Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

পয়লা বৈশাখে পোলাও-বিরিয়ানিও খান

কাজী সাজিদুল হক

কাজী সাজিদুল হক

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ০৩
পয়লা বৈশাখে পোলাও-বিরিয়ানিও খান

পয়লা বৈশাখের দিন পান্তা না খেলে অনেকেরই মনে হয় তিনি বোধহয় আর বাঙালি নন। বাজারে গিয়ে ইলিশ মাছটাও কিনতে হয়। তা সে যত দামই হোক। তবে ইলিশ তো মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মধ্যবিত্ত এখন নানা রকম ভর্তা দিয়ে ইলিশ খায়। তেলাপিয়া, রুই মাছ ভাজা দিয়েও খায়। ফেসবুকে ইলিশ নিয়ে বেশ জ্ঞানী জ্ঞানী কথাও লেখে। ইলিশ সংরক্ষণ নিয়েও তার ওই সময় বেশ সচেতনতা তৈরি হয়। দাম কম হলে কী হতো, সেটা আপাতত থাক! তবে বৈশাখে পান্তা তার খেতেই হয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ঠিক কবে থেকে বাঙালির পাতে পান্তা পড়েছে, তার হদিশ পাওয়া যায় না। ধান হাজার হাজার বছর ধরে আমাদের এই উপমহাদেশে আছে। তার মানে ভাতও আছে। ভাত যেহেতু আছে, তাহলে পান্তাও আছে বহুকাল ধরে। তবে লিখিতভাবে পান্তার কথা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম প্রধান কাব্য চণ্ডীমঙ্গলে পাওয়া যায়। মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে ‘কালকেতুর ভোজন’-এ লিখেছেন, “মোচড়িয়া গোঁফ দুটা বান্ধিলেন ঘাড়ে/এক শ্বাসে সাত হাড়ি আমানি উজাড়ে/চারি হাড়ি মহাবীর খায় খুদ জাউ/ছয় হান্ডি মুসুরি সুপ মিশ্যা তথি লাউ।” এখানে যে ‘আমানি’-এর কথা বলা হলো, সেটা হলো পান্তার জল। চৈত্র সংক্রান্তির শেষ বেলায় হাঁড়িতে অপরিপক্ক আতপ চাল ছড়িয়ে কচি আমপাতার ডাল বসিয়ে দেওয়া হতো। নতুন বছরের প্রথম দিন সূর্য ওঠার আগে ঘর ঝাড়ু দিয়ে আমপাতা সহযোগে সেই পানি উঠোন ও ঘরে ছড়িয়ে দেন গৃহিনী। এরপর সেই ভেজানো চাল পরিবারের সবাইকে খেতে দেওয়া হয়। এই লোকাচার কৃষক সমাজে প্রচলিত ছিল। ষোড়শ শতাব্দীতে রচিত মনসামঙ্গল কাব্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি বিজয়গুপ্ত লিখেছেন “আনিয়া মানের পাত বাড়ি দিল পান্তাভাত”। ‘মান’ বলতে এখানে মানকচুর কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, মানকচুর পাতায় করে পান্তা ভাত বেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ঢাকার এক সময়কার ধনী ঘরের বাসিন্দারা পোলাও খেতেন। ছবি: চরচা
ঢাকার এক সময়কার ধনী ঘরের বাসিন্দারা পোলাও খেতেন। ছবি: চরচা

নববর্ষের এখনকার যে উদ্‌যাপন সেটা মূলত নগরকেন্দ্রিক। নাগরিক মনে করেন একটা দিন আবহমান বাঙালি সংস্কৃতিতে স্নান করে সে আরো বাঙালি হয়ে উঠবে। পরদিন আবার আগের মতো হয়ে যাবে। বাসি খাবার যা থাকে, বাড়ির কাজের লোককে দিয়ে দেবে। বাংলা নববর্ষ উৎসবের দুটি দিক আছে। প্রথমটি বহু দিনের ধারাবাহিকভাবে চলে আসা সামাজিক বিভিন্ন রীতি। আরেকটি ছয়ের দশকে পাকিস্তানি শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে সাংস্কৃতিক আন্দোলন। রমনা বটমূলকে ঘিরে শুরু হলেও বর্তমানে যার বিকশিত রূপ সারা বাংলাদেশ শুধু নয়, সারা বিশ্বে। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। পয়লা বৈশাখের নাগরিক উদ্‌যাপনে পান্তার প্রবেশ খুব বেশি দিন নয়। যতটুকু জানা যায়, আটের দশকে রমনাকে কেন্দ্র করে নববর্ষে কিছু খাবারের দোকান বসে। যারা ছায়ানটের অনুষ্ঠান দেখতে যেতেন, তারা সেখানে খেয়ে নিতেন। এমনই একবার অল্প কয়েকজন মিলে পান্তা ভাতের সঙ্গে ইলিশ মাছ ভাজা বিক্রি করলেন। সব বিক্রিও হয়ে যায়। সেই থেকে অনেকের মধ্যে এই পান্তা-ইলিশের ব্যাপারে ভাবনার শুরু হয়। তারপর ব্যবসা। লাভও হতে শুরু করল দেদার। যেখানে লাভ, সেখানে পুঁজি তার লকলকে জিভ নিয়ে ভোউ ভোউ করবে না–তা তো হয় না।

চারুকলার বর্ণিল শোভাযাত্রায় বৈশাখ বরণMangal Sovajatra

ছোট্ট জেলা শহরে আমাদের বাড়িতে পয়লা বৈশাখের দিন মাংস পোলাও রান্না হতো। আমার আম্মার যুক্তি ছিল–বছরের একটি উল্লেখযোগ্য দিন ‘ভালো কিছু’ খেতে হয়। এই ‘ভালো কিছু’ মানেই আমাদের বাড়িতে পোলাও-মাংস। পান্তা পয়লা বৈশাখে আমরা খাইনি কোনোদিন। বরং অন্য সময় মাঝে মাঝেই খাওয়া হতো। কখনো ডিম ভাজা দিয়ে কখনো বা শুধু পেঁয়াজ আর পোড়া মরিচ দিয়ে। পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে পান্তা যেদিন হতো, সেদিন চটকে চটকে আম্মা মেখে দিতেন। ডিমের জায়গায় পেঁয়াজ-মরিচ দেখে খুব যে একটা ভালো লাগত, এমন নয়। তবে সেই বিষাদের সঙ্গে স্বাদটাও কম ছিল না। উৎপলা সেনের গাওয়া ‘পথের ধারে মুক্তো আমি ছড়িয়ে দিলাম’ গানে মুখরায় প্রথম লাইন শেষ হওয়ার সাথে অ্যাকোর্ডিয়ানের যে ব্যবহার সুধীন দাশগুপ্ত করেছেন, সেটা যে রকম সুখ দেয়, ঠিক ও রকম একটা সুখ বোধহয় ও সময় পেতাম।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

পয়লা বৈশাখের আজকালের যে আয়োজন, অর্থাৎ নাগরিক আয়োজন সেখানে পান্তা গুরুত্ব পেলেও পোলাও-মাংস, বিরিয়ানি কেন গুরুত্ব পায় না? এটাও তো বাঙালির খাবার। অবাক হওয়ার কিছু নেই। অনেকেই বলবেন, এসব খাবার কবে বাঙালির হলো! হয়েছে, অন্তত ৩০০ বছর ধরে বাঙালি পোলাও-মাংস খাচ্ছে। এই বাংলাদেশের রাজধানীতে পোলাও-বিরিয়ানি অন্তত ৩০০ বছর ধরে নাগরিক সংস্কৃতির অংশ। এখানে নাগরিক বলতে একসময়কার ধনীদের বোঝানো হচ্ছে। এখনো ইলিশ ধনীদের খাবার। যদি ধরেও নিই পোলাও, বিরিয়ানি মোগলদের থেকে আসা (সেটা নিয়ে বিস্তার আলোচনার দাবি রাখে) তবুও রাজধানী হিসেবে ঢাকার বয়স তো ৪০০ বছরের। আর মোগলরাই ঢাকাকে রাজধানী করেছিল। আমাদের এই উপমহাদেশে বিরিয়ানি সদৃশ খাবার খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দেও পাওয়া যেত। নাম ছিল ‘উন সরু’। সেটাও যদি ধরি, তাহলে আর কথাই থাকে না। আমাদের তামাম উপমহাদেশের অনেক কিছুই বিভিন্নভাবে সংযুক্ত। থাক, ওদিকে আলোচনা না হোক আজ। বরং চলুন একটু দেখি, বিরিয়ানি-পোলাও কীভাবে বাঙালির খাবার হয়ে উঠল।

ঢাকায় তেহারি সবসময় সস্তা একটি খাবার বলে পরিচিত। ছবি: চরচা
ঢাকায় তেহারি সবসময় সস্তা একটি খাবার বলে পরিচিত। ছবি: চরচা

বিরিয়ানির ইতিহাস ঢাকায় খুব বেশি দিনের নয়। ঢাকার এক সময়কার ধনী ঘরের বাসিন্দারা পোলাও খেতেন। নানারকম পোলাও। দুটো দোহাই দেওয়া যাক। প্রথমেই হেকিম হাবিবুর রহমান, যিনি সাতচল্লিশপূর্ব ঢাকার নাগরিক জীবনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্রদের একজন। স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ইতিহাস নিয়ে প্রামাণ্য গ্রন্থ ‘ঢাকা পাচাস বারাস পেহলে’ তারই রচনা। হেকিম সাহেব তার ওই বইতে পোলাও নিয়ে বেশ বিস্তারিত আলোচনা করেছে। নানা রকম পোলাওয়ের কথা বলেছেন। যেমন, খাচ্ছা পোলাও (মোরগ পোলাও), বুন্দিয়া পোলাও, ইলিশ পোলাও, রুই পোলাও, তেহারি (এটাকেও হাকিম সাহেব পোলাও বলছেন এবং বলেছেন তেহারি রাস্তায় বিক্রি হতো)। ঘরোয়া খাবারে পরিবেশন হয় কিন্তু দাওয়াতে দেওয়া হয় না। আর ছিল শেবেত বা সোইয়া পোলাও, মজমুয়া পোলাও, মাগলুবা পোলাও (খাসির চর্বি ছাড়া মাংস দিয়ে রান্না হতো), নার্গিসি পোলাও। তিনি বায়দা পোলাও বা খাসি পোলাও বলে আরেক বস্তুর কথাও বলেছেন। হেকিম সাহেব ‘দোগোশা’ আর ‘কোরামা পোলাও’কে বিরিয়ানি বলেছেন এবং ‘জের বিরিয়ানি’ বলে এক বিলুপ্ত পদের নাম করেছেন।

লন্ডনের বুকে বৈশাখের রংBoishakh

এই যে নানারকম পোলাও, যা মাংস সহযোগে রান্না হতো–হেকিম সাহেবের লেখা পড়ে অনেকেই হয়তো বিভ্রান্ত হয়েছেন, হচ্ছেন। এবং নিজেরা পরে সেই পোলাওকে বিরিয়ানি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হেকিম সাহেব তার বইতে যে সময়ের বিবরণ দিয়েছেন, সেটা ১৯ শতকের শেষার্ধ এবং বিশ শতকের প্রথমার্ধ। পরের দিকের তথ্যও কিন্তু বলছে যে, দেশভাগের আগে ঢাকায় পোলাওয়ের চলই বেশি ছিল। শিল্প তত্ত্বজ্ঞ প্রফেসর শাহেদ সোহরাওয়ার্দির দোহাই দিই। পাকিস্তানের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী হোসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দির বড় ভাই। ত্রিশের দশকে তিনি রন্ধন শিল্প নিয়ে ইংরেজিতে একটি গ্রন্থ লিখেছিলেন। শাহেদ তার বইতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রান্নার প্রশংসা করেছেন। কিন্তু সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করেছেন ঢাকার মোরগ-পোলাওয়ের। তিনি লিখেছেন–ঢাকার মোরগ-পোলাওয়ের স্বাদ লিখে তুলে ধরা যায় না। এটি একটি অভিজ্ঞতা, যা অর্জন করতে হয়। অর্থাৎ, পোলাও (বা বিরিয়ানি) ঢাকার অনুপম একটি খাবার।

এই পোলাও যে গরীব সাধারণ মানুষ খেত, তা হয়তো নয়। কিন্তু নানা উপলক্ষে মধ্যবিত্ত ও ধনীরা তো খেতই। আর মানুষ যেটা বেশি খায়, সেটা ইতিহাসের নানা বাঁকে দেখা দেবে সেটা স্বাভাবিক। সেই পোলাও বা বিরিয়ানি নানা উৎসবে মানুষ খাচ্ছে। ছুটির দিনে খাচ্ছে। যেকোনো আয়োজনে খাচ্ছে। মাছ সহযোগে পোলাও খাচ্ছে। এই ঢাকা শহরেই একসময় রইস ঘরে নিয়মিত ইলিশ-পোলাও, রুই-পোলাও রান্না হতো। হওয়াটাই স্বাভাবিক। নদীর পারে গড়ে ওঠা শহরে মাছ তো থাকবেই। আর মাছে-ভাতে বাঙালি প্রবাদ তো আছেই।

1000049322.jpg

ঢাকায় তেহারি সবসময় সস্তা একটি খাবার বলে পরিচিত। এখন কতটা সস্তা, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যেতে পারে। একসময় রাস্তার পাশে তেহারির দোকানে অনেক রিকশা শ্রমিককে দেখা যেত। এখন তারা খুব একটা সেখানে বসেন না। বরং ভ্যানে বিক্রি হওয়া তেহারির দোকানে তাদের ভিড় বেশি। ওখানে দামটা যে কম! এই তেহারি যে আদতে পোলাও, সেটা হেকিম সাহেব বলেছেন। তার রন্ধনপ্রণালীও পোলাওয়ের মতো। যারা একে বিরিয়ানি বলে, তারা না জেনে বলেন। আগেই বলা হয়েছে, তেহারি রাস্তায় বিক্রি করা হতো। তার মানে হলো এর প্রচলন ভালোভাবেই ছিল।

নববর্ষের ভেতর-বাহিরMangal Shobhajatra

এই যে বিরিয়ানি বা পোলাও মানুষ খাচ্ছে, সেই ঢাকাই বিরিয়ানি বা পোলাওয়ের সঙ্গে কী কলকাতা, হায়দ্রাবাদ, লখনৌ-এর মিল আছে? দক্ষিণ ভারতের নানা বিরিয়ানি-পোলাওয়ের সঙ্গে মিল আছে? সহজ উত্তর, ‘না’। ঢাকা শহরের পোলাও-বিরিয়ানি দিনে দিনে বাঙালি হয়ে উঠেছে। কলকাতার ক্ষেত্রেও তাই বলা যায়। বিশেষ করে ওখানকার ব্যারাকপুর স্টাইল বিরিয়ানি দেখে এটা মনে হয়েছে। এই বাঙালি হওয়াটা অনেক দিনের চর্চার ফল। ঠিক যেমন অন্য অনেক জায়গায় অনেক খাবার, আচার বাঙালির রীতি হয়েছে, তেমনই। ধরুন, কলকাতায় যদি কোনো বড় হোটেলে আপনি বিরিয়ানি খান, তবে মুখে খুব একটা ঝাল লাগবে না, যেটুকু পাওয়া যাবে সেটা গোলমরিচের একটা হালকা ঝাঁজ। দিল্লিতেও না। অথচ এই ঢাকা শহরে অনেক দোকান আছে, যেখানে বিরিয়ানিতে ঝালটা বেশ প্রাধান্য পায়। সেটা কতটা উচিত, সেই প্রশ্ন উহ্যই থাকুক। কিন্তু মানুষ খাচ্ছে বলেই ও রকম বানানো হচ্ছে। ঢাকাই কাচ্চি বিরিয়ানির আসল যে রেসিপি, সেখানে ঝাল দেওয়া হয় না। যে ঝাল ঝাল ঝাঁজ লাগে, সেটা গোলমরিচ আর লবঙ্গের। ওটাকে ঝাল বলা যাবে কি না, সেটাও একটা প্রশ্ন। যারা ঢাকাই কাচ্চিতে গুঁড়া মরিচ বা কাঁচা মরিচ দেয়, তারা আসল রেসিপি হয় জানে না কিংবা জনরুচির কাছে বশ্যতা স্বীকার করেছেন।

সেটাই হয়তো স্বাভাবিক। জনরুচি বড্ড গোলমেলে ব্যাপার। কথা হচ্ছে, মানুষ প্রতিদিন যেমন খাবার পছন্দ করে উৎসব বা বিশেষ আয়োজনের খাবারও তেমন করে নিয়েছে। তার নিজের স্বাদকোরক অনুযায়ী সে সবকিছু ‘কাস্টমাইজ’ করেছে। পয়লা বৈশাখের পান্তাও কিন্তু কাস্টমাইজড। কারণ, শহরের অনেক জায়গায় গরম পান্তা পাওয়া যায়। চিনিগুঁড়া বা কালোজিরা চালের পান্তা পাওয়া যায়। ‘কাস্টমাইজড’ পান্তা। তিন কোটিরও বেশি মানুষের শহরে বলতে গেলে মোড়ে মোড়ে পোলাও-বিরিয়ানি-তেহারির দোকান পাওয়া যায়। সব দোকানেই বিক্রি হয় নিশ্চয়। না হলে দোকান চলত না। অর্থাৎ, মানুষ তার দৈনন্দিন জীবনে এসব খাবার খাচ্ছে। যেটা দৈনন্দিনতায় ঢুকেছে, তার চরিত্র আর অন্য জাতের থাকে না। সেটা বাঙালিরই খাবার। তাই যারা পান্তা খাচ্ছে, খাক। সেইসাথে পয়লা বৈশাখের দিন পোলাও-বিরিয়ানিও খাওয়া চলুক। কারণ, ওটাও বাঙালির। অন্য জাতির তো বটেই।

বিষয়: বাংলা নববর্ষখাবারবৈশাখ চরচাখাবারদাবারবৈশাখ চরচা ১৪৩৩নববর্ষ
সর্বশেষ
  • ১

    এশিয়া কাপ: শিরোপায় চোখ রেখে বাংলাদেশের ‘ভারত পরীক্ষা’

  • ২

    সিএমএসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংকের চুক্তি

  • ৩

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ৪

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৫

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া