চরচা ডেস্ক

পবিত্র কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বার্তা সংস্থা ইউএনবির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করার সময় এক বিএনপি সংসদ সদস্য কোরআনের আয়াত পাঠ করার পর এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এর তীব্র আপত্তি জানিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অভিযোগ করেন যে, আয়াতটির ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ (কক্সবাজার-২) বলেন, প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর জনগণ হতাশ হওয়ার চেয়ে বরং স্বস্তি পেয়েছে, কারণ এবার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো হয়নি।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাজেটকে সমালোচনা করে কেবল তারাই কেন রাজপথে মিছিল বের করলেন?
ফরিদ বলেন, ‘‘তারা একদিকে আমাদের কাছ থেকে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের মন্ত্রীদের কাছ থেকে বাজেট ও বরাদ্দ চান, আবার অন্যদিকে রাজপথে মিছিল করেন।’’
এরপর তিনি সূরা ইব্রাহিমের ৭ নম্বর আয়াতটি পাঠ করেন— ‘‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের (নেয়ামত) বাড়িয়ে দেব; আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’’
এই সংসদ সদস্য বলেন, বিরোধী দলের উচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। কিন্তু তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। তারা অস্বীকার করে। তারা কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবে।
তিনি সূরা আল-আনফালের ৩০ নম্বর আয়াতটিও পাঠ করেন। যেখানে বলা হয়েছে, ‘‘তারা চক্রান্ত করছিল, আর আল্লাহ্ কৌশল করছিলেন। আর আল্লাহ্ই সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী।’’
পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান অভিযোগ করেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোরআনের আয়াতের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোরআনের আয়াত ও হাদিস কখনোই এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত নয় যা উপহাস বা রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে গণ্য হতে পারে।
নাজিবুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে কি এমন বোঝানো হচ্ছে যে সরকারের প্রশংসা করলে বরাদ্দ বাড়িয়ে দেওয়া হবে, আর প্রশংসা না করলে হামলার শিকার হতে হবে?
তিনি বলেন, ‘‘পবিত্র কুরআনের আয়াত এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস প্রকৃতপক্ষে উপহাসের কোনো বিষয় নয়। যদি এটিকে নিয়ে উপহাস করা হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’’
সূরা ইব্রাহিমের একই আয়াত পাঠ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘‘উনি (ফরিদ) কি বোঝাতে চেয়েছেন যে আমরা যদি তাদের প্রশংসা করি, তবে তারা আমাদের বরাদ্দ বাড়িয়ে দেবেন আর তা না করলে আমাদের মারধর করবেন? এটি মূলত একটি ভুল ব্যাখ্যা।’’
তিনি বলেন, এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে যে, এগুলোকে (কুরআনের আয়াত ও হাদিস) কখনো উপহাস বা তামাশার বিষয় হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে ফরিদের মতো একজন প্রবীণ সংসদ সদস্য কুরআন বা হাদিস সম্পর্কে কোনো অবমাননাকর মন্তব্য করার উদ্দেশ্য নিয়েছিলেন।
স্পিকার বলেন, ‘‘তবুও আমরা বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখব। তিনি যদি কুরআন ও হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন, তবে তা সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ) করা হবে।’’
বিতর্কে যোগ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিরোধী দলের উত্থাপিত এই অভিযোগ জনগণের কাছে একটি ভুল বার্তা দেবে যে একজন সংসদ সদস্য কোরআনের আয়াতের অপব্যাখ্যা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘‘ফরিদ মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত একজন ইসলামিক স্কলার এবং তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে উদ্বুদ্ধ করতে সম্পূর্ণ সদ্বিশ্বাসে আয়াতটি পাঠ করেছিলেন।’’
সূরা ইব্রাহিমের সেই একই আয়াত আরবিতে পাঠ এবং বাংলায় অনুবাদ করে মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, কেন এটিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘‘এ বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডার তোলার কোনো প্রয়োজন ছিল না... তিনি ভালো উদ্দেশ্যেই এই মন্তব্য করেছিলেন এবং তিনি এটি বলেছিলেন যাতে আমরা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।’’
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘সংসদের কোনো বক্তব্য যদি ভুলবশতও ইসলামের প্রতি অসম্মানজনক বলে মনে হয়, তবে আমরা তার নিন্দা জানাব। তবে এটিকে রাজনৈতিকভাবে হাতিয়ার বানানো উচিত নয়।’’
এই পর্যায়ে স্পিকার বলেন, সংসদের অধিকাংশ সদস্যই মুসলিম এবং তারা চান না যে এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে সংসদে কোনো নেতিবাচক আলোচনা হোক।
পরে বিতর্কে অংশ নিয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান যুক্তি দেখান যে, ওই বিএনপি সংসদ সদস্য সূরা ইব্রাহিমের আয়াতের অপব্যাখ্যা করেছেন, কারণ এই আয়াতে সুনির্দিষ্টভাবে আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কথা বলা হয়েছে এবং এটিকে সরকারের বাজেটের প্রশংসার সাথে মেলানো উচিত নয়।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ফরিদ কোনো ব্যঙ্গাত্মক বা উপহাসমূলক উপায়ে এই মন্তব্য করেননি এবং তিনি সকলের মধ্যে সৎ আচরণকে উৎসাহিত করার জন্যই এই বক্তব্য দিয়েছিলেন।

পবিত্র কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বার্তা সংস্থা ইউএনবির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করার সময় এক বিএনপি সংসদ সদস্য কোরআনের আয়াত পাঠ করার পর এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এর তীব্র আপত্তি জানিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অভিযোগ করেন যে, আয়াতটির ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ (কক্সবাজার-২) বলেন, প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর জনগণ হতাশ হওয়ার চেয়ে বরং স্বস্তি পেয়েছে, কারণ এবার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো হয়নি।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাজেটকে সমালোচনা করে কেবল তারাই কেন রাজপথে মিছিল বের করলেন?
