
কাস্ত্রোর শাসনামলেই কিউবা পশ্চিম গোলার্ধের প্রথম কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত হয়। একুশ শতক পর্যন্ত তিনি দেশটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিলেন এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবরোধের মুখেও টিকিয়ে রেখেছিলেন কিউবা’কে।

মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু’ -কিউবান বিপ্লবের এই স্লোগান আজও রাজনীতিতে ফিরে ফিরে আসে।

কিউবার কাছে তেল বিক্রি করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নাটকীয় আটকের পর এবার কিউবায় নজর দিয়েছে ওয়াশিংটন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুশিয়ারি— ‘দেরি হওয়ার আগেই চুক্তি করুন!’ চলতি বছরের শেষ নাগাদ কিউবার ৬০ বছরের পুরনো ‘কমিউনিস্ট শাসন’ উপড়ে ফেলার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ কিউবার সরকার পরিবর্তন করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ লক্ষ্যে তিনি সক্রিয়ভাবে হাভানার এমন কিছু সরকারি কর্মকর্তাদের খুঁজছেন যারা ‘কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থাকে হঠাতে’ ওয়াশিংটনের সাথে চুক্তি করতে আগ্রহী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার কিউবাকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা যেন অবিলম্বে চুক্তির আওতায় আসে, অন্যথায় তাদের অনির্দিষ্ট পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখন থেকে হাভানায় ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে।

২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর বিনা বাধায় সিরিয়া দখল করেছিল মার্কিন সমর্থিত বাহিনী। একই দৃশ্য দেখা গেল ভেনেজুয়েলায়। একই ঘটনা ঘটতে পারে ইরান, কিউবা, কলম্বিয়া ও অন্যান্য দেশে, যাদের দখল চায় আমেরিকা।

ভেনেজুয়েলার মিত্ররা খুব সামান্যই সমর্থন জুগিয়েছে। কিউবান গোয়েন্দা কর্মকর্তারা, যারা দীর্ঘদিন ধরে মাদুরোকে রক্ষা করতে এবং সেনাবাহিনী থেকে বিরোধীদের নির্মূল করতে কাজ করেছেন, তারা তাদের মক্কেলকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করতে আমেরিকার পরিচালিত অভিযানে কিউবার ৩২ জন নাগরিক নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। এ ঘটনায় আজ সোমবার ও আগামীকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় শোকের ঘোষণা দিয়েছে কিউবা সরকার। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।