এবারের গণভোটও কি বিতর্কিত হতে যাচ্ছে, ইতিহাস কী বলে
চরচা প্রতিবেদক
এবারের গণভোটও কি বিতর্কিত হতে যাচ্ছে, ইতিহাস কী বলে
চরচা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ২১: ২০
প্রতীকী ছবি: চরচা
দেশের ইতিহাসে চতুর্থ গণভোটটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই।
জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন, ভবিষ্যতে দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালুর প্রশ্ন এবং জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত ৩০ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে জনগণের সম্মতি আদায়ের জন্যই হবে এই গণভোট।
যদি ‘হ্যাঁ’ জয় পায়, তাহলে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তবে গণভোটের আগেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচার বিতর্ক উঠেছে আগেই। সরকার যেখানে এই গণভোটের আয়োজক, তাই গণভোটে যেকোনো একটি পক্ষ নেওয়াটা সরকারের উচিত হচ্ছে কি না, বিতর্ক সেটি নিয়েই।
সরকার অবশ্য বলছে, যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার করার লক্ষ্যেই গঠিত, তাই তারা সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রচার চালাতেই পারে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটে সরকারের পক্ষ নেওয়া এর বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
অতীতে দেশে আরও তিনটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের গণভোটটি হচ্ছে সর্বশেষ গণভোটের ৩৫ বছর পর। ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরের গণভোট ছিল সরকার পদ্ধতি প্রশ্নে। ১৯৭৭ সালে প্রথম গণভোট ছিল লে. জেনারেল জিয়াউর রহমানের শাসনের পক্ষে জনগণের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে। আর ১৯৮৫ সালে লে. জেনারেল এইচ এম এরশাদের শাসনামলের গণভোটটি ছিল জিয়ার সময়কার গণভোটের মতোই। তার শাসনের পক্ষে জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য।
অতীতের ইতিহাস থেকে দেখা যায়, প্রতিটি গণভোটেই সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল। ১৯৭৭ ও ১৯৮৫ সালের প্রথম দুই গণভোটে তো রীতিমতো জিয়াউর রহমান ও এরশাদের ছবি দিয়ে পোস্টার ছাপিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো হয়েছিল।
১৯৯১ সালে সরকার পদ্ধতি প্রশ্নে সর্বশেষ গণভোটটিতেও সরকার চেয়েছিল ‘হ্যাঁ’ যেন জয়যুক্ত হয়! ১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের পর সংসদীয় পদ্ধতির সরকার নিয়েই আলোচনা ছিল, ওই সময় সরকার সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার না চালালেও আলাপ-আলোচনায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই সরকারের পক্ষপাত প্রকাশ পেত।
সরকারের মনোভাব ও ভূমিকাতে নিরপেক্ষতার ঘাটতি থাকার কারণেই অতীতের গণভোটগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ১৯৭৭ সালে দেশের ইতিহাসের প্রথম গণভোটে ভোট প্রদানের হার ছিল ৮৮ দশমিক ১ শতাংশ। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় ছিল ৯৮ দশমিক ৯ ভাগ।
গণভোট
১৯৮৫ সালে দ্বিতীয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় ছিল ৯৪ দশমিক ৫ ভাগ ভোটারের। ভোট প্রদানের হার ছিল ৭২ দশমিক ২ ভাগ। এই অঙ্কগুলোই প্রশ্ন ওঠার জন্য যথেষ্ট ছিল।
এমনকি ১৯৯১ সালে সরকার পদ্ধতি প্রশ্নে গণভোট নিয়েও প্রশ্ন আছে। সেই গণভোটে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। মাত্র ৩৫ দশমিক ২ ভাগ ভোটার গণভোটে নিজেদের মতামত দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট পড়েছিল ৮৪ দশমিক ৩৮ ভাগ।
এবারের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারি প্রচার নিয়ে দাবি করা হয়েছে, এ প্রচারণায় আইনি কোনো বাধা নেই।
কিন্তু একদিন আগেই নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সরকারি কর্মচারীরা গণভোটে কোনো কিছুর পক্ষে প্রচার চালাতে পারবে না। নির্বাচন সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন বলেছে, গণভোটে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের কোনো পক্ষ নিয়ে প্রচার চালানো দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে সরকারপ্রধান বা উপদেষ্টারা প্রচার চালালে কী হবে তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো কিছু বলেনি।
বিশ্লেষকেরা আগেই বলেছিলেন, সরকারের প্রচারে আইনি জটিলতা না থাকলেও অতীতের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনও ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত এই গণভোটে মূলত চারটি প্রশ্নে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে-জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন, ভবিষ্যতে দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালুর প্রশ্ন এবং জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত ৩০ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন।
