শহরের চারটি আসন বাদ দিলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলায় মোট ছয়টি সংসদীয় আসন রয়েছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম-১৫) জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে এবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট দক্ষিণে তাদের আসন বাড়াতে মরিয়া চেষ্টা করে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-আংশিক ও সাতকানিয়া)-এর পাশাপাশি আরও দু একটি আসনে তাদের প্রচারণা এবং তৎপরতা বেড়েছে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলায়ও ছয়টি আসন রয়েছে। এখানে সব আসনে বিএনপির অবস্থান ভালো। তবে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বিএনপি প্রার্থীরা ঋণখেলাপি সংক্রান্ত জটিলতায় এলাকায় প্রচারে বেশি সময় দিতে পারেননি। নির্বাচিত হলেও এই দুই প্রার্থীর ফল প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে আদালতের। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
দক্ষিণে জামায়াতের চোখ
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী আগেও এই আসন থেকে দুবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। এবারও আসনটি ধরে রাখতে তৎপর জামায়াত। তাতে মূল বাধা আসনটির লোহাগাড়া অংশের বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমীন।
দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে গত চার দশকে কোনোবার লোহাগাড়া উপজেলা থেকে সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে ধানের শীষের এই প্রার্থী নিয়ে এবার একটা আঞ্চলিকতা জেঁকে বসেছে। সাতকানিয়ার ১১ ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা মিলে যা ভোট তার কাছাকাছি ভোটার রয়েছে পুরো লোহাগাড়া (৯ ইউনিয়ন) উপজেলায়। ভোটার যথাক্রমে সাতকানিয়া অংশে দুই লাখ ৪৯ হাজার ৬১৬ জন এবং লোহাগাড়ায় দুই লাখ ৪২ হাজার ১৭১ জন।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী আগেও এই আসন থেকে দুবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। এবারও আসনটি ধরে রাখতে তৎপর জামায়াত।এ কারণে আসনটিতে জামায়াতের প্রভাব বেশি হলেও বিএনপির সমর্থকরা আশার বেলুনে হাওয়া দিচ্ছেন। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কিছু ভোটও তারা পাবেন বলে আশা করছেন। কারণ এই আসনটিতে ২০১৪ সাল থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন নৌকা নিয়ে নির্বাচন করা জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য মুমিনুল হকের জামাতা আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীন নদভী। এ সময় জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সম্পর্ক ছিল সাপে নেউলে। এবার মোট প্রার্থী তিনজন।
তবে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে যে আসনটিকে জামায়াত শতভাগ নিশ্চিত নিজেদের ধরে নিচ্ছে সেটা চট্টগ্রাম-১৫। কোনোভাবে এটা হাতছাড়া হতে পারে তা ভাবতেও নারাজ দলটি। জানতে চাইলে দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, “সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আমাদের মূল আসন। এখানকার মানুষ সবসময় দাঁড়িপাল্লার জন্য ঐক্যবদ্ধ।”
তবে বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীনের ভাষ্য, অতীতে বারবার বিএনপির সঙ্গে জোট থাকার কারণে এখানে জামায়াত জিতেছে। এবার আলাদা নির্বাচন হওয়ার কারণে বিএনপির প্রতি আস্থা রাখতে চায় জনগণ। এ ছাড়া এবার লোহাগাড়ার লোক হিসেবে ওই এলাকাসহ সারা নির্বাচনী এলাকায় তার গ্রহণযোগ্যতা বেশি বলে মনে করছেন।
বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীনের ভাষ্য, অতীতে বারবার বিএনপির সঙ্গে জোট থাকার কারণে এখানে জামায়াত জিতেছে। এবার সেটা হবে না।জামায়াত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী এই আসন থেকে ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে জোটগত নির্বাচনে বিএনপির অলি আহম্মদ নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের গণজোয়ারের সময়ও আসনটিতে জয়লাভ করেন জামায়াতের শামসুল ইসলাম।
সাতকানিয়ার পাশাপাশি এবার (চট্টগ্রাম-১৬) বাঁশখালীকেও নজরে রেখেছে জামায়াত। এখানে এবার মোট প্রার্থী সাতজন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী। জামায়াত প্রার্থী করেছে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামকে। এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন গন্ডামারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লেয়াকত আলী।
এ কারণে বিএনপি কিছুটা গৃহদ্বন্দ্বে ভুগছে। তবে লেয়াকতের এলাকা দক্ষিণ বাঁশখালীর গন্ডামারা, সরল এবং কাতারিয়া ইউনিয়নে জামায়াতের ভোট বেশি। সেখানে লেয়াকত তার নিজস্ব জনপ্রিয়তায় যে ভোট পাবেন তার একটা অংশ জামায়াতেরও ভোট ব্যাংক থেকে আসবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবার উত্তর বাঁশখালীতে বিএনপির জনপ্রিয়তা বেশি। এবার এখানে মোট ভোটার চার লাখ ১১ হাজার ২৭৪ জন।
তবে দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, “সাতকানিয়ার পর এবার বাঁশখালীতেই তাদের অবস্থান সবচেয়ে ভালো। তাদের প্রার্থী যেহেতু আগে জনপ্রতিনিধি ছিলেন এটা জামায়াতকে একটা সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।”
