নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর শঙ্কা ছিল, ত্রয়োদশ নির্বাচনে প্রচার সহজ হবে না। বিএনপির নেতা কাজী শাওন আলম যখন জানতে পারলেন যে, তার সহকর্মী ও কর্মী আজিজুর রহমান মুসাব্বির গত ৭ জানুয়ারি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন, তখন তার কাছে এই আশঙ্কাই সত্যি হলো।
মুসাব্বিরের হত্যাকাণ্ড শাওনের কাছে ব্যক্তিগত শোকের মতো ছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে শাওন ও মুসাব্বির চারবার একসঙ্গে জেল খেটেছিলেন।
শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন, গণগ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ড এবং গুমের মতো গুরুতর অভিযোগ ছিল।
অনেক বাংলাদেশির বিশ্বাস ছিল যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে হাসিনার পতন এবং ভারতে পালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ভয়ের সেই যুগের অবসান ঘটেছে।
শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসা নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ নেই ঠিকই, তবে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা শাওন বলেন, “পুলিশ বলছে মুসাব্বিরের হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না, কিন্তু ভয় তো আর সহজে দূর হয় না। আমরা কারও সাথে কোনো হত্যাকাণ্ড বা সংঘাত চাই না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, নির্বাচনের সময় সহিংসতা অনিবার্য মনে হয়।”
হাসিনা সরকারের ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের কঠোর শাসনের অবসানের পর এই প্রথম বাংলাদেশে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে প্রায় ১২ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এই নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ওপর একটি গণভোটও পরিচালনা করছে।
তবে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড, হুমকি এবং রাজপথের সংঘর্ষগুলো পুরনো সেই নির্বাচনী সহিংসতার ভয়কেই জাগিয়ে তুলছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই বাংলাদেশে এমন চিত্র নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে বিএনপি একটি জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী আরেকটি জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীদের গঠিত দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’।
এই জোটগুলোর বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (যারা জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে এসেছে) এবং আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের মিত্র জাতীয় পার্টি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে লড়ছে। তবে ২০২৫ সালের মে মাসে ইউনূস প্রশাসন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করায় তারা এই নির্বাচনে অনুপস্থিত রয়েছে।
ঢাকার কেরাণীগঞ্জের স্থানীয় বিএনপি নেতা ৪২ বছর বয়সী হাসান মোল্লা গত ২৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে বসে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন। এর পরদিন ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান; তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য এখনো অস্পষ্ট।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে হাসান মোল্লা ছিলেন সর্বশেষ শিকার।
এর মাত্র কয়েক দিন আগে, রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় নিজ বাসভবনে জামায়াতের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা ৬৫ বছর বয়সী আনোয়ারুল্লাহ নিহত হন। পুলিশ এই ঘটনাকে ‘ডাকাতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
তরুণ নেতা শরীফ ওসমান হাদি। ছবি: এআই দিয়ে তৈরিএই মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়েছিল ডিসেম্বরে তরুণ নেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
১২ ডিসেম্বর মোটরসাইকেলে আসা বন্দুকধারীদের গুলিতে হাদি আহত হন এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার এই মৃত্যু দেশজুড়ে চরম অস্থিরতা ও নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগের জন্ম দেয়।
যদিও এসব হত্যাকাণ্ডের কোনোটিকেই দাপ্তরিকভাবে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক কর্মীদের কাছে এই ব্যাখ্যা কোনো স্বস্তি বয়ে আনছে না।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে যে ১৬ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৩ জনই বিএনপির নেতা-কর্মী। বাকিদের মধ্যে রয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি, জামায়াত নেতা আনোয়ারুল্লাহ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের একজন নেতা।
দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে সাতজনই সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন, যা দেশে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যাপক উপস্থিতির বিষয়টিকেই সামনে এনেছে।
সরকারি তথ্যমতে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর কাছ থেকে লুণ্ঠিত ৩ হাজার ৬১৯টি অস্ত্রের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩৬০টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। যদিও নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা বাহিনী লুণ্ঠিত অস্ত্রের প্রায় ৬২ শতাংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, তবে এখনো বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও অস্ত্র নিখোঁজ রয়ে গেছে।
‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি’র (এইচআরএসএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে দেশজুড়ে অন্তত ৬২টি নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। অনেক বাংলাদেশির কাছে এই প্রাণহানিগুলো কয়েক দশকের রাজনৈতিক সহিংসতার তিক্ত স্মৃতিকে আবারও ফিরিয়ে আনছে।
ঢাকাভিত্তিক ‘সেন্টার ফর অল্টারনেটিভস’ পরিচালিত নির্বাচনী সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী উদ্যোগ ‘বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরির’ (বিপিও) একটি তুলনামূলক মানচিত্র দেখাচ্ছে যে, বছরের পর বছর ধরে নির্বাচনের সময় নিহতের সংখ্যায় ব্যাপক তারতম্য রয়েছে।
নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী সময়ের একটি আদর্শ মানদণ্ড ব্যবহার করে বিপিও-এর পরিসংখ্যানে দেখা যায়:
১৯৯১ সালের নির্বাচনে: ৪৯ জন নিহত।
২০০৮ সালের নির্বাচনে: ২১ জন নিহত।
২০১৪ সালের নির্বাচনে: ১৪২ জন নিহত (যে নির্বাচনটি প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াত বর্জন করেছিল)।
২০১৮ এবং ২০২৪ সালের পরবর্তী নির্বাচনগুলো শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেগুলোকে মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং বিরোধী দলগুলো ‘একতরফা’ এবং ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। তা সত্ত্বেও সহিংসতা থেমে থাকেনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মাত্র চার দিনে ৪৭টি নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছিলেন, যাতে ৮ জন নিহত এবং ৫৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের দিনেই অন্তত ২১ জন নিহত হন এবং প্রায় ৪০০ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসের এই ধারাবাহিকতাই বলে দিচ্ছে যে, হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে প্রথম প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের আগে জনমনে কেন এত গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হচ্ছে লুট হওয়া অস্ত্র। ছবি: চরচাতফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক প্রচার তুঙ্গে ওঠার সাথে সাথে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন রাজপথের সংঘাতে রূপ নিতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা জনসমক্ষে প্রকট হয়ে উঠছে।
গত ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকার মিরপুর এলাকায় এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন আহত হন। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার মাত্র এক দিন আগে এই ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, জামায়াতের দুইজন নারী কর্মী নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে কাকতালীয়ভাবে বিএনপির এক নেতার অ্যাপার্টমেন্টে ভোট চাইতে গেলে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
জনবহুল এই আসনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী। এই ঘটনার পর থেকে মিরপুরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, কারণ উভয় দলের কর্মীরাই এলাকায় ব্যাপক মহড়া দিচ্ছে।
সহিংসতার স্থান থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে থাকেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, “আমাদের মতো সাধারণ ভোটারদের জন্য এটি সত্যিই একটি ভীতিজনক পরিস্থিতি। আমরা কোনো সংঘর্ষ চাই না; আমরা শুধু শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে চাই।”
বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলের নেতারাই একে অপরের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলছেন এবং নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
জামায়াত নেতা জুবায়ের আহমেদ বলেন, “নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, আমরা বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করছি। সারা দেশে আমাদের কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে, প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মিরপুরে আমাদের নারী কর্মীদের ওপরও হামলা হয়েছে।”
অন্যদিকে, বিএনপির নির্বাচনী সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা নেতা সাইমুম পারভেজ অভিযোগ করেন যে, জামায়াত কর্মীরা বেআইনিভাবে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করছে। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “রাজনৈতিক কর্মীদের সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডগুলোকে কেবল অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, “নির্বাচন ভণ্ডুল করার লক্ষ্যে এর মধ্যে কিছু পরিকল্পিত বা টার্গেটেড কিলিং হতে পারে।”
সাইমুম পারভেজ আরও অভিযোগ করেন যে, জামায়াত অনলাইনে অপপ্রচার চালাচ্ছে যা বাস্তবে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচন যদি কোনোভাবে ‘নিয়ন্ত্রিত’ হচ্ছে বলে মনে হয়, তবে তা সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে।
কুড়িগ্রামের একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুটি স্থানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালানোর সময় বিএনপি ও জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়ে পড়লে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, “অনেক বছর পর নির্বাচনকে আবারও উৎসবের মতো মনে হচ্ছে। অনেক সাধারণ মানুষ এতে যুক্ত হচ্ছে, তবে এর অর্থ হলো সংঘাতের ঝুঁকিও বেড়ে গেছে। পুলিশ তো আর সব জায়গায় একসাথে থাকতে পারে না।”
বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) এএইচএম শাহাদাত হোসেন জানান, কর্তৃপক্ষ ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, “সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।’’
হোসেন স্বীকার করেন যে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের অস্থিরতার সময় লুট হওয়া কিছু অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “নির্বাচনী সহিংসতায় সেগুলোর ব্যবহার রোধ করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: বাসসস্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ ৮ হাজার ৭৩০ জন সদস্যসহ মোট প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর বড় একটি অংশ মোতায়েন করা হবে।
সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষ প্রসঙ্গে শাহাদাত হোসেন বলেন, পুলিশ রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি ঘটনাকে অপরাধমূলক কাজ হিসেবে তদন্ত করছে। তিনি যোগ করেন, “জড়িতদের আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।” পুলিশ জীবন ও ভোটাধিকার রক্ষায় পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে কঠোর সমন্বয়ের কারণে বিগত জাতীয় নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার সহিংসতার হার এখন পর্যন্ত কম।
গত রোববার ঢাকায় বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিংকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই ব্রিফিং চলাকালেই উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে নির্বাচনি প্রচার নিয়ে জামায়াত ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
এদিকে, নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা গত শনিবার তার সমর্থকদের ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যা ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ‘সুজন’-এর প্রধান বদিউল আলম মজুমদার সতর্ক করে বলেন, ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তিনি বলেন, “আসল চ্যালেঞ্জ হলো-দাপ্তরিক আশ্বাসগুলো কি বর্তমান পরিস্থিতি এবং অতীতের ইতিহাস থেকে জন্ম নেওয়া মানুষের ভয়কে দূর করতে পারবে?”