Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

আসুন, মানবজাতিকে বাঁচাই

সাইরুল ইসলাম

সাইরুল ইসলাম

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২১: ৪৪
আসুন, মানবজাতিকে বাঁচাই

আধুনিক চীনের দিকে তাকালে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত বুলেট ট্রেনের নেটওয়ার্ক, আকাশে উড়ন্ত ট্যাক্সি, ড্রোন ডেলিভারি সার্ভিস আর চালকবিহীন গাড়ির জয়জয়কার। সাংহাইয়ের জমকালো ক্লাব থেকে শুরু করে শেনজেনের সুসজ্জিত পার্ক–সবই যেন এক সমৃদ্ধ সভ্যতার চূড়ান্ত শিখর। এই চীন আরও দূর এগিয়ে যাবে। আর এরই মধ্যে মহাকাশেও শুরু হয়েছে তাদের আধিপত্য।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

কিন্তু এই বাহ্যিক চাকচিক্যের আড়ালে ঘনীভূত হচ্ছে এক গভীর সংকট। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, চীন বর্তমানে তার সমৃদ্ধির সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থান করলেও এই শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ ‘জনতাত্ত্বিক ধস’ দেশটির জীবনীশক্তি শুষে নিতে শুরু করবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে চীনের জন্মহার যেভাবে কমতে শুরু করেছে, তাকে অর্থনীতিবিদরা ‘বিপর্যয়কর’ বলে অভিহিত করছেন। সাম্প্রতিক তথ্যানুসারে, গত এক বছরেই চীনে জন্মের হার ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এই সংকট নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম এশিয়া টাইমস। তাতে স্পেনের অর্থনীতিবিদ হেসুস ফার্নান্দেজ-ভিলারভার্ডের মতামত নেওয়া হয়। তার মতে, ২০২৫ সালে চীনে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ১৭৭৬ সালের চেয়েও কম ছিল। অথচ তখন চীনের জনসংখ্যা ছিল বর্তমানের মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বর্তমানে চীনের মোট প্রজনন হার (টিএফআর) দাঁড়িয়েছে ০.৯৩-এ। এর মানে হলো, প্রতি চারজন দাদা-দাদির বিপরীতে নাতি-নাতনির সংখ্যা হবে একজনেরও কম। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চীনের বর্তমান ১৪০ কোটি জনসংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে ৬২ কোটিতে নেমে আসতে পারে। আর যদি নতুন প্রজন্মের হার আরও কমে, তবে এই সংখ্যা আরও নিচে নামবে।

জন্মনিয়ন্ত্রক সামগ্রীর দাম বাড়িয়েও কাজ হচ্ছে না, চীনে জন্মহারের রেকর্ড পতনchina birth

বিপদে বিশ্ব

জনসংখ্যা হ্রাস কেবল চীনের ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্যকে রুখে দেবে–এটা একটা ভুল ধারণা। বাস্তবতা হলো, এটি একটি বৈশ্বিক মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের প্রজনন হার এখন ১.০-এর নিচে। এমনকি ভারত, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশগুলোতেও জন্মহার ধারণার চেয়ে অনেক দ্রুত কমছে।

এশিয়া টাইমস বলছে, ভিলারভার্ডের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগে মনে করা হতো জন্মহার ধীরে ধীরে কমবে এবং তা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু ২০১৫ সালের পর থেকে এই পতন ত্বরান্বিত হয়েছে। প্রতি বছর পরিসংখ্যান সংস্থাগুলো তাদের পূর্বাভাস সংশোধন করে আরও নেতিবাচক পূর্বাভাস দিচ্ছে।

ছবি: রয়টার্স
ছবি: রয়টার্স

ভ্রান্ত ধারণা ও বাস্তবতা

অনেকেই মনে করেন, জনসংখ্যা কমলে মাথাপিছু আয় বাড়বে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। কিন্তু এই ধারণার পেছনে থাকা অর্থনৈতিক ঝুঁকিগুলো ভয়ংকর। এশিয়া টাইমসের প্রতিবেদনে সেসব ঝুঁকিগুলো উল্লেখ করেছেন সাংবাদিক নোয়াম স্মিথ। আর সেগুলো হলো–