১৯৯১ সালে এখানে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সুলতানুল কবির চৌধুরী। ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সাংসদ হন বিএনপির জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজুর রহমান সংসদ সদস্য হন। ২০২৪ সালে মোস্তাফিজুর হেরে যান নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমানের কাছে।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনটিও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক এলডিপি আশা করছে জয়ের। এলডিপির প্রতিষ্ঠাতা অলি আহমদ এবার তার ছেলে ওমর ফারুককে এই আসন থেকে প্রার্থী করেছেন। অলি আহমদ বার বার এখানে নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন।
এলডিপির ছাতা প্রতীকের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির জসীম উদ্দীন আহমেদ। জসীমের বিরুদ্ধে দলের মধ্যেই অভিযোগ উঠেছে। তাকে হাইব্রিড এবং আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির অনেক নেতা। আওয়ামী লীগের সময় ২০২৪ সালে তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
একই দলের দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচন করছেন। তারা হলেন মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী ও শফিকুল ইসলাম রাহী। এ কারণে কিছুটা বেকায়দায় রয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী।
তবে অলি আহমদের ঘাঁটিখ্যাত চন্দনাইশে এবার এলডিপিও আগের জনপ্রিয় অবস্থানে আছে সেটা বলা কঠিন। মুক্তিযোদ্ধা হয়ে অলি আহমদের জামায়াতের সঙ্গে জোট করাকে অনেক স্থানীয় বাসিন্দা ভালোভাবে নিচ্ছেন না। ফলে এই সমালোচনা ছাপিয়ে অলিপুত্র বিএনপির বিবাদের সুযোগ কতটা কাজে লাগতে পারেন সেটা দেখার।
এই আসনে অলি আহমদ ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এর আগেও তিনি একবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত এখানে আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য ছিলেন। এবার এখানে মোট আটজন প্রার্থী রয়েছেন। মোট ভোটার তিন লাখ ১৩ হাজার ৫১৩ জন।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে এবার বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক এগিয়ে রয়েছেন। এখানে ১১ দলীয় জোটের জামায়াত ইসলামী এবং এলডিপির পৃথক প্রার্থী রয়েছে। তারা হলেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মোহাম্মদ ফরিদুল আলম এবং ছাতা প্রতীকের মো. ইয়াকুব আলী। মোট আট প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারুও মোমবাতি প্রতীক নিয়ে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছেন।
পটিয়ায় মোট ভোটার তিন লাখ ৫২ হাজার ৬৯৫ জন। ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন শাহনেওয়াজ চৌধুরী (বিএনপি)। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত এখানে বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী জুয়েল নির্বাচিত হন। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সামশুল হক চৌধুরী (আওয়ামী লীগ) এবং ২০২৪ সালে মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য হন।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা কর্ণফুলী) আসনেও পটিয়ার মতো অনেকটা নির্ভার রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম। সাত প্রার্থীর মধ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাহমুদুল হাসান ও সাবেক সংসদ সদস্য নিজামের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে স্থানীয়দের ধারণা। এখানে মোট ভোটার তিন লাখ ৯৫ হাজার ২৪৬ জন।
২০০৮ সালে সংসদ সদস্য হন লীগের আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। তার মৃত্যুর পর ২০১৪ সাল পর্যন্ত তার ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদই ছিলেন এখানকার সংসদ সদস্য। এর আগে ১৯৯১ সালেও আখতারুজ্জামান চৌধুরী সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নির্বাচিত হন বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম।
নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইদ্রিছ মিয়া বলেন, “পটিয়া ও আনোয়ারায় দলের প্রার্থীর অবস্থান খুবই ভালো। চন্দনাইশে বিএনপি প্রার্থী আস্তে আস্তে এলডিপিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনে জামাতের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে মনে করছেন তিনি।”
ইদ্রিছ মিয়া আরও বলেন, বাঁশখালীতে বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে একটু কঠিন হলেও বিএনপি জিতে আসবে। তবে সব জায়গায় অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পূর্বশর্ত বলে তিনি মনে করছেন।
উত্তরে চাচা ভাতিজা নির্ভার
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসন এবং পাশের উপজেলা রাঙ্গুনিয়ার সংসদীয় আসন চট্টগ্রাম-৭ এ বিএনপির প্রার্থী করা হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও ভাতিজা হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে। এই দুই আসনে তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামী হবে বলে সবার ধারণা।
রাউজানে জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান মঞ্জু। এছাড়া এখানে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ইলিয়াস নূরী মোমবাতি প্রতীকে নির্বাচন করছেন। চার প্রার্থীর অপরজন গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দিন তালুকদার।
এখানে বিএনপি অপর নেতা গোলাম আকবর খোন্দকারকেও মনোনয়ন দিয়েছিল। তবে প্রতীক বরাদ্দ পান গিয়াস উদ্দিন কাদেরকে। ফলে এখন তিনিই ধানের শীষের প্রার্থী। গোলাম আকবর ও গিয়াস কাদেরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব সংঘাত চলে আসছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টেও পর থেকে এখানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অন্তত এক ডজন নেতা-কর্মী খুন হন।
