ফাহমিদা-শিকদার

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনি আগামীকাল বৃহস্পতিবারের নির্বাচনের মাধ্যমে তার চার দশকের শাসনকালকে আরও দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করবেন। ৮১ বছর বয়সী এই নেতার সম্ভাব্য উত্তরসূরি কে হবেন–এই নির্বাচন সেই প্রশ্নটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উগান্ডার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মুসেভেনির কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, যার ফলে প্রেসিডেন্ট এবং সংসদীয় নির্বাচনে তার এবং তার দল ‘ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স মুভমেন্টের’ বিজয় প্রায় সুনিশ্চিত।
অন্যদিকে রয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী ববি ওয়াইন। গায়ক থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া এই ব্যক্তির আসল নাম রবার্ট কিয়াগুলানি। তিনি উগান্ডার সবচেয়ে জনপ্রিয় বিরোধী প্রার্থী। তিনি মাথায় লাল ব্যারেট এবং বুলেটপ্রুফ ভেস্ট চাপিয়ে প্রচারণা চালান। অন্যদিকে তার সমর্থকদের ওপর চালানো হয় লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস। ওয়াইনের কাছে এটি কোনো নির্বাচন নয়, এটি একটি ‘যুদ্ধ’।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান মুগিশা মুন্টু, যিনি একজন দুর্নীতিবিরোধী প্রচারক। এবং নন্দলা মাফাবি, যিনি একজন সংসদ সদস্য এবং পূর্বে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হচ্ছে, তার ওপর দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
মুসেভিনির ‘সিনেমাটিক’ উত্থান
মুসেভিনিকে এক সময় বলা হতো গণতন্ত্রের ‘মানসপুত্র’। আশির দশকে তাকে দেখা হতো উগান্ডার ‘ত্রাতা’ হিসেবে। অথচ সেই ত্রাতাই একসময় হয়ে ওঠেন উগান্ডাবাসীর ‘গলার কাঁটা’।
মুসেভেনি খ্রিস্টান যাযাবর পশুপালক পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তার শিক্ষার হাতেখড়ি অভিজাত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবং পরবর্তীতে তিনি তানজানিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। দেশে ফেরার পর তিনি তৎকালীন স্বৈরশাসক ইদি আমিনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। ইদি আমিনের পতন ঘটে এই আন্দোলনের মাধ্যমে।
তার বিদায়ের পর ১৯৮০ সালে মিল্টন ওবোতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে উগান্ডার রাজনৈতিক অস্থিরতা থামেনি; ১৯৮৫ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ওবোতে ক্ষমতাচ্যুত হন। এর মাত্র এক বছরের মাথায় ১৯৮৬ সালে মুসেভেনির নেতৃত্বাধীন ‘ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স মুভমেন্ট (এনআরএম)’-এর সামরিক শাখা তৎকালীন শাসক টিটো ওকেলোকে হটিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে।
১৯৮৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণের সময় মুসেভেনি শপথ অনুষ্ঠানে বলেন, “এটি কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, এটি আমাদের দেশের রাজনীতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তন।” তিনি আরও বলেন, “সামগ্রিকভাবে আফ্রিকার এবং বিশেষ করে উগান্ডার সমস্যা জনগণ নয়, বরং সেইসব নেতারা, যারা ক্ষমতায় অতিরিক্ত সময় থাকতে চান।’’
দিন এগিয়েছে আর মুসেভিনি তার বক্তব্যও ভুলে গিয়েছেন। ২০০৫ সালে উগান্ডার পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদসীমা তুলে দিলে সমালোচকরা অভিযোগ করেন, মুসেভেনিকে আজীবন ক্ষমতায় রাখার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শুরুতে তার প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো ছিল ইতিবাচক। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে তার সাফল্য পশ্চিমা দেশগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। তবে সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও লাগামহীন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং দীর্ঘ শাসনকাল নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে।
প্রধান ইস্যুগুলো কী কী?
কথায় বলে স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। মুসেভিনি যেন সেই দীক্ষায় দীক্ষিত। তিনি বর্তমানে তার আমলে অর্জিত সাফল্য রক্ষার স্লোগান নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এখানে তিনি তার শাসনামলে আপেক্ষিক ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা’র রেকর্ডকে তুলে ধরেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুসেভিনির নির্বাচনী ইশতেহারে আছে, দেশের উৎপাদন শিল্পকে চাঙ্গা করা। কফি ও তুলার মতো কৃষিজাত রপ্তানি পণ্যের মান উন্নয়ন এবং চলতি বছরের শেষের দিকে শুরু হতে যাওয়া তেল উৎপাদনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি উগান্ডাকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা।
অন্যদিকে, ববি ওয়াইন রাজনৈতিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি মনে করেন মুসেভিনি একজন একনায়ক। ওয়াইন মুসেভেনির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগগুলো একদমই অমূলক নয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকার প্রতিবেদন (২০২০) অনুযায়ী, উগান্ডায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে স্বেচ্ছাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতা ব্যাপক। এজন্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন, অমানবিক কারা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শুধু বিরোধী দলের সমর্থক হওয়ায় জেলে পচতে হচ্ছে বহু মানুষকে। বাক্ ও চিন্তার স্বাধীনতা নেই, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নেই। ইন্টারনেটও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। উগান্ডার সাংবাদিক ও অধিকারকর্মী আগাথার আতুহাইরে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আইনহীনতা এখন এক ভিন্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।”
তবে সরকার ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াইন তার নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতি নির্মূল করা, যুবকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করার মতো বিষয়গুলোকে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া গুরুত্ব পেয়েছে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত উৎপাদন-অংশীদারিত্ব চুক্তিগুলো পর্যালোচনার বিষয়টি।
উল্লেখ্য, উগান্ডায় দুই দশক আগে তেলের খনির সন্ধান পাওয়া যায়। চলতি বছর থেকে সেখান থেকে তেল উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। তেলখাতের উন্নয়নের জন্য টোটালএনার্জি ও সিএনওওসির মতো আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানির সঙ্গে পাইপলাইন নির্মাণের চুক্তিও হয়েছে। আরও কিছু আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানির নজর রয়েছে উগান্ডার তেলের খনির দিকে। ওয়াইন জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচিত হলে এই চুক্তিগুলো যদি উগান্ডার স্বার্থের অনুকূলে কি না তা সবার আগে খতিয়ে দেখবেন।
অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা কি দেখা দিতে পারে?
উগান্ডায় একের পর এক নির্বাচনগুলোতে সহিংসতা এবং সরকারি বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়নের কলঙ্ক লেপন হয়েছে। ২০২১ সালের সর্বশেষ নির্বাচনের আগে ওয়াইনের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। সেই স্মৃতি আজও বিরোধীদের তাড়া করে ফেরে।
