চরচা ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসন বহুবার দাবি করেছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ইরানের সামরিক শক্তিকে কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ভেঙে পড়েছে বলে বারবার প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক অ্যাডাম এনটোস, ম্যাগি হ্যাবারম্যান এবং জোনাথন সোয়ানের প্রতিবেদনে সেই বৈপরীত্য স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।
গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, ইরান তার যুদ্ধপূর্ব ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বড় অংশ ধরে রাখতে পেরেছে। প্রায় ৭০ শতাংশ ভাণ্ডার এখনো কার্যকর অবস্থায় আছে। অর্থাৎ ব্যাপক বিমান হামলা এবং ইসরায়েলের সাথে যৌথ সামরিক অভিযানের পরও ইরানের কৌশলগত সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম কেন্দ্র এই জলপথ। বিশ্বের দৈনিক তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখান দিয়ে যায়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ ঘিরে থাকা ইরানের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টি এখনো সক্রিয় বা নিয়ন্ত্রণে আছে। এর অর্থ, ইরান এখনো উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
ইরানের শক্তির বড় জায়গা হচ্ছে মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার। এগুলো সহজে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরানো যায়। স্যাটেলাইট নজরদারি ফাঁকি দেওয়াও তুলনামূলক সহজ। ফলে স্থায়ী ঘাঁটিতে হামলা করলেও পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ে।
মার্কিন গোয়েন্দারা মনে করছেন, ইরান এখনো এই মোবাইল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দ্রুত পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম।
এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য নিয়ে। প্রশাসন বলছে, ইরান কার্যত ‘নিষ্ক্রিয়’। কিন্তু মাঠপর্যায়ের তথ্য, স্যাটেলাইট চিত্র এবং নজরদারি উপাত্ত বলছে ভিন্ন কথা। বহু ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র এখনো সচল। কিছু আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দ্রুত পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
এটি নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরেই ইরান তাদের সামরিক অবকাঠামো ভূগর্ভে সরিয়ে নিচ্ছিল। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার পাহাড়ের নিচে বা গভীর সুরক্ষিত টানেলে রাখা হয়। এসব স্থাপনা ধ্বংস করতে বিশেষ ধরনের ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ অস্ত্র প্রয়োজন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেসব অস্ত্র ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা রেখেছে।
কারণ আরেকটি বাস্তবতা সামনে এসেছে–মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর চাপ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের এক মাসেই বিপুল পরিমাণ টমাহক ক্রুজ মিসাইল, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং এটিএসিএমএস ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এক বছরের উৎপাদনের চেয়েও বেশি অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে কয়েক সপ্তাহে।
এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সতর্ক সংকেত। কারণ একই সময়ে ওয়াশিংটনের সামনে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউক্রেন যুদ্ধ, চীন এবং উত্তর কোরিয়ার মতো বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতাও রয়েছে। যদি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে অস্ত্র মজুত দ্রুত সংকটে পড়তে পারে।
বিশেষ করে চীনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ইন্দো-প্যাসিফিক সংঘাত মাথায় রেখেই যুক্তরাষ্ট্র কিছু উন্নত অস্ত্র সংরক্ষণ করতে চাইছে। ফলে ইরানের অনেক ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস না করে শুধু প্রবেশপথ বন্ধ করার কৌশল নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এতে স্থায়ী সমাধান হয়নি। ইরান দ্রুত সেগুলো পুনরায় চালু করতে পেরেছে।
এই পরিস্থিতি একটি বড় বাস্তবতা সামনে আনে। আধুনিক যুদ্ধে শুধু আকাশ হামলা দিয়ে কোনো রাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা কঠিন। বিশেষ করে যদি সেই রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ‘অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ার’ বা অসম যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে থাকে।
ইরান ঠিক সেটিই করেছে। তারা জানে সরাসরি প্রচলিত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন। তাই তারা বিকেন্দ্রীভূত ঘাঁটি, মোবাইল লঞ্চার, ড্রোন নেটওয়ার্ক এবং ভূগর্ভস্থ অবকাঠামোর ওপর জোর দিয়েছে। এর ফলে বড় আকারের হামলার পরও যুদ্ধক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে না।
প্রতিবেদনটি আরেকটি রাজনৈতিক দিকও সামনে এনেছে। হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগনের মুখপাত্ররা গোয়েন্দা তথ্য অস্বীকার করেছেন। প্রশাসনের ভাষ্য, ইরানের শক্তি টিকে আছে বলা মানে ‘ভুল তথ্য’ ছড়ানো। এমনকি ট্রাম্প এটিকে ‘ভার্চুয়াল দেশদ্রোহিতা’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