তবে নিজে চূড়ান্ত প্রার্থীতা না পেয়ে গিয়াস কাদেরকে সমর্থন দিয়েছেন গোলাম আকবর। সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস কাদের তাই অনেকটা নির্ভার।
চট্টগ্রাম-৬ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৮ জন। ১৯৯১ সালে এই আসনে এনডিপি থেকে নির্বাচিত হন হুম্মামের বাবা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। ২০০১ সাল থেকে নির্বাচিত হন গিয়াসের চাচাত ভাই এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। আওয়ামী লীগের এই নেতা ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা সংসদ সদস্য ছিলেন।
চট্টগ্রাম-৭ আসনে এবার হুম্মাম কাদের চৌধুরী মনোনয়ন পান। তার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নেতা ডা. এটিএম রেজাউল করিম। তিনি দিনরাত প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ধানের শীষের প্রার্থী হুম্মাম নির্ভার আছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
এখানে মোট প্রার্থী আটজন। মোট ভোটার তিন লাখ ১৯ হাজার ৮ জন। ১৯৯১ সালে কমিউনিস্ট পার্টির মো. ইফসুফ নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। ২০০১ সালে সংসদ সদস্য হন ভাই গিয়াস কাদের। এর পর ২০০৮ থেকে এখানে আওয়ামী লীগের হাছান মাহমুদ সংসদ সদস্য ছিলেন।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীনের ছেলে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বিএনপির প্রার্থী। এখানে জামায়াত জোট থেকে প্রার্থী হয়েছেন খেলাফতে মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন। মূলত তার সঙ্গে হেলালের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। মোট প্রার্থী ছয়জন। এখানে মোট ভোটার পাঁচ লাখ এক হাজার ৯১৬ জন।
১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত এখানে সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপির সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম। ২০০৮ থেকে এখানে জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সংসদ সদস্য ছিলেন।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা। তার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মুহাম্মদ আলাউদ্দিন। মোট প্রার্থী চারজন। মোট ভোটার দুই লাখ ৬০ হাজার ৪৮৫ জন। কামাল পাশা এই আসনে ২০০১ ও ২০০৮ সালে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ থেকে আওয়ামী লীগের মাহফুজুর রহমান মিতা সংসদ সদস্য ছিলেন।
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিন। সাত প্রার্থীর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আছেন মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন সৈয়দ শাহদাত হোসেন। এখানে মোট ভোটার তিন লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৪ জন। ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিন নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগের মোশাররফ হোসেন সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালে তার ছেলে মাহবুবুর রহমান রুহেল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৯১ সালে এই আসনে জিতেছিলেন বিএনপির মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
জিতলেও ফল প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তা বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। ঋণখেলাপের অভিযোগ এনে সরোয়ারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আপিল মঞ্জুর করে সারোয়ারের প্রার্থিতা বাতিল করে।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।কমিশনের এই আদেশের বিরুদ্ধে পরদিনই হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সরোয়ার। ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসির দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। আদালতের নির্দেশে তাকে প্রতীক বরাদ্দ দেয় কমিশন। জামায়াত প্রার্থীও ছাড়বার পাত্র নন। তিনি হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ তার লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে।
আদালত বলেছেন, সরোয়ার নির্বাচন করতে পারবেন। তবে সরোয়ার যদি জিতে যান লিভ টু আপিলের শুনানির সিদ্ধান্তের পর ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা যাবে। লিভ টু আপিলের শুনানি ২৮ এপ্রিল।
ফটিকছড়ি আসনে মোট প্রার্থী আটজন। এখানে ধানের শীষ ও জামায়াতের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। হেফাজতে ইসলাম এবং আওয়ামী লীগের ভোটাররাও এখানে ভালো একটা ফ্যাক্টর হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখানে মোট ভোটার চার লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৫ জন।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনেও ধানের শীষের প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। এ কারণে আসলাম চৌধুরী যদি জিতে আসেন তাহলে তার ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা যাবে না। তিনিও ঋণ খেলাপের কারণে জটিলতায় পড়েন।
জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকীওই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংকের পৃথক লিভ টু আপিল ও আবেদন করে। লিভ মঞ্জুর হওয়ায় এখন আপিলের ওপর শুনানি হবে। এখানে মোট প্রার্থী ৯ জন। মোট ভোটার চার লাখ ৪৮ হাজার ৩৮০ জন।
প্রণব বল: চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক