Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

গণতন্ত্র থাকুক-না থাকুক, ভিডিওতন্ত্রের রমরমা চলছে

চিররঞ্জন সরকার

চিররঞ্জন সরকার

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ২২: ১৫
গণতন্ত্র থাকুক-না থাকুক, ভিডিওতন্ত্রের রমরমা চলছে

একসময় এই দেশে রাজনীতি হতো চায়ের কাপের ঝড়, মাইকের চিৎকার আর পানের দোকানের ফিসফাসে। গভীর রাতে কেউ ফোন করে বলত, ‘হ্যালো... খবর আছে।’ পরদিন পুরো শহর সেই খবর নিয়ে গরম। তারপর এল অডিও ফাঁসের যুগ। মনে হয়েছিল, প্রযুক্তি বুঝি এখানেই থামবে। কিন্তু বাঙালি জাতি থেমে থাকার জন্য জন্মায়নি। আমরা এখন অডিও পেরিয়ে ভিডিও সভ্যতায় উন্নীত হয়েছি। দেশে গণতন্ত্র কতটা আছে, সেটা নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা তর্ক করতে পারেন। কিন্তু ভিডিওতন্ত্রের যে রমরমা চলছে, এ নিয়ে কোনো মতভেদ নেই।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এখন আর রাজনীতি বুঝতে অ্যারিস্টটল, ম্যাকিয়াভেলি বা রুশো পড়তে হয় না। একটা স্মার্টফোন, দশ মেগাবাইট ইন্টারনেট আর ফেসবুক আইডি থাকলেই আপনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বিচারপতি এবং নৈতিকতার শেষ ঠিকাদার।

এই দেশে নতুন কোনো ভিডিও ভাইরাল হওয়া মানে ছোটখাটো জাতীয় উৎসব। ঈদের চাঁদ দেখার আগ্রহও সম্ভবত এতটা থাকে না। ভিডিও আপলোড হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই শুরু হয় মহাযজ্ঞ। কেউ ভিডিও দেখার আগেই মতামত দিয়ে ফেলেন। মতামত কী, রায়ও ঘোষণা করে দেন! আর যারা কিছুই বুঝতে পারেন না, তারাই সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লিখে দেন, ‘সব বুঝে গেছি!’

ভিডিও কেলেঙ্কারি: এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারgazi nazrul islam 2

ভিডিও প্রকাশের পর দেশের রাজনৈতিক নাটকের স্ক্রিপ্টও একেবারে বাঁধাধরা। প্রথমেই আসে বিবৃতি। বলা হয়, এটি গভীর ষড়যন্ত্র। কিছুক্ষণ পর আরেক বিবৃতি আসে, এটি আসলে ব্ল্যাকমেইল। তারপর আরেকজন জানান, এর পেছনে চাঁদাবাজ চক্র আছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ভিডিও পাঁচ শ শতাংশ জুম করে দেখিয়ে দেন, ডান কানের ছায়া বাম কানের সঙ্গে মিলছে না, অতএব এটি ডিপফেক। প্রশাসন বলে, তদন্ত কমিটি হচ্ছে। তদন্ত কমিটি হওয়ার আগেই ফেসবুকের তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিয়ে দেয়। আদালত বসার আগেই কমেন্ট বক্সে ফাঁসির রায় হয়ে যায়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

আমাদের দেশে এখন মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত নয়, সাত ভাগে বিভক্ত। একদল বলে ত্রিশ সেকেন্ডই যথেষ্ট। সত্য কখনো লম্বা হয় না। আরেকদল বলে, পাঁচ মিনিটের কম ভিডিও বিশ্বাসযোগ্য নয়। তৃতীয় দল বলে, পুরো ভিডিও না দেখলে কিছুই বোঝা যাবে না। চতুর্থ দল বলে, ভিডিও না দেখেই বুঝে ফেলেছি। পঞ্চম দল শুধু কমেন্ট পড়ে সিদ্ধান্ত নেয়। ষষ্ঠ দল অন্যের কমেন্টের স্ক্রিনশট দেখে মত গড়ে। আর সপ্তম দল সবকিছু বাদ দিয়ে শুধু একটি প্রশ্ন করে, ‘ভাই, পার্ট টু কই?’

দেশের সবচেয়ে বড় আদালতের নাম এখন আর সুপ্রিম কোর্ট নয়। সবচেয়ে বড় আদালতের নাম ফেসবুকের কমেন্ট সেকশন। এখানে বিচারপতির সংখ্যা কয়েক কোটি। সবাই একই সঙ্গে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, সাইবার বিশ্লেষক, মনোবিজ্ঞানী, চরিত্র মূল্যায়নকারী এবং ভিডিও এডিটিং বিশেষজ্ঞ। একজন হয়তো বাজারে চাল বিক্রি করছেন, কিন্তু ফেসবুকে এসে এমনভাবে পিক্সেল বিশ্লেষণ করছেন, যেন গত পনেরো বছর তিনি বিশ্বের সেরা কোনো ভিডিও ল্যাবে চাকরি করেছেন।

গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ থাকবে?gazi nazrul islam

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই দেশে ঘটনা কখনো বড় নয়, বড় হলো ব্যাখ্যা। একটা ঘটনার চেয়ে তার ব্যাখ্যা বেশি ভাইরাল হয়। ব্যাখ্যার ব্যাখ্যা আরও ভাইরাল হয়। তারপর সেই ব্যাখ্যার প্রতিবাদ আসে। প্রতিবাদের প্রতিবাদ আসে। শেষে এমন অবস্থা হয় যে, মূল ঘটনাটা কোথায় ছিল, সেটা খুঁজে বের করতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অনুমতি লাগে।

একটা ভিডিও ঢাকতে একটা অডিও আসে। অডিও সামলাতে লিখিত বিবৃতি আসে। বিবৃতির ভুল ধরতে লাইভ আসে। লাইভের জবাবে প্রেস কনফারেন্স হয়। প্রেস কনফারেন্সের জবাবে আরেক ভিডিও আসে। তারপর সবাই মিলে ঘোষণা করে, সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সত্যটা ঠিক কোনটা, সেটি কেউ আর মনে করতে পারে না।

তবে এত ভিডিও, এত অডিও, এত বিবৃতি, এত প্রেস কনফারেন্স, এত লাইভ, এত ট্রোল, এত ফ্যাক্টচেকের পরও জাতির মনে একটি প্রশ্নই চিরকাল অপূর্ণ থেকে যায়।

প্রশ্নটি ভিডিওতে কে ছিল, সেটা নয়। প্রশ্নটি কে কী করল, সেটাও নয়। প্রশ্নটি হলো, ভিডিওটা করল কে?

এই মানুষটি যেন আমাদের সময়ের সবচেয়ে রহস্যময় চরিত্র। চারপাশে যা-ই ঘটুক, তার হাত কাঁপে না। পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও তিনি ক্যামেরা স্ট্যাবিলাইজ করে শট নেন। সবাই যখন পালাচ্ছে, তিনি তখন অ্যাঙ্গেল ঠিক করছেন। সবাই যখন চিৎকার করছে, তিনি তখন ভাবছেন, ‘ল্যান্ডস্কেপে নাকি পোর্ট্রেটে নেব?’

‘শুধু ভাইরাল হলেই যাতে মনোযোগী না হই’Tasnim zara

হলিউডে সুপারহিরো থাকে। আমাদের দেশে সুপারহিরো নয়, সুপার ক্যামেরাম্যান থাকে। তিনি সব জায়গায় উপস্থিত, কিন্তু কোথাও দৃশ্যমান নন। তিনি ইতিহাসের নেপথ্য নায়ক। ভিডিও ভাইরাল হয়, মানুষ ধরা পড়ে, সরকার নড়ে, দল বিবৃতি দেয়, ট্রোলাররা উৎসব করে, কিন্তু ক্যামেরাম্যান রয়ে যান অধরা। তিনি যেন কোয়ান্টাম কণার মতো, তার অস্তিত্বের প্রমাণ আছে, অবস্থান জানা যায় না।

আর ঠিক যেদিন মনে হয়, এবার বুঝি সেই রহস্যের সমাধান হবে, সেদিনই অন্য কোনো কোণ থেকে আরেকটি ভিডিও বেরিয়ে আসে। জাতি আবার সব ভুলে নতুন ভিডিওর নিচে ভিড় জমায়। কমেন্ট বক্সে প্রথমেই লেখা হয়, ‘ভাই, ফুল ভিডিও দেন।’ দ্বিতীয় কমেন্ট, ‘পার্ট টু কবে?’ তৃতীয় কমেন্ট, ‘এডিটিংটা ভালো, কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আরও জমতে পারত।’

আমরা সত্যিই ভাগ্যবান জাতি। পৃথিবীর অন্য দেশে রাজনীতি হয় সংসদে। আমাদের দেশে হয় সিসিটিভিতে!

পাদটিকা: অপকর্ম করতে চাইলে করুন, কিন্তু বুঝেশুনে। নিজের প্রবৃত্তির বাইরে যাবেন না। কারণ, অবদমন সব সময় ভালো নয়। কিন্তু যা কিছুই করুন না কেন, সাবধানে, একটু দেখেশুনে করুন। অন্তত চারদিকে একবার তাকিয়ে নেবেন। আগে দেয়ালেরও কান ছিল। এখন দেয়ালের চোখও আছে। শুধু ঘরে নয়, রাস্তায় নয়, আকাশেও ক্যামেরা। সবখানে সিসিটিভি। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা নাকি বিদেশে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবন কাটান। যাদের সে সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য সবচেয়ে সস্তা এবং সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প একটাই। ভালো মানুষ হয়ে যান। ভালো হতে কিন্তু পয়সা লাগে না!

চিররঞ্জন সরকার: লেখক ও গবেষক

বিষয়: গণতন্ত্রভাইরালবাংলাদেশের রাজনীতিভাইরাল ভিডিওসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমফেসবুকরাজনীতিভিডিও
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া