Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

ইরানের সাথে কূটনীতিতে পাকিস্তান আসলে কী পাবে?

মাইকেল কুগেলম্যান

মাইকেল কুগেলম্যান

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭: ০৭
ইরানের সাথে কূটনীতিতে পাকিস্তান আসলে কী পাবে?

চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি বা ফ্রেমওয়ার্ক ডিল স্বাক্ষরিত হওয়ার পর, যে কয়েকটি দেশ বিশ্বমঞ্চে প্রথম এই খবরটি প্রকাশ করে তার মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি বা সমঝোতার ঘোষণা দেন। এই চুক্তিটি মূলত পাকিস্তানের দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের নিরলস কূটনৈতিক মধ্যস্থতারই একটি সফল পরিণতি। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বদরবারে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে তারা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী এবং ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।

সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসর্টে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও কাতারের মধ্যকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পাকিস্তানের নতুন ধরনের অবস্থানকে জোরালোভাবে তুলে ধরে। তবে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ইসলামাবাদ তাদের এই নতুন ভূরাজনৈতিক সাফল্য এবং বিশ্বমঞ্চের এই পরিচিতিকে নিজেদের জাতীয় স্বার্থে কতটা কাজে লাগাতে পারবে।

পাকিস্তান জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে কৌশলগত একটি ভৌগোলিক অবস্থানে অবস্থিত হলেও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা কিছুটা সীমিত। এর প্রধান কারণ হলো, পাকিস্তান বিশ্বের কোনো প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি নয় এবং বৈশ্বিক বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো রপ্তানি পণ্য, যেমন তেল কিংবা মাইক্রোচিপ– এর কোনোটিই পাকিস্তানের কাছে নেই।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তাছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে বিশেষ সমর্থনের কারণে পাকিস্তান এই শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিল। সেই সমর্থন দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। ট্রাম্প তার পরিবর্তনশীল ও অনিশ্চিত সিদ্ধান্তের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট বা যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি পুরোপুরি প্রশমিত হয়ে যায় এবং পাকিস্তানের খনিজ সম্পদ বা অন্যান্য খাতে বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা যদি মার্কিন স্বার্থের অনুকূলে না আসে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন খুব দ্রুতই ইসলামাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা ভুলে যেতে পারে।

এর পাশাপাশি পাকিস্তানের জন্য আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো, এই অঞ্চলে আরও প্রভাবশালী অন্য বৈশ্বিক শক্তির কারণে তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোণঠাসা হয়ে পড়তে পারে। উদাহরণস্বরূপ, মধ্যপ্রাচ্যে যদি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা পাকিস্তানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থকে আরও বেশি ত্বরান্বিত করবে। কারণ ভারত ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের উদীয়মান ভূ-অর্থনৈতিক কাঠামোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে, যার বড় প্রমাণ হলো ‘ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর’ এবং ভারত, ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ জোট ‘আইটুইউটু’। তবে এই সব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্য সবসময়ই ইসলামাবাদের জন্য একটি কূটনৈতিক স্বস্তির জায়গা হিসেবে কাজ করে এসেছে।

তাই এই অঞ্চলের প্রতি পাকিস্তানের বিশেষ মনোযোগ ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যেই পাকিস্তানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রদের বসবাস, দেশটির লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমিক সেখানে কর্মরত আছে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও রয়েছে। ফলে এই অঞ্চলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক মর্যাদা ও প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

ভবিষ্যতে পাকিস্তান তাদের এই সফল মধ্যস্থতার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ আদায় করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, উপসাগরীয় অঞ্চলের দাতা দেশগুলোর সঙ্গে যখন পাকিস্তান ভবিষ্যতে ঋণ প্রাপ্তি বা ঋণের শর্ত শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা করবে, তখন তারা যুক্তি দেখাতে পারবে যে এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে তারা কতটা সফলভাবে যুদ্ধ এড়াতে সাহায্য করেছে।

তবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে পাকিস্তানকে অবশ্যই তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে, যা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব দরবারে দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। পাকিস্তানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং ক্রমাগত বাড়তে থাকা সন্ত্রাসবাদ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

আন্তর্জাতিক মহলের এই প্রশংসা বা বৈশ্বিক স্বীকৃতি সাময়িকভাবে ইসলামাবাদকে বহির্বিশ্বের সমালোচনা থেকে রক্ষা করতে পারে। এমনকি এটি দেশের ভেতরে ভিন্নমত দমনের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে সরকারকে আরও উৎসাহিত বা সাহসী করে তুলতে পারে, যা সাধারণ পাকিস্তানি জনগণকে ক্ষুব্ধ করে তুলবে। তবে দেশের ভেতরের এই অস্থিতিশীলতা চূড়ান্ত বিচারে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক কার্যকারিতা ও মনোযোগকে অনেকাংশে সীমিত করে দেবে। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই বৈশ্বিক প্রভাব বজায় রাখার জন্য পাকিস্তানের একটি শক্তিশালী অর্থনীতির কোনো বিকল্প নেই।

ইরানে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া কেন ইসরায়েলের বড় ব্যর্থতা?israel-aipic

পাকিস্তান ইতিমধ্যেই তাদের ক্ষুদ্র প্রযুক্তি বা টেক সেক্টরে কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করলেও বিশ্ববাজারে টিকে থাকার জন্য তা যথেষ্ট নয়। বর্তমান বৈশ্বিক বাজার যখন সেমিকন্ডাক্টর এবং পরিচ্ছন্ন বা গ্রিন এনার্জি অবকাঠামোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, সেখানে পাকিস্তান এখনো তাদের ঐতিহ্যবাহী তৈরি পোশাক এবং কৃষি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে পারলে তা কেবল পাকিস্তানের বৈশ্বিক প্রভাবই বাড়াবে না, বরং বহির্বিশ্বের আর্থিক সহায়তার ওপর তাদের নির্ভরশীলতা কমাবে এবং একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের ক্ষেত্রে ইসলামাবাদকে অনেক বেশি স্বাধীনতা দেবে।

এই মধ্যস্থতার সাফল্যের আগেও পাকিস্তান বিভিন্ন বহুপাক্ষিক সংস্থায় অংশগ্রহণ, দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের সম্প্রসারণ এবং বহুজাতিক সামরিক মহড়ার নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। ইরান চুক্তিতে পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা তাদের বৈশ্বিক পদচিহ্ন আরও প্রসারিত করার একটি বিশাল সুযোগ এনে দিয়েছে। তবে এটি ধরে রাখা দেশের ভেতরে ও বাইরে– উভয় ক্ষেত্রেই একটি কঠিন পরীক্ষা।

মাইকেল কুগেলম্যান: দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশ্লেষক।

(এই লেখাটি ওয়াশিংটন-ভিত্তিক সাময়িকী ফরেন পলিসির সৌজন্যে প্রকাশিত হলো।)

বিষয়: পাকিস্তানইরানমধ্যপ্রাচ্যযুক্তরাষ্ট্রমতামত
সর্বশেষ
  • ১

    ই-সিগারেটসহ নতুন তামাকপণ্য ব্যবহারকারী সাড়ে ৫% তরুণ: গবেষণার ফল

  • ২

    খুলনা বিভাগে হাম-ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু

  • ৩

    নির্বাচনের আগে যুদ্ধ থামবে না, তেলের দামও কমবে না: ট্রাম্প

  • ৪

    মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ

  • ৫

    সাংবাদিকদের দমনের উদ্দেশ্যে কোনো আইন করা হচ্ছে না: তথ্যমন্ত্রী

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া