কিন্তু এখানেই মূল দ্বন্দ্ব। রাজনৈতিক বক্তব্য আর গোয়েন্দা বাস্তবতা এক নয়। যুদ্ধের সময় সরকার প্রায়ই বিজয়ের ভাষ্য জোরাল করে তুলে ধরে। কারণ জনমত ধরে রাখা, মিত্রদের আশ্বস্ত করা এবং প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে দুর্বল করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু সামরিক পরিকল্পনা বাস্তব তথ্যের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উদ্বেগ সেখানেই। তারা মনে করছে, ইরানের সামরিক অবকাঠামো এখনো এমন অবস্থায় আছে, যা ভবিষ্যতে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন সংঘাত শুরু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ভয়াবহ ধাক্কা খেতে পারে।
মিত্র দেশগুলোর উদ্বেগও বাড়ছে। ইউক্রেনের জন্য যেসব অস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বিলম্বিত হতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রকে আগে নিজের মজুত পূরণ করতে হবে। এর ফলে ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক সামরিক প্রতিশ্রুতির ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিল্প সক্ষমতা। যুদ্ধের সময় অস্ত্র ব্যবহার যত দ্রুত হয়, উৎপাদন তত দ্রুত বাড়ানো যায় না। লকহিড মার্টিনের মতো বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোরও সীমাবদ্ধতা আছে। রকেট মোটর, উন্নত ইন্টারসেপ্টর বা স্টেলথ মিসাইল রাতারাতি তৈরি করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে ইরান তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়যুদ্ধ চালানোর কৌশল নিয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা সামরিকভাবে টিকে থাকার ওপর জোর দিয়েছে। তাদের অনেক শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অর্থনীতি চাপে পড়েছে—তবু ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভাঙেনি।
সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি একটি বড় সত্য সামনে আনে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত শুধু সামরিক শক্তির লড়াই নয়; এটি সহনশীলতা, সরবরাহ ব্যবস্থা, শিল্প উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরও লড়াই।
ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত বিজয়ের ছবি তুলে ধরতে চাইলেও গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল। ইরান হয়তো দুর্বল হয়েছে, কিন্তু ভেঙে পড়েনি। আর সেটিই এখন ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় কৌশলগত উদ্বেগ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসন বহুবার দাবি করেছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ইরানের সামরিক শক্তিকে কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ভেঙে পড়েছে বলে বারবার প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক অ্যাডাম এনটোস, ম্যাগি হ্যাবারম্যান এবং জোনাথন সোয়ানের প্রতিবেদনে সেই বৈপরীত্য স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।
গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, ইরান তার যুদ্ধপূর্ব ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বড় অংশ ধরে রাখতে পেরেছে। প্রায় ৭০ শতাংশ ভাণ্ডার এখনো কার্যকর অবস্থায় আছে। অর্থাৎ ব্যাপক বিমান হামলা এবং ইসরায়েলের সাথে যৌথ সামরিক অভিযানের পরও ইরানের কৌশলগত সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম কেন্দ্র এই জলপথ। বিশ্বের দৈনিক তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখান দিয়ে যায়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ ঘিরে থাকা ইরানের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টি এখনো সক্রিয় বা নিয়ন্ত্রণে আছে। এর অর্থ, ইরান এখনো উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
ইরানের শক্তির বড় জায়গা হচ্ছে মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার। এগুলো সহজে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরানো যায়। স্যাটেলাইট নজরদারি ফাঁকি দেওয়াও তুলনামূলক সহজ। ফলে স্থায়ী ঘাঁটিতে হামলা করলেও পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ে।
মার্কিন গোয়েন্দারা মনে করছেন, ইরান এখনো এই মোবাইল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দ্রুত পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম।
এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য নিয়ে। প্রশাসন বলছে, ইরান কার্যত ‘নিষ্ক্রিয়’। কিন্তু মাঠপর্যায়ের তথ্য, স্যাটেলাইট চিত্র এবং নজরদারি উপাত্ত বলছে ভিন্ন কথা। বহু ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র এখনো সচল। কিছু আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দ্রুত পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
এটি নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরেই ইরান তাদের সামরিক অবকাঠামো ভূগর্ভে সরিয়ে নিচ্ছিল। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার পাহাড়ের নিচে বা গভীর সুরক্ষিত টানেলে রাখা হয়। এসব স্থাপনা ধ্বংস করতে বিশেষ ধরনের ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ অস্ত্র প্রয়োজন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেসব অস্ত্র ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা রেখেছে।