সরকারের প্রচারণায় উল্লেখ করা হচ্ছে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না, দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না, এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও পিএসসি গঠনে সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে ভূমিকা রাখবে। এর সপক্ষে এখন চলছে জোর প্রচার।
রাজনৈতিক দলগুলো অবশ্য গণভোট প্রশ্নে বিভক্ত। সংস্কার সবাই চায়, তবে বিএনপি ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ ভোটের বিষয়টি জনগণের হাতে ছেড়ে দেওয়ারই পক্ষপাতী। জামায়াতে ইসলামী অবশ্য সক্রিয়ভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীরা নিজেদের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সঙ্গে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারও চালাচ্ছে।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক চরচাকে বলেন, “প্রত্যাশা হলো একটি নির্বাচনের ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ থাকবে। তার মানে দলের ব্যাপারেও নিরপেক্ষ থাকবে। ইস্যুর ব্যাপারেও নিরপেক্ষ থাকবে। সেই মাপকাঠিতে একটা ইস্যুর পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়তো সঠিক হচ্ছে না। অন্যদিকে সরকারের যদি এটা বক্তব্য হয়, যেহেতু একটা গণভোটের প্রশ্ন এবং কী নিয়ে গণভোট হচ্ছে সেটা জনগণ যাতে সঠিকভাবে বুঝতে পারে, বুঝে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে পারে এই জন্য জনগণকে জানানো দরকার-এভাবে যুক্তি দিলে আপত্তির জায়গা নেই।”
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন, “উপদেষ্টাদের হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচার না করাই শ্রেয়। তাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হয়ে যায়। সরকার হয়তো গভীরভাবে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করে নাই। আশা করব, চিন্তা করে হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচার থেকে বিরত থাকবে।”
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম চরচাকে বলেন, “গণভোট সম্পর্কে আগেও বলেছি। এটা প্রয়োজনীয় না, এটা টোটাল প্রতারণামূলক, ভুয়া এবং মানুষকে মিথ্যাচারে ফোর্স করায়। এইটাকে মানুষ মোকাবিলা করবে তার নিজের বুদ্ধি বিবেচনা অনুযায়ী।”
এই সিপিবি নেতা বলেন, “সরকার অর্থ এবং শক্তি ব্যবহার করে ব্যবহার করে জোর করে ম্যানিপুলেটেড ফলাফল বের করতে চায়। আমরা মানুষকে ইনভাইট করব যে, আপনাদের কেন্দ্রে যান এবং নিজেদের মতামত দিন। ইলেকশনে যাতে কোনোভাবেই দেশের শত্রু জয় লাভ না করতে পারে সেটা নিশ্চিত করুন।
প্রতীকী ছবি: চরচা
দেশের ইতিহাসে চতুর্থ গণভোটটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই।
জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন, ভবিষ্যতে দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালুর প্রশ্ন এবং জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত ৩০ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে জনগণের সম্মতি আদায়ের জন্যই হবে এই গণভোট।
যদি ‘হ্যাঁ’ জয় পায়, তাহলে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তবে গণভোটের আগেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচার বিতর্ক উঠেছে আগেই। সরকার যেখানে এই গণভোটের আয়োজক, তাই গণভোটে যেকোনো একটি পক্ষ নেওয়াটা সরকারের উচিত হচ্ছে কি না, বিতর্ক সেটি নিয়েই।
সরকার অবশ্য বলছে, যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার করার লক্ষ্যেই গঠিত, তাই তারা সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রচার চালাতেই পারে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটে সরকারের পক্ষ নেওয়া এর বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
অতীতে দেশে আরও তিনটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের গণভোটটি হচ্ছে সর্বশেষ গণভোটের ৩৫ বছর পর। ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরের গণভোট ছিল সরকার পদ্ধতি প্রশ্নে। ১৯৭৭ সালে প্রথম গণভোট ছিল লে. জেনারেল জিয়াউর রহমানের শাসনের পক্ষে জনগণের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে। আর ১৯৮৫ সালে লে. জেনারেল এইচ এম এরশাদের শাসনামলের গণভোটটি ছিল জিয়ার সময়কার গণভোটের মতোই। তার শাসনের পক্ষে জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য।
অতীতের ইতিহাস থেকে দেখা যায়, প্রতিটি গণভোটেই সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছিল। ১৯৭৭ ও ১৯৮৫ সালের প্রথম দুই গণভোটে তো রীতিমতো জিয়াউর রহমান ও এরশাদের ছবি দিয়ে পোস্টার ছাপিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো হয়েছিল।
১৯৯১ সালে সরকার পদ্ধতি প্রশ্নে সর্বশেষ গণভোটটিতেও সরকার চেয়েছিল ‘হ্যাঁ’ যেন জয়যুক্ত হয়! ১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের পর সংসদীয় পদ্ধতির সরকার নিয়েই আলোচনা ছিল, ওই সময় সরকার সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার না চালালেও আলাপ-আলোচনায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই সরকারের পক্ষপাত প্রকাশ পেত।