এ বছরের নির্বাচনের আগেও শত শত বিরোধী সমর্থককে আটক করা হয়েছে এবং অন্তত একজন প্রচারণার অনুষ্ঠানে প্রাণ হারিয়েছেন। গত মাসে মুসেভিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “দয়া করে তার (ববি ওয়াইন) কথা শুনবেন না, কারণ প্রত্যেক সৈনিকের কাছে ১২০টি করে বুলেট আছে।”
ধারণা করা হচ্ছে, এবারের নির্বাচনেও ছলে-বলে-কৌশলে জিতে যাবেন মুসেভিনি। এজন্য তার মনোযোগ কেবল ব্যালট বাক্সের দিকেই নয়, বরং নির্বাচন-পরবর্তী ভিন্নমত বা গণঅসন্তোষ দমনের দিকেও। অতীতে মুসেভিনি তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং চারবারের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কিজ্জা বেসিগিয়েকে কারারুদ্ধ করেছেন। বেসিগিয়ে ২০১১ সাল থেকে উগান্ডায় ‘আরব বসন্ত’র মতো অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
ওয়াইনের দলের সাধারণ সম্পাদক ডেভিড লুইস রুবোঙ্গোইয়া দ্য ইকোনমিস্টকে বলেন, “যদি নির্বাচনে কারচুপি হয়, তবে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।” কিন্তু পরিস্থিতি কতদূর পর্যন্ত টেনে নেওয়া উচিত–তা নিয়ে তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তাও কাজ করছে।
কারণ তারা ভালো করেই জানেন যে, এর পরিণতিতে নিশ্চিতভাবেই রক্তপাত ঘটবে। ওয়াইনের দলের একজন সংগঠক নাম প্রকাশ না করা শর্তে দ্য ইকোনমিস্টকে বলেন, “মানুষ রাজপথে নামতে ইচ্ছুক, কিন্তু আমাদের সঠিক নেতৃত্বের অভাব রয়েছে।” অন্যদিকে, দমন-পীড়নের ফলে অনেক কর্মীই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া এখনি অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুসেভিনির পতন ঘটার সম্ভাবনা বর্তমানে ক্ষীণ। যদি কখনো ঘটে, তবে তা হবে কেবল সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে। সেখানেও একটি ‘কিন্তু’ রয়েছে। কারণ উগান্ডার বর্তমান সেনাবাহিনীর প্রধান হলেন, মুসেভিনির ‘উদ্ভট’ ছেলে মুহুজি কাইনেরুগাবা। অন্যদিকে মুসেভিনির ভাই জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সালিম সালেহ হলেন তার সশস্ত্র বাহিনী-বিষয়ক উপদেষ্টা।
দ্য ইকোনমিস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালিম সালেহ জনসমক্ষে খুব একটা না এলেও তার উপস্থিতি সর্বত্র অনুভূত হয়, যেন তিনি এক ছায়া-সহরাষ্ট্রপতি। উগান্ডার রাজনীতিতে তারা একসঙ্গে এক সর্বশক্তিমান ত্রয়ী বা ‘ট্রিনিটি’: পিতা, পুত্র ও এক ‘অশুভ আত্মা’।
মুসেভেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হলেন জেনারেল কাইনেরুগাবা, যিনি প্রকাশ্যেই এই পদের জন্য লবিং করে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বেসিগিয়েকে ফাঁসি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, ওয়াইনের শিরশ্ছেদ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং সেনাবাহিনীকেও একটি ‘কিলিং মেশিন’-এ পরিণত করার অঙ্গীকার করেছেন। বোঝায় যাচ্ছে, এই কিলিং মেশিন সহজে চাইবে না মুসেভিনিকে ক্ষমতার গদি থেকে নামাতে।
এখানে জাতিগত দাঙ্গারও একটা ক্ষীণ সম্ভাবনার কথা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কাইনেরুগাবার কিছু পোস্টে তিনি নিজের জাতিগোষ্ঠী ‘বানিয়াঙ্কোর’দের নিয়ে বড়াই করেন এবং কখনো কখনো ওয়াইনের গোষ্ঠী ‘বাগান্ডা’দের শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিদ্রূপ করেন। এই ধরণের উগ্র স্বাজাত্যবোধ মূলত বানিয়াঙ্কোর এবং পশ্চিম উগান্ডার অন্যান্য গোষ্ঠীগুলোর (যারা বর্তমানে রাষ্ট্রের উচ্চপদগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যায় আসীন রয়েছেন) বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ উস্কে দিচ্ছে।
বিদেশি শক্তিগুলোর স্বার্থ কী?
মুসেভেনির শাসনামলে উগান্ডা পশ্চিমা দেশগুলোর একটি কৌশলগত মিত্রে পরিণত হয়েছে। দেশটি সোমালিয়ার ‘আল-শাবাব’ এবং অঞ্চলের অন্যান্য উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সেনা পাঠিয়ে থাকে। এ ছাড়া, উগান্ডা বর্তমানে আফ্রিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে।
আমেরিকা ২০২১ সালের নির্বাচনকে অবাধ বা সুষ্ঠু নয় বলে সমালোচনা করেছিল এবং কিছু উগান্ডান কর্মকর্তার ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে ওয়াশিংটন এ বছরের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার সম্ভাবনা কম; কারণ গত জুলাই মাসে মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা বিদেশি নির্বাচনের স্বচ্ছতা বা নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মুসেভেনি সরকার তৃতীয় দেশের নাগরিক এমন নির্বাসিত ব্যক্তিদের (যাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হচ্ছে) আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে গত আগস্টে একটি চুক্তি সই করে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সুদৃষ্টি অর্জন করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিমাদের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে উগান্ডা এর বাইরের অন্যান্য শক্তি অর্থাৎ চীন, রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছে। চীনের ‘চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল কর্পোরেশন’ উগান্ডার লেক অ্যালবার্ট এলাকার তেলখনির প্রধান দুটি অংশীদারের একটি। মুসেভিনি ক্ষমতায় বহাল থাকলে চুক্তিগুলো কার্যকর হবে। তেল উত্তোলন হলে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হবে। কিন্তু এতে মুসেভিনি ও তার অধীনে থাকা দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী ছাড়া সাধারণ মানুষের কোন লাভের সম্ভাবনা নেই।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে হয়তো খুব বেশি উত্তেজনা বা অনিশ্চয়তা নেই, তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই ভোটের দিকে তাকিয়ে আছেন মূলত এটি ভবিষ্যতের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থিতা বা ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পর্কে কী ইঙ্গিত দেয় তা বোঝার জন্য।

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনি আগামীকাল বৃহস্পতিবারের নির্বাচনের মাধ্যমে তার চার দশকের শাসনকালকে আরও দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করবেন। ৮১ বছর বয়সী এই নেতার সম্ভাব্য উত্তরসূরি কে হবেন–এই নির্বাচন সেই প্রশ্নটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উগান্ডার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মুসেভেনির কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, যার ফলে প্রেসিডেন্ট এবং সংসদীয় নির্বাচনে তার এবং তার দল ‘ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স মুভমেন্টের’ বিজয় প্রায় সুনিশ্চিত।
অন্যদিকে রয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী ববি ওয়াইন। গায়ক থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া এই ব্যক্তির আসল নাম রবার্ট কিয়াগুলানি। তিনি উগান্ডার সবচেয়ে জনপ্রিয় বিরোধী প্রার্থী। তিনি মাথায় লাল ব্যারেট এবং বুলেটপ্রুফ ভেস্ট চাপিয়ে প্রচারণা চালান। অন্যদিকে তার সমর্থকদের ওপর চালানো হয় লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস। ওয়াইনের কাছে এটি কোনো নির্বাচন নয়, এটি একটি ‘যুদ্ধ’।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান মুগিশা মুন্টু, যিনি একজন দুর্নীতিবিরোধী প্রচারক। এবং নন্দলা মাফাবি, যিনি একজন সংসদ সদস্য এবং পূর্বে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হচ্ছে, তার ওপর দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
মুসেভিনির ‘সিনেমাটিক’ উত্থান
মুসেভিনিকে এক সময় বলা হতো গণতন্ত্রের ‘মানসপুত্র’। আশির দশকে তাকে দেখা হতো উগান্ডার ‘ত্রাতা’ হিসেবে। অথচ সেই ত্রাতাই একসময় হয়ে ওঠেন উগান্ডাবাসীর ‘গলার কাঁটা’।
মুসেভেনি খ্রিস্টান যাযাবর পশুপালক পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তার শিক্ষার হাতেখড়ি অভিজাত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবং পরবর্তীতে তিনি তানজানিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। দেশে ফেরার পর তিনি তৎকালীন স্বৈরশাসক ইদি আমিনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। ইদি আমিনের পতন ঘটে এই আন্দোলনের মাধ্যমে।
তার বিদায়ের পর ১৯৮০ সালে মিল্টন ওবোতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে উগান্ডার রাজনৈতিক অস্থিরতা থামেনি; ১৯৮৫ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ওবোতে ক্ষমতাচ্যুত হন। এর মাত্র এক বছরের মাথায় ১৯৮৬ সালে মুসেভেনির নেতৃত্বাধীন ‘ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স মুভমেন্ট (এনআরএম)’-এর সামরিক শাখা তৎকালীন শাসক টিটো ওকেলোকে হটিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে।
১৯৮৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণের সময় মুসেভেনি শপথ অনুষ্ঠানে বলেন, “এটি কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, এটি আমাদের দেশের রাজনীতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তন।” তিনি আরও বলেন, “সামগ্রিকভাবে আফ্রিকার এবং বিশেষ করে উগান্ডার সমস্যা জনগণ নয়, বরং সেইসব নেতারা, যারা ক্ষমতায় অতিরিক্ত সময় থাকতে চান।’’
দিন এগিয়েছে আর মুসেভিনি তার বক্তব্যও ভুলে গিয়েছেন। ২০০৫ সালে উগান্ডার পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদসীমা তুলে দিলে সমালোচকরা অভিযোগ করেন, মুসেভেনিকে আজীবন ক্ষমতায় রাখার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শুরুতে তার প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো ছিল ইতিবাচক। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে তার সাফল্য পশ্চিমা দেশগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। তবে সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও লাগামহীন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং দীর্ঘ শাসনকাল নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে।
প্রধান ইস্যুগুলো কী কী?
কথায় বলে স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। মুসেভিনি যেন সেই দীক্ষায় দীক্ষিত। তিনি বর্তমানে তার আমলে অর্জিত সাফল্য রক্ষার স্লোগান নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এখানে তিনি তার শাসনামলে আপেক্ষিক ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা’র রেকর্ডকে তুলে ধরেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুসেভিনির নির্বাচনী ইশতেহারে আছে, দেশের উৎপাদন শিল্পকে চাঙ্গা করা। কফি ও তুলার মতো কৃষিজাত রপ্তানি পণ্যের মান উন্নয়ন এবং চলতি বছরের শেষের দিকে শুরু হতে যাওয়া তেল উৎপাদনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি উগান্ডাকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা।
অন্যদিকে, ববি ওয়াইন রাজনৈতিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি মনে করেন মুসেভিনি একজন একনায়ক। ওয়াইন মুসেভেনির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগগুলো একদমই অমূলক নয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকার প্রতিবেদন (২০২০) অনুযায়ী, উগান্ডায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে স্বেচ্ছাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতা ব্যাপক। এজন্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন, অমানবিক কারা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শুধু বিরোধী দলের সমর্থক হওয়ায় জেলে পচতে হচ্ছে বহু মানুষকে। বাক্ ও চিন্তার স্বাধীনতা নেই, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নেই। ইন্টারনেটও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। উগান্ডার সাংবাদিক ও অধিকারকর্মী আগাথার আতুহাইরে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আইনহীনতা এখন এক ভিন্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।”
তবে সরকার ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াইন তার নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতি নির্মূল করা, যুবকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করার মতো বিষয়গুলোকে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া গুরুত্ব পেয়েছে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত উৎপাদন-অংশীদারিত্ব চুক্তিগুলো পর্যালোচনার বিষয়টি।
উল্লেখ্য, উগান্ডায় দুই দশক আগে তেলের খনির সন্ধান পাওয়া যায়। চলতি বছর থেকে সেখান থেকে তেল উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। তেলখাতের উন্নয়নের জন্য টোটালএনার্জি ও সিএনওওসির মতো আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানির সঙ্গে পাইপলাইন নির্মাণের চুক্তিও হয়েছে। আরও কিছু আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানির নজর রয়েছে উগান্ডার তেলের খনির দিকে। ওয়াইন জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচিত হলে এই চুক্তিগুলো যদি উগান্ডার স্বার্থের অনুকূলে কি না তা সবার আগে খতিয়ে দেখবেন।
অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা কি দেখা দিতে পারে?
