ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার তার দলের এক এমপির কাছ থেকে নেতৃত্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাবেক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্টের ‘রেডিও ৪’-এর এক প্রোগ্রামে দেওয়া সাক্ষাৎকার নিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ওই সাক্ষাৎকারে স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।
লেবার পার্টির অনেক এমপি জানিয়েছেন, তারা এটি আগে থেকে বুঝতে পারেননি। পার্টির বামপন্থী এক নেতা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এসব কী হচ্ছে?”
অন্য একজন বলেন, “ভয়ংকর ব্যাপার।” একইভাবে একজন সাবেক 'ফ্রন্টবেঞ্চার' ওয়েস্টের এই পদক্ষেপকে ‘উন্মাদনা’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে অন্য একজন এমপি জানান, কিছু এমপি ওয়েস্টের এই পরিকল্পনার কথা আগেই জানতেন।
তারা এই পদক্ষেপকে মূলত ‘হতাশা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে দেখছেন। একজন মন্ত্রীর মতে, এটি একটি ‘আর্তনাদ’। যা প্রতিফলন করে লেবার পার্টির অনেক মানুষ কতটা ব্যথিত। একজন এমপি বলেন, “অনেকেই তাদের এলাকায় নিজেদের সামাজিক সার্কেল হারিয়েছেন। প্রিয় বন্ধুরা, যারা কাউন্সিলর হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, তাদের দল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং এতে তাদের কোনো দোষ ছিল না।”
ডাউনিং স্ট্রিট বা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ওয়েস্টের এই চ্যালেঞ্জকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করছে এবং সম্ভাব্য নেতৃত্বের পদের দাবিদাররা এতে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করছেন। হতে পারে এই উত্তেজনা সময়ের সঙ্গে শেষ হয়ে যাবে। তবে অন্য এক এমপির মতে, এটি হয়তো ‘স্থবিরতা ভাঙতে সাহায্য করবে,’ কারণ এর মাধ্যমে অন্য এমপিরা নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাদের মতামত প্রকাশের একটি সুযোগ পাবেন।
নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জের নিয়ম ও বর্তমান অবস্থা
একটি আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ শুরু করার জন্য ২০ শতাংশ লেবার এমপি অর্থাৎ ৮১ জনের সমর্থনের প্রয়োজন। ক্যাথরিন ওয়েস্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে তার পাশে মাত্র ১০ জন সমর্থক আছেন, যা প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে অনেক কম।
কিছু এমপি মনে করছেন, তার এই প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
ডানপন্থী একজন এমপি বলেন, এটি উল্টো প্রধানমন্ত্রীর জন্য সহায়ক হতে পারে। যদি তিনি পর্যাপ্ত সমর্থক না পান, তবে স্যার স্টারমার ঘোষণা করতে পারবেন যে নেতৃত্বের পরিবর্তনের জন্য দলে কোনো আগ্রহ নেই এবং তিনি নিজের কাজ চালিয়ে যাবেন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ অন্য কিছু নেতা মনে করছেন, ওয়েস্ট হয়তো প্রয়োজনীয় সমর্থন পেয়েও যেতে পারেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। ছবি: রয়টার্সদলের ভেতরে স্যার কিয়ার স্টারমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোনো বড় প্রতিদ্বন্দ্বী তার বিরুদ্ধে নামতে পারেন। একজন লেবার নেতা বলেছেন, “মূলত অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে হারানোর ক্ষমতা কারোর নেই। তাই আপনি যদি অ্যান্ডি ছাড়া অন্য কাউকে চান, তবে এই চ্যালেঞ্জটি এখনই হওয়া দরকার।”
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ফ্যাক্টর
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বর্তমানে এমপি নন, যা তাকে নেতৃত্বের লড়াই থেকে দূরে রাখছে। এর আগে গোর্টন ও ডেন্টন উপ-নির্বাচনে তাকে দাঁড়াতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। কারণ দল ভয় পাচ্ছিল যে তিনি জিতলে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ জানাবেন। পরে সেই আসনে গ্রিন পার্টি লেবারদের হারিয়ে দেয়।
বার্নহ্যামের সমর্থকদের পরিকল্পনা হলো, প্রায় ২০ জন এমপি ইতোমধ্যে কিয়ার স্টারমারকে তার পদত্যাগের সময়সীমা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন। যদি তিনি সেটি করেন, তবে দলের ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটি সম্ভবত বার্নহ্যামকে সংসদে ফিরে আসার পথে আর বাধা দেবে না। তাদের আশা, বার্নহ্যামের গ্রহণযোগ্যতা এতোটাই বেশি যে কোনো বিশৃঙ্খল লড়াই ছাড়াই তিনি ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করতে পারবেন।
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। ছবি: রয়টার্সতবে ক্যাথরিন ওয়েস্ট যদি এখনই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করে দেন, তবে বার্নহ্যাম বাদ পড়ে যাবেন। তাই বার্নহ্যামের সমর্থকরা ওয়েস্টকে তার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে তাদের সাথে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন।
স্টারমারের অবস্থান ও পরবর্তী পদক্ষেপ
স্যার কিয়ার স্টারমার অবশ্য পদত্যাগের সব সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভারকে জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দিতে এবং দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত তিনি।
ওয়েস্টমিনিস্টারে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তাকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করতে হয়তো ক্যাবিনেট পর্যায়ের মন্ত্রীদের পদত্যাগের প্রয়োজন হবে। তবে এই মুহূর্তে প্রথম পদত্যাগকারী হিসেবে ঝুঁকি নেওয়ার মতো উৎসাহ কারো মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।
আগামী সোমবার স্যার কিয়ার স্টারমার একটি বক্তৃতা দেবেন। যার মাধ্যমে তার প্রধানমন্ত্রিত্ব আবার গুছিয়ে নেবার চেষ্টা করবেন। যেখানে স্টারমার তার লক্ষ্য তুলে ধরবেন। এছাড়া বুধবার পার্লামেন্টের রাষ্ট্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকার তাদের আগামী বছরের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরবে।