Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

আত্মঘাতী বৈশাখ, প্রোজ্জ্বল বৈশাখ

মফিদুল হক

মফিদুল হক

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ৪৮
আত্মঘাতী বৈশাখ, প্রোজ্জ্বল বৈশাখ

বাঙালিকে ‘আত্মঘাতী’ বলেছিলেন নীরদ সি চৌধুরী। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি আচ্ছন্ন ছিল ব্রিটিশ শাসনের মহিমা মুগ্ধতার মধ্যে। তদুপরি তার বিবেচনার বৃত্তে হিন্দু অভিজাত ও শিক্ষিত বাঙালি ছাড়া আর কারো অস্তিত্ব ছিল না। বাঙালি মুসলমান তো গণনার মধ্যেই অসেনি। ধর্মীয় বিভাজন পেরিয়ে বাঙালিকে সমগ্রতায় ধারণ করে ভৌগোলিকভাবে বৃহত্তর অংশের অন্তর্ভুক্ত বাঙালির যে মুক্তিযুদ্ধ বিশ্বের শুভবুদ্ধিসম্প মানুষের নজর কেড়েছিল, তা নীরদ চৌধুরীকে বিব্রত করেছিল। জুন মাসে তিনি বিলেতি অগ্রণী দৈনিক টাইমসে পত্র লিখে মুক্তিযুদ্ধের অসারতা প্রমাণে চেষ্টা নিয়েছিলেন। অভিমত প্রকাশ করেছিলেন যে, সমরাস্ত্রে বিপুল শক্তিমান সংগঠিত পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্বল অস্ত্রধারী দুর্বলতর মুক্তিযোদ্ধারা কখনো জয়ী হতে পারবে না। এই পত্রপ্রকাশের ছয় মাসের মধ্যে তাকে ভুল প্রমাণ করে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে মুক্তিবাহিনী ছিনিয়ে নেয় স্বাধীনতা, প্রতিষ্ঠা করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তারপর পাঁচ দশকের বেশি সময়ব্যাপী পথপরিক্রমণ ছিল নানা খানাখন্দ চড়াই-উৎরাইয়ে আকীর্ণ। সংস্কৃতি বিচারে অনেক ক্ষেত্রে আমরা নতুন মাত্রা যোগ করতে পেরেছি, সৃজনশীলতার প্রকাশে উন্মুখ এক বিশাল জনগোষ্ঠীকে সৃষ্টির পরিসরে সক্রিয় করেছি। তবে পাশাপাশি সামাজিক সংহতি ও সৌহার্দ্য নির্মাণে আমরা নানা সমস্যা তৈরি করে চলেছি, কখনো কখনো তা উপচে পড়েছে হিংস্র সংঘাতে। ধর্মকে আবার আমরা করে তুলেছি বিভাজনের হাতিয়ার। রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছি সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব কষে। বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতির শক্তিময়তা আমরা বিসর্জন দিয়ে চলেছি পাকিস্তানি ধারায় ধর্মীয় আধিপত্যবাদী উগ্রতা দ্বারা। এর ফলে বাঙালিত্বের সমগ্রতার মধ্যে আমরা বিচ্ছেদ বয়ে আনছি, হয়ে উঠছি আত্মঘাতী বাঙালি, সম্পূর্ণ এক ভিন্ন প্রতিবেশে, তবে আরও ভয়ংকরভাবে। নিজেকে আমরা এভাবে খণ্ডিত করছি, নিজের সম্পদ নিজেই বিসর্জন দিচ্ছি, সম্ভাবনার লক্ষণগুলো পদপিষ্ট করছি এবং মহৎপ্রাণ বাঙালি হয়ে পড়ছি ক্ষুদ্রপ্রাণ জনগোষ্ঠী।

‘মঙ্গল’-‘আনন্দ’ বাদ, এবার বর্ষবরণে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’pohela-boishakh-festival

তার উদাহরণ পরিস্ফুট হয়ে উঠল বাংলা নববর্ষ উদযাপনের মঙ্গল শোভাযাত্রা ঘিরে। নব্বইয়ের গণ-আন্দোলন কেবল স্বৈরাচারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জাতির শক্তিময়তা প্রকাশ করেনি, আমাদের সংস্কৃতিতেও নতুন ঢেউ বয়ে এনেছিল। জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে ৬০-এর দশকের মধ্যভাগে ছায়ানট যখন রমনার বটমূলে বর্ষবরণের প্রভাতী সংগীতানুষ্ঠান নিবেদন করে, সেটা ছিল ছোট আকারের অয়োজন। তবে বছর ঘুরে তা ক্রমান্বয়ে অর্জন করে বিশালতা এবং নাগরিক জীবনের হারিয়ে যাওয়া বৈশাখকে আবার দেশবাসীর কাছে ফিরিয়ে দেয়। চারুকলার স্নাতক, শিক্ষার্থী ও নবীন শিল্পীরা মিলে নববর্ষের প্রভাতে তারুণ্যের আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেছিল লোকশিল্পের ধারায়, বাঙালি জীবনের নানা প্রতীক সাজিয়ে, তা পথযাত্রায় বহনযোগ্য ও বাহনযোগ্যভাবে তৈরি করে, ঢোলক বাদ্যে মাতিয়ে দিয়ে চারদিক। সেই আয়োজন বাঙালি প্রাণে নবআনন্দ বয়ে আনল। অচিরেই মঙ্গল শোভাযাত্রা ছড়িয়ে পড়ল শহর থেকে শহরে, হয়ে উঠল ঐতিহ্যের নবায়নের অবলম্বন। সমষ্টির জীবনধারায় নববর্ষ যেমন নতুন আশা, নতুন উজ্জীবনের বার্তা বয়ে আনে, যার যেমন সাধ্য সেভাবে তাতে শরিক হয়, সেখানে মিলল নতুন, অভিনব ও আকর্ষণীয় মাত্রা–মঙ্গল শোভাযাত্রা। এই নবসৃজন ইউনেসকো স্বীকৃতি পেল মানবগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির ধারার আরেক প্রকাশ হিসেবে, যা বাঙালিকে এনে দেয় বিশ্বজনীন মহিমা।

কিন্তু বাঙালি সত্তায় আঘাত করবার জন্য যে শক্তি ছিল সমাজে, তারা আবারও ধর্মের দোহাই দিয়ে আঘাত করল মঙ্গল শোভাযাত্রাকে। বাঙালি জাতি আজ কতটা বিভ্রান্ত, বেপথু ও আত্মমর্যাদাহীন হয়ে পড়েছে, তার সাক্ষ্য মেলে মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীনদের খেলায়। মঙ্গল শোভাযাত্রা ধর্মসিদ্ধ নয়–এমন কথা বলবার মতো গোষ্ঠী সমাজে তৎপর রয়েছে। সার্বজনীন উৎসবকে ধর্মের দোহাই দিয়ে কালিমালিপ্ত করার প্রয়াসে সমর্থন যোগায় সুশিক্ষিত পাশ্চাত্য সমর্থিত ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। তারা মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পালটে করল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। কেননা ‘মঙ্গল’ শব্দ তাদের কাছে মনে হয়েছে হিন্দু প্রভাবিত এবং ইসলামের জন্যে ক্ষতিকর। যদিও তাদের মাতৃভাষা বাংলা, তার অর্থ অন্তরের ভাষাও বাংলা। মনে মনে ‘মঙ্গল’ শব্দ তাদের উচ্চারণ করতে হয় হরহামেশাই, পরিজন ও সন্তানের কল্যাণ কামনায় বা নিজেরই তরক্কির উদ্দেশ্যে। একই সঙ্গে লোকজীবন থেকে উঠে আসা প্রতীক পাল্টে দিতে তারা ধর্মসিদ্ধ প্রতীকের খোঁজ হাতড়াতে থাকে হতবিহ্বল হয়ে। শেষ পর্যন্ত গাধার পিঠে উল্টো হয়ে বসা নাসিরউদ্দিন হোজ্জাকে মনে হয় যথেষ্ট ইসলাম-সম্মত, এমনই তাদের ধর্মবোধ! সেটাই হয়ে ওঠে এক অর্থে প্রতীক যা পরোক্ষে তাদের নিজেদের মূর্খতার প্রকাশ ঘটায়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বর্তমান সরকার শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে বলেছিলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রা অভিধা পুনর্বহাল হবে। তবে শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে এসে এর নতুন নামকরণ করল ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। একটি আনন্দ উৎসবকে ঘিরে এমন বিচলিত মনোভাব নিজেদের মানসিক দৈন্যই প্রকাশ করে। আপন ঐতিহ্যের শৈল্পিক ও জননন্দিত রূপায়ন যেখানে আমাদের গর্বিত করবে, সেখানে আমরা দেখি বিপরীত চিত্র। এই ঘটনাক্রম দেখিয়ে দেয় জাতি হিসাবে আমাদের বিভ্রম। এটা হয়ে ওঠে আত্মগর্ব বিসর্জনের কৌতুকপ্রদ কাহিনি।

সকলের মঙ্গল হোক। নববর্ষে রইল এই শুভকামনা। মঙ্গলকামনায় জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে চলবে সামনের পথে, তা আমরা প্রত্যাশা করি। এই প্রত্যয় আমরা পাই বাংলার জীবন ও সংস্কৃতি-সাধনা থেকে। নীরদ চৌধুরী বাঙালিকে আত্মঘাতী বলেছিলেন ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতি ভক্তিময়তা থেকে। সেটা ইতিহাসই বাতিল করে দিয়েছে। ধর্মকে ব্যবহার করে নিজের ঐতিহ্যকে নিজেই নষ্ট করার যে চেষ্টা, সেটাও ইতিহাসই বাতিল করে দেবে।

মফিদুল হক: লেখক ও গবেষক এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি

বিষয়: শোভাযাত্রানববর্ষে প্রত্যাশাবাংলাদেশস্বাগত নববর্ষবাংলা নববর্ষবাঙালিসরকারমঙ্গল শোভাযাত্রাপয়লা বৈশাখপহেলা বৈশাখ
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া