ফরিদ বলেন, ‘‘তারা একদিকে আমাদের কাছ থেকে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের মন্ত্রীদের কাছ থেকে বাজেট ও বরাদ্দ চান, আবার অন্যদিকে রাজপথে মিছিল করেন।’’
এরপর তিনি সূরা ইব্রাহিমের ৭ নম্বর আয়াতটি পাঠ করেন— ‘‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের (নেয়ামত) বাড়িয়ে দেব; আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’’
এই সংসদ সদস্য বলেন, বিরোধী দলের উচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। কিন্তু তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। তারা অস্বীকার করে। তারা কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবে।
তিনি সূরা আল-আনফালের ৩০ নম্বর আয়াতটিও পাঠ করেন। যেখানে বলা হয়েছে, ‘‘তারা চক্রান্ত করছিল, আর আল্লাহ্ কৌশল করছিলেন। আর আল্লাহ্ই সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী।’’
পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান অভিযোগ করেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোরআনের আয়াতের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোরআনের আয়াত ও হাদিস কখনোই এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত নয় যা উপহাস বা রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে গণ্য হতে পারে।
নাজিবুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে কি এমন বোঝানো হচ্ছে যে সরকারের প্রশংসা করলে বরাদ্দ বাড়িয়ে দেওয়া হবে, আর প্রশংসা না করলে হামলার শিকার হতে হবে?
তিনি বলেন, ‘‘পবিত্র কুরআনের আয়াত এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস প্রকৃতপক্ষে উপহাসের কোনো বিষয় নয়। যদি এটিকে নিয়ে উপহাস করা হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’’
সূরা ইব্রাহিমের একই আয়াত পাঠ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘‘উনি (ফরিদ) কি বোঝাতে চেয়েছেন যে আমরা যদি তাদের প্রশংসা করি, তবে তারা আমাদের বরাদ্দ বাড়িয়ে দেবেন আর তা না করলে আমাদের মারধর করবেন? এটি মূলত একটি ভুল ব্যাখ্যা।’’
তিনি বলেন, এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে যে, এগুলোকে (কুরআনের আয়াত ও হাদিস) কখনো উপহাস বা তামাশার বিষয় হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে ফরিদের মতো একজন প্রবীণ সংসদ সদস্য কুরআন বা হাদিস সম্পর্কে কোনো অবমাননাকর মন্তব্য করার উদ্দেশ্য নিয়েছিলেন।
স্পিকার বলেন, ‘‘তবুও আমরা বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখব। তিনি যদি কুরআন ও হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন, তবে তা সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ) করা হবে।’’
বিতর্কে যোগ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিরোধী দলের উত্থাপিত এই অভিযোগ জনগণের কাছে একটি ভুল বার্তা দেবে যে একজন সংসদ সদস্য কোরআনের আয়াতের অপব্যাখ্যা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘‘ফরিদ মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত একজন ইসলামিক স্কলার এবং তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে উদ্বুদ্ধ করতে সম্পূর্ণ সদ্বিশ্বাসে আয়াতটি পাঠ করেছিলেন।’’
সূরা ইব্রাহিমের সেই একই আয়াত আরবিতে পাঠ এবং বাংলায় অনুবাদ করে মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, কেন এটিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘‘এ বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডার তোলার কোনো প্রয়োজন ছিল না... তিনি ভালো উদ্দেশ্যেই এই মন্তব্য করেছিলেন এবং তিনি এটি বলেছিলেন যাতে আমরা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।’’
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘সংসদের কোনো বক্তব্য যদি ভুলবশতও ইসলামের প্রতি অসম্মানজনক বলে মনে হয়, তবে আমরা তার নিন্দা জানাব। তবে এটিকে রাজনৈতিকভাবে হাতিয়ার বানানো উচিত নয়।’’
এই পর্যায়ে স্পিকার বলেন, সংসদের অধিকাংশ সদস্যই মুসলিম এবং তারা চান না যে এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে সংসদে কোনো নেতিবাচক আলোচনা হোক।
পরে বিতর্কে অংশ নিয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান যুক্তি দেখান যে, ওই বিএনপি সংসদ সদস্য সূরা ইব্রাহিমের আয়াতের অপব্যাখ্যা করেছেন, কারণ এই আয়াতে সুনির্দিষ্টভাবে আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কথা বলা হয়েছে এবং এটিকে সরকারের বাজেটের প্রশংসার সাথে মেলানো উচিত নয়।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ফরিদ কোনো ব্যঙ্গাত্মক বা উপহাসমূলক উপায়ে এই মন্তব্য করেননি এবং তিনি সকলের মধ্যে সৎ আচরণকে উৎসাহিত করার জন্যই এই বক্তব্য দিয়েছিলেন।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার আমিনুল ইসলাম চরচাকে বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। নতুন করে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয়টি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”