উগান্ডায় একের পর এক নির্বাচনগুলোতে সহিংসতা এবং সরকারি বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়নের কলঙ্ক লেপন হয়েছে। ২০২১ সালের সর্বশেষ নির্বাচনের আগে ওয়াইনের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। সেই স্মৃতি আজও বিরোধীদের তাড়া করে ফেরে।
এ বছরের নির্বাচনের আগেও শত শত বিরোধী সমর্থককে আটক করা হয়েছে এবং অন্তত একজন প্রচারণার অনুষ্ঠানে প্রাণ হারিয়েছেন। গত মাসে মুসেভিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “দয়া করে তার (ববি ওয়াইন) কথা শুনবেন না, কারণ প্রত্যেক সৈনিকের কাছে ১২০টি করে বুলেট আছে।”
ধারণা করা হচ্ছে, এবারের নির্বাচনেও ছলে-বলে-কৌশলে জিতে যাবেন মুসেভিনি। এজন্য তার মনোযোগ কেবল ব্যালট বাক্সের দিকেই নয়, বরং নির্বাচন-পরবর্তী ভিন্নমত বা গণঅসন্তোষ দমনের দিকেও। অতীতে মুসেভিনি তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং চারবারের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কিজ্জা বেসিগিয়েকে কারারুদ্ধ করেছেন। বেসিগিয়ে ২০১১ সাল থেকে উগান্ডায় ‘আরব বসন্ত’র মতো অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
ওয়াইনের দলের সাধারণ সম্পাদক ডেভিড লুইস রুবোঙ্গোইয়া দ্য ইকোনমিস্টকে বলেন, “যদি নির্বাচনে কারচুপি হয়, তবে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।” কিন্তু পরিস্থিতি কতদূর পর্যন্ত টেনে নেওয়া উচিত–তা নিয়ে তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তাও কাজ করছে।
কারণ তারা ভালো করেই জানেন যে, এর পরিণতিতে নিশ্চিতভাবেই রক্তপাত ঘটবে। ওয়াইনের দলের একজন সংগঠক নাম প্রকাশ না করা শর্তে দ্য ইকোনমিস্টকে বলেন, “মানুষ রাজপথে নামতে ইচ্ছুক, কিন্তু আমাদের সঠিক নেতৃত্বের অভাব রয়েছে।” অন্যদিকে, দমন-পীড়নের ফলে অনেক কর্মীই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া এখনি অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুসেভিনির পতন ঘটার সম্ভাবনা বর্তমানে ক্ষীণ। যদি কখনো ঘটে, তবে তা হবে কেবল সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে। সেখানেও একটি ‘কিন্তু’ রয়েছে। কারণ উগান্ডার বর্তমান সেনাবাহিনীর প্রধান হলেন, মুসেভিনির ‘উদ্ভট’ ছেলে মুহুজি কাইনেরুগাবা। অন্যদিকে মুসেভিনির ভাই জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সালিম সালেহ হলেন তার সশস্ত্র বাহিনী-বিষয়ক উপদেষ্টা।
দ্য ইকোনমিস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালিম সালেহ জনসমক্ষে খুব একটা না এলেও তার উপস্থিতি সর্বত্র অনুভূত হয়, যেন তিনি এক ছায়া-সহরাষ্ট্রপতি। উগান্ডার রাজনীতিতে তারা একসঙ্গে এক সর্বশক্তিমান ত্রয়ী বা ‘ট্রিনিটি’: পিতা, পুত্র ও এক ‘অশুভ আত্মা’।
মুসেভেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হলেন জেনারেল কাইনেরুগাবা, যিনি প্রকাশ্যেই এই পদের জন্য লবিং করে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বেসিগিয়েকে ফাঁসি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, ওয়াইনের শিরশ্ছেদ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং সেনাবাহিনীকেও একটি ‘কিলিং মেশিন’-এ পরিণত করার অঙ্গীকার করেছেন। বোঝায় যাচ্ছে, এই কিলিং মেশিন সহজে চাইবে না মুসেভিনিকে ক্ষমতার গদি থেকে নামাতে।