কারণ আরেকটি বাস্তবতা সামনে এসেছে–মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর চাপ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের এক মাসেই বিপুল পরিমাণ টমাহক ক্রুজ মিসাইল, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং এটিএসিএমএস ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এক বছরের উৎপাদনের চেয়েও বেশি অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে কয়েক সপ্তাহে।
এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সতর্ক সংকেত। কারণ একই সময়ে ওয়াশিংটনের সামনে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউক্রেন যুদ্ধ, চীন এবং উত্তর কোরিয়ার মতো বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতাও রয়েছে। যদি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে অস্ত্র মজুত দ্রুত সংকটে পড়তে পারে।
বিশেষ করে চীনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ইন্দো-প্যাসিফিক সংঘাত মাথায় রেখেই যুক্তরাষ্ট্র কিছু উন্নত অস্ত্র সংরক্ষণ করতে চাইছে। ফলে ইরানের অনেক ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস না করে শুধু প্রবেশপথ বন্ধ করার কৌশল নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এতে স্থায়ী সমাধান হয়নি। ইরান দ্রুত সেগুলো পুনরায় চালু করতে পেরেছে।
এই পরিস্থিতি একটি বড় বাস্তবতা সামনে আনে। আধুনিক যুদ্ধে শুধু আকাশ হামলা দিয়ে কোনো রাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা কঠিন। বিশেষ করে যদি সেই রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ‘অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ার’ বা অসম যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে থাকে।
ইরান ঠিক সেটিই করেছে। তারা জানে সরাসরি প্রচলিত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন। তাই তারা বিকেন্দ্রীভূত ঘাঁটি, মোবাইল লঞ্চার, ড্রোন নেটওয়ার্ক এবং ভূগর্ভস্থ অবকাঠামোর ওপর জোর দিয়েছে। এর ফলে বড় আকারের হামলার পরও যুদ্ধক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে না।
প্রতিবেদনটি আরেকটি রাজনৈতিক দিকও সামনে এনেছে। হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগনের মুখপাত্ররা গোয়েন্দা তথ্য অস্বীকার করেছেন। প্রশাসনের ভাষ্য, ইরানের শক্তি টিকে আছে বলা মানে ‘ভুল তথ্য’ ছড়ানো। এমনকি ট্রাম্প এটিকে ‘ভার্চুয়াল দেশদ্রোহিতা’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
কিন্তু এখানেই মূল দ্বন্দ্ব। রাজনৈতিক বক্তব্য আর গোয়েন্দা বাস্তবতা এক নয়। যুদ্ধের সময় সরকার প্রায়ই বিজয়ের ভাষ্য জোরাল করে তুলে ধরে। কারণ জনমত ধরে রাখা, মিত্রদের আশ্বস্ত করা এবং প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে দুর্বল করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু সামরিক পরিকল্পনা বাস্তব তথ্যের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উদ্বেগ সেখানেই। তারা মনে করছে, ইরানের সামরিক অবকাঠামো এখনো এমন অবস্থায় আছে, যা ভবিষ্যতে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন সংঘাত শুরু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ভয়াবহ ধাক্কা খেতে পারে।
মিত্র দেশগুলোর উদ্বেগও বাড়ছে। ইউক্রেনের জন্য যেসব অস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বিলম্বিত হতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রকে আগে নিজের মজুত পূরণ করতে হবে। এর ফলে ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক সামরিক প্রতিশ্রুতির ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিল্প সক্ষমতা। যুদ্ধের সময় অস্ত্র ব্যবহার যত দ্রুত হয়, উৎপাদন তত দ্রুত বাড়ানো যায় না। লকহিড মার্টিনের মতো বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোরও সীমাবদ্ধতা আছে। রকেট মোটর, উন্নত ইন্টারসেপ্টর বা স্টেলথ মিসাইল রাতারাতি তৈরি করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে ইরান তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়যুদ্ধ চালানোর কৌশল নিয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা সামরিকভাবে টিকে থাকার ওপর জোর দিয়েছে। তাদের অনেক শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অর্থনীতি চাপে পড়েছে—তবু ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভাঙেনি।
সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি একটি বড় সত্য সামনে আনে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত শুধু সামরিক শক্তির লড়াই নয়; এটি সহনশীলতা, সরবরাহ ব্যবস্থা, শিল্প উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরও লড়াই।
ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত বিজয়ের ছবি তুলে ধরতে চাইলেও গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল। ইরান হয়তো দুর্বল হয়েছে, কিন্তু ভেঙে পড়েনি। আর সেটিই এখন ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় কৌশলগত উদ্বেগ।