সরকারের মনোভাব ও ভূমিকাতে নিরপেক্ষতার ঘাটতি থাকার কারণেই অতীতের গণভোটগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ১৯৭৭ সালে দেশের ইতিহাসের প্রথম গণভোটে ভোট প্রদানের হার ছিল ৮৮ দশমিক ১ শতাংশ। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় ছিল ৯৮ দশমিক ৯ ভাগ।
গণভোট
১৯৮৫ সালে দ্বিতীয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় ছিল ৯৪ দশমিক ৫ ভাগ ভোটারের। ভোট প্রদানের হার ছিল ৭২ দশমিক ২ ভাগ। এই অঙ্কগুলোই প্রশ্ন ওঠার জন্য যথেষ্ট ছিল।
এমনকি ১৯৯১ সালে সরকার পদ্ধতি প্রশ্নে গণভোট নিয়েও প্রশ্ন আছে। সেই গণভোটে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। মাত্র ৩৫ দশমিক ২ ভাগ ভোটার গণভোটে নিজেদের মতামত দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট পড়েছিল ৮৪ দশমিক ৩৮ ভাগ।
এবারের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারি প্রচার নিয়ে দাবি করা হয়েছে, এ প্রচারণায় আইনি কোনো বাধা নেই।
কিন্তু একদিন আগেই নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সরকারি কর্মচারীরা গণভোটে কোনো কিছুর পক্ষে প্রচার চালাতে পারবে না। নির্বাচন সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন বলেছে, গণভোটে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের কোনো পক্ষ নিয়ে প্রচার চালানো দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে সরকারপ্রধান বা উপদেষ্টারা প্রচার চালালে কী হবে তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো কিছু বলেনি।
বিশ্লেষকেরা আগেই বলেছিলেন, সরকারের প্রচারে আইনি জটিলতা না থাকলেও অতীতের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনও ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত এই গণভোটে মূলত চারটি প্রশ্নে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে-জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন, ভবিষ্যতে দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালুর প্রশ্ন এবং জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত ৩০ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন।
সরকারের প্রচারণায় উল্লেখ করা হচ্ছে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না, দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না, এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও পিএসসি গঠনে সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে ভূমিকা রাখবে। এর সপক্ষে এখন চলছে জোর প্রচার।
রাজনৈতিক দলগুলো অবশ্য গণভোট প্রশ্নে বিভক্ত। সংস্কার সবাই চায়, তবে বিএনপি ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ ভোটের বিষয়টি জনগণের হাতে ছেড়ে দেওয়ারই পক্ষপাতী। জামায়াতে ইসলামী অবশ্য সক্রিয়ভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীরা নিজেদের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সঙ্গে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারও চালাচ্ছে।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক চরচাকে বলেন, “প্রত্যাশা হলো একটি নির্বাচনের ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ থাকবে। তার মানে দলের ব্যাপারেও নিরপেক্ষ থাকবে। ইস্যুর ব্যাপারেও নিরপেক্ষ থাকবে। সেই মাপকাঠিতে একটা ইস্যুর পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়তো সঠিক হচ্ছে না। অন্যদিকে সরকারের যদি এটা বক্তব্য হয়, যেহেতু একটা গণভোটের প্রশ্ন এবং কী নিয়ে গণভোট হচ্ছে সেটা জনগণ যাতে সঠিকভাবে বুঝতে পারে, বুঝে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে পারে এই জন্য জনগণকে জানানো দরকার-এভাবে যুক্তি দিলে আপত্তির জায়গা নেই।”
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন, “উপদেষ্টাদের হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচার না করাই শ্রেয়। তাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হয়ে যায়। সরকার হয়তো গভীরভাবে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করে নাই। আশা করব, চিন্তা করে হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচার থেকে বিরত থাকবে।”
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম চরচাকে বলেন, “গণভোট সম্পর্কে আগেও বলেছি। এটা প্রয়োজনীয় না, এটা টোটাল প্রতারণামূলক, ভুয়া এবং মানুষকে মিথ্যাচারে ফোর্স করায়। এইটাকে মানুষ মোকাবিলা করবে তার নিজের বুদ্ধি বিবেচনা অনুযায়ী।”
এই সিপিবি নেতা বলেন, “সরকার অর্থ এবং শক্তি ব্যবহার করে ব্যবহার করে জোর করে ম্যানিপুলেটেড ফলাফল বের করতে চায়। আমরা মানুষকে ইনভাইট করব যে, আপনাদের কেন্দ্রে যান এবং নিজেদের মতামত দিন। ইলেকশনে যাতে কোনোভাবেই দেশের শত্রু জয় লাভ না করতে পারে সেটা নিশ্চিত করুন।