এখানে জাতিগত দাঙ্গারও একটা ক্ষীণ সম্ভাবনার কথা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কাইনেরুগাবার কিছু পোস্টে তিনি নিজের জাতিগোষ্ঠী ‘বানিয়াঙ্কোর’দের নিয়ে বড়াই করেন এবং কখনো কখনো ওয়াইনের গোষ্ঠী ‘বাগান্ডা’দের শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিদ্রূপ করেন। এই ধরণের উগ্র স্বাজাত্যবোধ মূলত বানিয়াঙ্কোর এবং পশ্চিম উগান্ডার অন্যান্য গোষ্ঠীগুলোর (যারা বর্তমানে রাষ্ট্রের উচ্চপদগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যায় আসীন রয়েছেন) বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ উস্কে দিচ্ছে।
বিদেশি শক্তিগুলোর স্বার্থ কী?
মুসেভেনির শাসনামলে উগান্ডা পশ্চিমা দেশগুলোর একটি কৌশলগত মিত্রে পরিণত হয়েছে। দেশটি সোমালিয়ার ‘আল-শাবাব’ এবং অঞ্চলের অন্যান্য উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সেনা পাঠিয়ে থাকে। এ ছাড়া, উগান্ডা বর্তমানে আফ্রিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে।
আমেরিকা ২০২১ সালের নির্বাচনকে অবাধ বা সুষ্ঠু নয় বলে সমালোচনা করেছিল এবং কিছু উগান্ডান কর্মকর্তার ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে ওয়াশিংটন এ বছরের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার সম্ভাবনা কম; কারণ গত জুলাই মাসে মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা বিদেশি নির্বাচনের স্বচ্ছতা বা নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মুসেভেনি সরকার তৃতীয় দেশের নাগরিক এমন নির্বাসিত ব্যক্তিদের (যাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হচ্ছে) আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে গত আগস্টে একটি চুক্তি সই করে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সুদৃষ্টি অর্জন করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিমাদের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে উগান্ডা এর বাইরের অন্যান্য শক্তি অর্থাৎ চীন, রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছে। চীনের ‘চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল কর্পোরেশন’ উগান্ডার লেক অ্যালবার্ট এলাকার তেলখনির প্রধান দুটি অংশীদারের একটি। মুসেভিনি ক্ষমতায় বহাল থাকলে চুক্তিগুলো কার্যকর হবে। তেল উত্তোলন হলে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হবে। কিন্তু এতে মুসেভিনি ও তার অধীনে থাকা দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী ছাড়া সাধারণ মানুষের কোন লাভের সম্ভাবনা নেই।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে হয়তো খুব বেশি উত্তেজনা বা অনিশ্চয়তা নেই, তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই ভোটের দিকে তাকিয়ে আছেন মূলত এটি ভবিষ্যতের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থিতা বা ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পর্কে কী ইঙ্গিত দেয় তা বোঝার জন্য।

‘উইন্টার ইজ কামিং’–কী পরিচিত লাগছে? ‘গেম অব থ্রোনস’-এর ভক্তকূল নিশ্চয় চিনতে পারছেন? অনেক দৃশ্য নিশ্চয় মনে আসছে? আসাটাই স্বাভাবিক। উইন্টারফলের সবচেয়ে উচ্চারিত সতর্কবার্তা এটি। তারপর তো কত জল গড়াল। সত্যি সত্যি ক্ষমতার দ্বন্দ্ব যখন তুঙ্গে উঠল দর্শকদের কাছে ধীরে স্পষ্ট হলো–শীতের আগমন বার্তা কেন সতর্ক সং