Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

ট্রাম্প যে কারণে আতঙ্কে আছেন

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৮: ৫১
ট্রাম্প যে কারণে আতঙ্কে আছেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে দীর্ঘদিন ধরেই এক অপ্রতিরোধ্য শক্তির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করে আসছেন–যেন আন্তর্জাতিক আইন, মিত্রদেশ কিংবা কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতা তার সিদ্ধান্তকে আটকে রাখতে পারে না। কিন্তু ওয়াশিংটন-ভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী ফরেন পলিসির অনলাইনে এর কলামিস্ট মিশেল হিরশ-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাস্তবে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা কোনো রাষ্ট্র বা সামরিক শক্তি নয়; বরং বৈশ্বিক আর্থিক বাজার। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এই বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

লেখাটির মূল যুক্তি হলো–ট্রাম্পের আগ্রাসী রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থান প্রায়ই বাজারের প্রতিক্রিয়ার মুখে ভেঙে পড়ে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর যখন তেলের দাম বাড়তে শুরু করে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়, তখনই বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এই অস্থিরতা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে যুদ্ধ থেকে সরে আসার দিকে ঠেলে দেয়। বিশ্লেষকের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ট্রাম্পের রাজনৈতিক আচরণের একটি পুনরাবৃত্ত ধারা।

এই প্যাটার্নকে ব্যাখ্যা করতে ‘TACO trade’ (Trump Always Chickens Out) ধারণাটি তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ, ট্রাম্প প্রথমে কঠোর হুমকি দেন, উত্তেজনা বাড়ান, কিন্তু যখন বাজার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায়, তখন দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং শেষ পর্যন্ত একটি আপস বা ‘ডিল’ ঘোষণা করেন। ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। শুরুতে তিনি ইরানের ‘সভ্যতা ধ্বংস’ করার মতো চরম হুমকি দেন, কিন্তু পরে পরিস্থিতি পাল্টে যায়–তিনি যুদ্ধবিরতির দিকে এগিয়ে যান এবং এমনকি পুনর্গঠন নিয়ে কথাও বলেন।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মানসিকতা ও রাজনৈতিক দর্শন। তিনি নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে দেখেন, যার কাছে অর্থনৈতিক সূচক–যেমন ডাউ জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ বা এসঅ্যান্ডপি ৫০০– তার সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি। ফলে বাজারের পতন তিনি শুধু অর্থনৈতিক সংকেত হিসেবে নয়, ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখেন। এই মনস্তাত্ত্বিক দিকটি তার সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। যুদ্ধের ফলে তেলের দাম বেড়ে যায়, গ্যাসোলিনের মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। প্রতিদিন বাজার পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের অবস্থানও নরম হতে থাকে। আবার যখন তিনি যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত দেন, বাজারে সাময়িক উত্থান দেখা যায়। এই পারস্পরিক সম্পর্ক প্রমাণ করে যে, বাজার ট্রাম্পের নীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

তবে বিশ্লেষণে এটাও স্বীকার করা হয়েছে যে, বাজারই একমাত্র কারণ নয়। ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চাপ, মিত্রদেশগুলোর আপত্তি এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রতিক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। উদাহরণস্বরূপ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অসন্তোষ এবং লেবাননে চলমান হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের নিজ দলের মধ্যেও সমালোচনা তৈরি হয়।

তবে এসব কারণের মধ্যেও বাজারের প্রভাব সবচেয়ে ধারাবাহিক ও নির্ধারক হিসেবে উঠে এসেছে। লেখক দেখিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতেও একই ঘটনা ঘটেছিল। যখন ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেন, তখন বাজারে ব্যাপক পতন ঘটে। পরে তিনি দ্রুত অবস্থান বদলান এবং একটি অস্পষ্ট ‘চুক্তি’র কথা বলেন। এই ঘটনাও প্রমাণ করে যে, বাজারের চাপ তার আগ্রাসী নীতিকে সীমিত করে দেয়।

এই বিশ্লেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ট্রাম্পের ‘শত্রু’ ধারণার পুনর্মূল্যায়ন। সাধারণভাবে মনে করা হয়, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলো– যেমন চীন, রাশিয়া বা ইরান। কিন্তু লেখক যুক্তি দিয়েছেন, প্রকৃতপক্ষে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হলো ‘গ্লোবাল ফাইন্যান্স’–একটি অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী ব্যবস্থা, যা বিনিয়োগকারীদের মনোভাব, বাজারের আস্থা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতার মাধ্যমে কাজ করে।

যুদ্ধের অদৃশ্য খরচ: ইসরায়েলের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মুখেisrael-bank

এই প্রেক্ষাপটে ইরান একটি কৌশলগত সুবিধা অর্জন করেছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান সরাসরি সামরিকভাবে ট্রাম্পকে পরাজিত না করলেও, তারা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে পেরেছে যেখানে বাজারের প্রতিক্রিয়া ট্রাম্পকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে তারা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে ধাক্কা দিয়েছে, তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

লেখার শেষ অংশে একটি গভীর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বার্তা রয়েছে। ট্রাম্প যখন ‘বিশ্ব শান্তি’ ও ‘মধ্যপ্রাচ্যের স্বর্ণযুগ’ নিয়ে কথা বলেন, তখনও তার বক্তব্যে অর্থনৈতিক লাভের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে। অর্থাৎ, তার কাছে কূটনীতি ও যুদ্ধ–উভয়ই শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক হিসাবের অংশ।

সব মিলিয়ে, ফরেন পলিসিতে প্রকাশিত নিবন্ধে মিশেল হিরশের এই বিশ্লেষণ দেখায় যে, আধুনিক বিশ্ব রাজনীতিতে সামরিক শক্তি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে কম নয় আর্থিক বাজারের প্রভাব। ট্রাম্পের মতো একজন নেতা, যিনি নিজেকে শক্তিশালী ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে তুলে ধরেন, তিনিও শেষ পর্যন্ত বাজারের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য হন। এই বাস্তবতা শুধু তার ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়; বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার শক্তির প্রতিফলন, যা আজকের বিশ্বে রাজনৈতিক ক্ষমতার অন্যতম নির্ধারক উপাদান হয়ে উঠেছে।

বিষয়: ইরানবিশ্লেষণমধ্যপ্রাচ্যডোনাল্ড ট্রাম্পযুদ্ধমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল
সর্বশেষ
  • ১

    এশিয়া কাপ: শিরোপায় চোখ রেখে বাংলাদেশের ‘ভারত পরীক্ষা’

  • ২

    সিএমএসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংকের চুক্তি

  • ৩

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ৪

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৫

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড