Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

শিশুদের রক্তে যেভাবে গড়ে উঠছে বিশ্বজয়ের গল্প

ফজলুল কবির

ফজলুল কবির

প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০: ১০
শিশুদের রক্তে যেভাবে গড়ে উঠছে বিশ্বজয়ের গল্প

অথচ শিশুরাই মরে যাচ্ছে। অথচ এ বিশ্ব মানবিক। আর আমাদের ঘুমগুলো এখনো নির্বাসিত নয়। সহস্রধারা ঝরনার অদূরে যে পাহাড়, তারই গা বেয়ে নেমে আসছে শিশুটি। সেই শ্বাসনালি কাটা শিশুটি। তার বয়স মোটে আট। তার কণ্ঠনালি চেরা। হায় সীতাকুণ্ড। হায় বৃক্ষছায়াময় ইকোপার্ক। আর্তনাদের বদলে তার চিরে ফেলা শ্বাসনালি দিয়ে কি হাহাকার প্রকাশ খুঁজছিল কোনো? জানা নেই। জানা যাবেও না। শিশুটি মরে গেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

অথচ শিশুরাই মরে যাচ্ছে। অথচ এ বিশ্ব মানবিক। আর আমাদের ঘুম এখনো চোখের পাতায়। আর হাতিরঝিলের কালো জলে, তারও চেয়ে গাঢ় রাত নামে। অন্ধ রাত, যার পৃষ্ঠায় উঁকি মারে হঠাৎ লিফটের ফোঁকর। নিখোঁজ শিশুটি সেখানেই মেনেছে শেষ আশ্রয়। ও শিশু, কেন অমন উপুড় হয়ে মুখ ডুবিয়ে ছিলে জলে? কী দুঃখ তোমার?

অথচ শিশুরাই মরে যাচ্ছে। অথচ এ বিশ্ব মানবিক। ফলত ইরানের মিনাব থেকে চুরি হয়ে গেছে শিশুদের শ্বাস ও ক্রন্দন এবং অতি অবশ্যই হাসি-কলতানও। অথচ তারা পড়ছিল। ওমান সাগর থেকে ছুটে আসা হাওয়া তাদের মুখে বোলাচ্ছিল আশ্বাসী পরশ। বলছিল–‘ও মেয়েরা, শোনো, কিচ্ছুটি হবে না দেখো। ওটা বড়দের যুদ্ধ। কিচ্ছু হবে না তোমাদের। তোমরা পড়, পড়ায় মন দাও।’ আর সুকন্যার মতোই তারাও দিয়েছিল মন পড়ার বইয়ে। অথচ এ বিশ্ব মানবিক। তাই ছুটে এল ক্ষেপণাস্ত্র। সহস্র ডঙ্কার শব্দে কানে লাগল তালা। জ্বলে গেল, পুড়ে গেল, ধ্বসে গেল শিশুদের পাঠশালা। আর মানবিক বিশ্ব এখনো গুনে চলেছে ১৫০-১৬৫...।

অথচ শিশুরাই মরে যাচ্ছে। আর এ বিশ্ব ভীষণ মানবিক। আর ঘুমে আমাদের চোখগুলো আঠার মতো লেগে আছে। এমনকি স্বপ্নেও ঘুমঘোর। সেখানে কদাচ উঁকি দেয় না নাইজেরিয়া ও তার গ্রাম জামফারা। সেখানেও নেমেছিল ঘোর অন্ধকার। কোনো সাইরেন বাজেনি। শুধু মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের শব্দ। জামফারায় সে রাত অচিরাৎ জ্বলে উঠেছিল। গাঢ় ঘুমের ভেতর পাশ ফিরতে ফিরতেই জ্বলে উঠেছিল আলো। হঠাৎ আসা সে আলো ও উত্তাপে মায়ের কোলসহ পুড়ে গিয়েছিল শিশুরা। আর বাকিরা অপহৃত। মানবিক বিশ্ব এখনো গুনছে ৩৭, ৪৭, ৫০...। তারপর?

Advertisement
Advertisement
Advertisement
৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, অধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবাদchild

সীতাকুণ্ডের সেই শিশুটির চেরা শ্বাসনালি দিয়ে বেরিয়ে আসা বাতাসে কি দীর্ঘশ্বাস খেলা করে? কিংবা সেই মিনাবের শিশুরা? কী বলতে চেয়েছিল তারা? আদৌ কি কিছু বলবার ছিল তাদের? জামফারায় মরে যাওয়া শিশুটি চুরি যাওয়া শিশুটিকে কিছু বলতে চেয়েছিল কি?

আহা শিশুর দল। এ পৃথিবী বড় কারুকাজময়। জাফরিকাটা খোলসের নিচেই লুকিয়ে থাকে হাজারো মিসাইল। আস্তিনের তলায় শুধু ছুরি নয়, এখন রকেট লঞ্চার নিয়ে ঘোরে মিঠেহাসি মানুষের দল। তারা বৈঠক বৈঠক খেলে। শান্তির প্রবল প্রতিশ্রুতির ভাঁপে প্রত্যহ তাদের মুখ ও চোখ ফুলে ফুলে ওঠে। বড় টসটসে, পেলব তাদের অবয়ব।

তোমরা জানলে ঘৃণায় কুঁচকে যেতে যে, তোমাদের পাঠ্যবই এবং আরও আরও পাঠ্য সব বই ও ব্যবস্থায় তোমাদের রক্ষার সর্বাত্মক চেষ্টার কথাই বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, শিশুদের বিচরণস্থলে সদা উড়বে শান্তির পতাকা। বলা হয়েছে, বিদ্যালয় ও হাসপাতাল থাকবে যুদ্ধের আওতার বাইরে। তোমাদের জন্য রাখা হয়েছে ইউনেসকো, ইউনিসেফ, সেভ দ্য চিলড্রেন। আর আস্ত একটা জাতিসংঘ।

তোমরা জানলে করুণায় সজল হতে যে, মিনাব শহরের স্কুলে হামলায় তোমাদের মেরে ফেলার পর কড়া নিন্দা জানিয়েছে ইউনেসকো। আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলেছে, তারা এমনটা করেনি। যেমন তারা বলেছে আগেও গাজায় ৫০ হাজার শিশু মেরে। তোমাদের ভেবে ভালো লাগতে পারে যে, শিশু হত্যার দায় ঘোষণা দিয়ে নেওয়ার মতো নির্লজ্জ এখনো তারা হয়নি।

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

অথচ দেখো শিশুরাই মরে যাচ্ছে। আর এ বিশ্ব মানবিক। ফলে মানবিকতার আহ্বান জানানোই দস্তুর। অতএব ফার্স্টলেডিকে মঞ্চে বসতে হয়। আনুষ্ঠানিক। আর তাকে কণ্ঠে জোর টেনে করুণ ও মানবিক ঢঙে বলতেই হয় যে, শিশুদের জন্য, তাদের শিক্ষার জন্য, তাদের নিরাপদ বেঁচে থাকার জন্য বিশ্বনেতাদের সবকিছু করতেই হবে। সংঘাতে শিশুর মৃত্যুর কথা তুলে এসব বন্ধের আহ্বান তাকে জানাতেই হয়। বড় মানবিক আমাদের মেলানিয়া ট্রাম্প।

সজল নদী, আর সুমিষ্ট খেজুরের শহর মিনাব। ওমান সাগরের হাওয়ায় আচ্ছন্ন মিনাব। শত শিশুর লাশের গুনতির খাতা খোলা মিনাব। কোন পরিচয় নেবে তুমি? ক্ষেপণাস্ত্রের দায় তবে কাকে দেবে আজ?

উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলা কি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করবে?Arab Emirates

সহস্রধারা ঝরনার ধারে কোন উত্তর খুঁজবে, ও শিশু? তুমি তো জানো সুকান্ত মরে গেছে। আর শিশুদের বাসযোগ্য পৃথিবী গড়বার দৃঢ় অঙ্গীকার এখন চর্বিতচর্ব্য শুধু। তুমি তো জানো ‘শিশুহত্যার বিক্ষোভে’  নয়, বসুন্ধরা আজ নিয়তই কেঁপে কেঁপে ওঠে মিসাইলের আঘাতে। ফলে বাড়তে থাকে মানুষের লাশের সারি, আর বাড়ে শিশুদের শাদা চোখ।

ইউক্রেন থেকে গাজা, পাকিস্তান কি আফগানিস্তান, সোমালিয়া, কঙ্গো, লেবানন, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন...কত কত নাম। যুদ্ধ ও সংঘাতময়তায় শৈশব হারিয়ে বসে আছে ৫২ কোটি শিশু। শুধু আফ্রিকার সংঘাতমুখর ভূমিতেই বাস করে ২১ কোটির বেশি শিশু। আর যেখানে যুদ্ধ নেই, যেখানে শান্তি অবারিত, ধরো এই বাংলাদেশে–সেখানে সহস্রধারা ঝরনার পাশ থেকে ইকোপার্কে নেমে আসে গলাকাটা শিশু এক। লিফটের ফোকরে পড়ে থাকে মুখ উপুড় শিশু এক। এমন আরও আরও।

কোথায় পালাবে? গোটা দুনিয়া এক কসাইখানা। আর শিশুদের হাড় দিয়েই এখানে হয় বিজয়োল্লাস। গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে সমুদ্র, যুদ্ধ থেকে শান্তির বাণী আওড়ানো পবিত্র ভূমি–সর্বত্র পাতা এক নিপুন ফাঁদ। মানবিক মায়াজাল। আর সেই জালে একের পর এক আটকা পড়ছে শিশুরা, মৃত্যুর সাথেও যাদের কথা হয় স্বচ্ছ চোখে।

অথচ জঞ্জাল না সরিয়েই মরে গেছে সুকান্ত। আর এখনো প্রতিনিয়ত মরে যাচ্ছে শিশুরাই। আর মানবিক মুখোশে মুখ ঢেকে বড় বড় মানুষেরা বৈঠক করে। নিন্দা জানায়। জানায় সমবেদনা ও ক্ষোভ। আর শান্তির সেই সব বৈঠক শেষে, যথেষ্ট নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ শেষে তারা বাজেট করে। সামরিক বাজেট করে। নিরাপত্তার নামে সামরিক বাজেট। আর তারা অস্ত্র তাক করে প্রতিরক্ষার নামে। গণবিধ্বংসী অস্ত্রমুক্ত করতে পৃথিবীতে আরেকটা যুদ্ধের ছক কষে। কামান ও গোলায়, ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্রে নিজেকে সজ্জিত করে, যেনবা গয়না এসব। তারা এমনকি আম কাটতে কেনা ছুরিতে ধার দেয় গলা কাটবে বলে।

ফলত শিশুরা মরে যায়। গাজায়। মিনাব-জামফারায়। কঙ্গো বা ইয়েমেনে। সোমালিয়া বা লেবাননে। রাতের অন্ধকারে, দিবসের প্রোজ্জ্বল আলোয়। বসুন্ধরা একবারও কেঁপে ওঠে না। কাঁপতে ভুলে গেছে যেন। যেন এই সবই অনায়াস খুব। যেন মৃত্যু এক নামতা কেবল, গুনে গুনে বাড়তে থাকাই যার কাজ। অথচ এমন হওয়ার নয়। অথচ এমনই হয়ে আছে। আর শিশুদের চোখে তাকাচ্ছে না কেউ, ঘুম চটে যাবে বলে।

ফজলুল কবির: বার্তা সম্পাদক, চরচা

বিষয়: নারীহামলাইরানসীতাকুণ্ডহত্যাযুদ্ধধর্ষণশিশু
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া