বয়স্ক জনসংখ্যার বোঝা: জনসংখ্যা কমলে সমাজ দ্রুত বুড়িয়ে যায়। ১৯৯০-এর দশকে আমেরিকায় প্রতি ৫ জন কর্মক্ষম মানুষের বিপরীতে ১ জন বৃদ্ধ ছিলেন। এখন তা ৪ জনে নেমে এসেছে। জাপানে এই অনুপাত ২:১। অর্থাৎ, কর্মক্ষম তরুণদের ওপর ট্যাক্স এবং বয়স্কদের সেবা দেওয়ার ভার দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে।

অবকাঠামোগত স্থবিরতা: বৈশ্বিক বিদ্যুৎ গ্রিড, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং রাস্তাঘাট একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়। জনসংখ্যা অর্ধেক হয়ে গেলে এই বিশাল অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের মতো জনবল বা অর্থ কোনোটাই থাকবে না। ফলে অনেক শহর ভূতুড়ে জনপদে পরিণত হতে পারে।

উৎপাদনশীলতার সংকট: বলা হয় রোবট বা এআই মানুষের অভাব পূরণ করবে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক শ্রমশক্তি নতুন উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তরুণদের চেয়ে পিছিয়ে থাকে। এ ছাড়া গবেষক বা বিজ্ঞানীর সংখ্যা কমে গেলে প্রযুক্তির উন্নতির গতিও মন্থর হয়ে যায়।

অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা: জনসংখ্যা কমলে বিনিয়োগের সুযোগ কমে যায়। আবাসন বা সম্পদের চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজারমূল্য পড়ে যায়। ফলে মানুষকে তাদের অবসরের জন্য সঞ্চয় করতে আরও বেশি হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হবে।

সমাধান কি টাকা দিয়ে কেনা সম্ভব?

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, অনেক দেশ মানুষকে সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে বিশাল অঙ্কের বোনাস ঘোষণা করেছে। চীন তাদের মধ্যে অন্যতম। হাঙ্গেরি ও দক্ষিণ কোরিয়া এতে বিপুল অর্থ ঢাললেও ফলাফল ছিল হতাশাজনক। দক্ষিণ কোরিয়া প্রতি মাসে ৭০০ ডলার সমপরিমাণ ‘বেবি বোনাস’ দিলেও জন্মহারের পতন মাত্র ৪.৭% ঠেকানো গেছে।

বিশ্লেষক লিম্যান স্টোনের মতে, জন্মহার ২.১-এ ফিরিয়ে নিতে হলে প্রতিটি পরিবারকে বছরে ৫,০০০ থেকে ২৩,০০০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত সুবিধা দিতে হবে, যা কোনো সরকারের পক্ষেই দীর্ঘমেয়াদে সম্ভব নয়।

জলবায়ু পরিবর্তন বা অতিমারির মতো জনতাত্ত্বিক সংকটকেও এখন একটি ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গবেষকরা প্রস্তাব করছেন একটি ‘ফার্টিলিটি পলিসি রিসার্চ সেন্টার’ স্থাপনের। যেহেতু এটি একটি সামাজিক সমস্যা, তাই এর সমাধানের জন্য বিলিয়ন ডলারের গবেষণার প্রয়োজন।

সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদন মতে, বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক বারবার এই জনসংখ্যা ধসকে মানবসভ্যতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মাস্কের মতো ব্যক্তিরা যদি তাদের সম্পদের মাত্র ১ শতাংশও এই গবেষণায় ব্যয় করেন, তবে হয়তো বিশ্ববাসী জানতে পারবে–কেন আধুনিক মানুষ সন্তান নিতে বিমুখ হচ্ছে? সোশ্যাল মিডিয়া, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা নাকি জীবনযাপনের ধরন–এর প্রধান কারণ?

যদি আজ এই সমস্যাকে গুরুত্ব না দিয়ে কেবল সান্ত্বনামূলক যুক্তির পেছনে সবাই লুকিয়ে থাকে, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক জনশূন্য ও জরাজীর্ণ পৃথিবীর সম্মুখীন হবে। চীনের চোখ ধাঁধানো বুলেট ট্রেন বা রোবট ওয়েটাররা হয়তো থাকবে, কিন্তু সেগুলো উপভোগ করার মতো মানুষ থাকবে না।

এখনই সময় বিজ্ঞান ও গবেষণার মাধ্যমে এই নিঃশব্দ বিপর্যয় ঠেকানোর পথ খোঁজার।

বিষয়: দক্ষিণ কোরিয়াইউরোপউন্নয়নইতালিচীনভারতআজকের বিশ্বজনসংখ্যা
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড