পেরেছি, এখানেও পারব।

তার সেই সিদ্ধান্তের ফলেই শুরু হলো মানুষের এক অদ্ভুত যাতায়াত। কর্নওয়াল থেকে মানুষ এল মেক্সিকোতে, আবার ফিরে গেল ইংল্যান্ডে। সঙ্গে আনল নিজেদের ভাষা, খাবার, ধর্ম, অভ্যাস এবং খেলাধুলা।

মেক্সিকান পাস্তে। ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকান পাস্তে। ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল তখনও পুরোপুরি জন্মায়নি।

প্রথমে এসেছিল ক্রিকেট।

১৮৫০-এর দশকে কর্নিশ ব্যবসায়ী ফ্র্যাঙ্ক রুল পাচুকায় একটি ক্রিকেট দল গড়লেন। তখন ইংল্যান্ডেই ফুটবলের নিয়মকানুন পুরোপুরি স্থির হয়নি। ক্রিকেট মাঠের সেই খেলোয়াড়দের অনেকেই পরে ফুটবল খেলতে শুরু করল। যেন এক খেলার ভেতর থেকেই জন্ম নিল আরেক খেলা।

১৮৯২ সালে স্থানীয় একটি সংবাদপত্রে প্রথম ফুটবল দলের উল্লেখ পাওয়া যায়। মজার বিষয়, সেই সংবাদটি ছিল দল ভাঙনের খবর। পাচুকা আর রেয়াল দেল মন্তের খেলোয়াড়দের মধ্যে মতবিরোধ।

কর্নিশদের ইতিহাসে বিভাজন নতুন কিছু নয়। সমুদ্র পাড়ি দিয়েও তারা সেই স্বভাব বদলাতে পারেনি।

শেষ পর্যন্ত সবাই বুঝল, আলাদা থাকলে চলবে না।

১৮৯৫ সালে ফ্র্যাঙ্ক রুলের উদ্যোগে কয়েকটি ক্লাব একত্রিত হয়ে গঠন করল নতুন সংগঠন—পাচুকা অ্যাথলেটিক ক্লাব। সেখান থেকেই শুরু।

কেউ তখন ভাবতেও পারেনি যে, এই ছোট্ট ক্লাব একদিন মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসের জন্মকাহিনীর অংশ হয়ে যাবে।

বিশ শতকের শুরুতে মেক্সিকোতে ফুটবলের আরও কয়েকটি কেন্দ্র গড়ে উঠল। ভেরাক্রুজের ওরিসাবা, মেক্সিকো সিটি এবং অন্য কয়েকটি শহরের দল মিলে গঠন করল দেশের প্রথম লিগ। মেক্সিকোর ফুটবল তখন শিশু।

কিন্তু শিশুরা যেমন দ্রুত বড় হয়, তেমনি ফুটবলও বাড়তে লাগল। খনির শ্রমিকেরা মাঠে খেলত, আর তাদের স্ত্রী ও কন্যারা মাঠের ধারে দাঁড়িয়ে উৎসাহ দিত। কর্নিশ মহিলাদের কথা আলাদা করে মনে রাখা উচিত। কারণ তারা শুধু দর্শক ছিলেন না; তারা সঙ্গে এনেছিলেন কর্নওয়ালের বিখ্যাত প্যাস্টি।

খনিশ্রমিকদের জন্য বানানো সেই খাবারের পুরু প্রান্ত ছিল হাতলস্বরূপ। ধুলো-ময়লা লেগে থাকা হাত দিয়ে সেটুকু ধরে খাওয়া যেত। প্রয়োজন হলে খনির গভীরেও নামিয়ে দেওয়া যেত।

আজ মেক্সিকোতে সেই প্যাস্টির নাম বদলে হয়েছে ‘পাস্তে।’

কিন্তু নাম বদলালেও ইতিহাস বদলায় না।

পাচুকার রাস্তায় আজও পাস্তের দোকান দেখা যায়। রেয়াল দেল মন্তেতে এখনও কর্নিশ পতাকা উড়ে। এমনকি প্রতি বছর সেখানে আন্তর্জাতিক পাস্তে উৎসবও হয়।

ইতিহাস কখনও কখনও অদ্ভুত রকমের জেদি। সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আসা স্মৃতিগুলোকে সে সহজে মরতে দেয় না।

মেক্সিকো হতে পারে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিজয়ীmexico (1)

১৯০৮ সালে পাচুকা দলে প্রথম মেক্সিকান খেলোয়াড়ের আগমন ঘটে। ধীরে ধীরে ফুটবল কেবল প্রবাসী ইংরেজদের খেলা রইল না; হয়ে উঠল মেক্সিকানদেরও খেলা।

তারপর বিপ্লব এল।

মেক্সিকান বিপ্লবের অভিঘাতে বহু পরিবার শহর ছেড়ে চলে গেল। পাচুকার প্রথম যুগের ক্লাবটি হারিয়ে গেল ইতিহাসের কুয়াশায়।

কিন্তু ফুটবল কখনও পুরোপুরি মরে না। যেমন নদী শুকিয়ে গেলেও তার পুরোনো খাত রয়ে যায়।

১৯৫০ সালে ক্লাবটি নতুনভাবে ফিরে এল। আবার হারাল। আবার ফিরে এল। আজ সেই ক্লাব সাতবারের মেক্সিকান চ্যাম্পিয়ন। দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল প্রতিযোগিতাও জিতেছে। অথচ তাদের পরিচয়ের কেন্দ্রে এখনও রয়েছে এক খনি শ্রমিক, একটি গাঁইতি আর এক টুকরো পাস্তে।

পাচুকার মানুষ নিজেদের বলে ‘লস তুসোস’ - গর্ত খুঁড়ে বসবাসকারী প্রাণীর নাম থেকে নেওয়া এই পরিচয়। যেন তারা নিজেদের শিকড় ভুলতে চায় না।

ফুটবল ক্লাবের ইতিহাস আসলে মানুষের ইতিহাস।

একটি বল মাঠে গড়িয়েছে বলে নয়, বরং সেই বলের পেছনে ছুটতে ছুটতে মানুষ এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে বন্ধুত্ব, সংস্কৃতি ও স্মৃতির সেতু তৈরি করেছে বলে।

২০২৬ সালে মেক্সিকো আবার বিশ্বকাপের আয়োজক। পৃথিবীর নানা দেশের মানুষ এই দেশে এসেছে, আসছে, আসবে। তারা হয়তো জানবে না, পাচুকার কোনো এক গলির দোকানে যে গরম পাস্তে বিক্রি হচ্ছে, তার জন্ম একদা আটলান্টিকের ওপারে কর্নওয়ালের খনিগ্রামে।

কিন্তু ইতিহাসের সৌন্দর্য এখানেই।

সব গল্প জানার প্রয়োজন হয় না।

কিছু গল্প কেবল খাবারের গন্ধে, পুরোনো পতাকার রঙে, কিংবা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ভেসে থাকা এক টুকরো স্মৃতিতে বেঁচে থাকে।

বিষয়: ইংল্যান্ডফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬মেক্সিকো
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড