Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

সরকারের ৬ মাস: দেশটা ভালো চলছে কি?

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৪৮
সরকারের ৬ মাস: দেশটা ভালো চলছে কি?
প্রতীকী ছবি

দেশটা ভালো চলছে না। নতুবা বউ চাল সদৃশ ভাত খেতে দেয় কেন? একবেলা হলে কথা বলতাম না, কিন্তু এখন নিয়মিত একই দশা। ভাত এমন কেন জিজ্ঞেস করতেই বিস্ফোরণ। “সারাদিন কলাম লেখা নিয়ে ব্যস্ত থাক, বহুদিন যাবত চুলায় গ্যাস থাকে না, মাঝে মাঝে মিটমিট করে জ্বলে, সেই জ্বলায় তাপ থাকে না, চাল আর ভাত হয় না, আমি করব কী।”

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তাহাজ্জুতের জন্য বউ শেষ রাতে ওঠে, আমি তখনো নেটে। ফজরের নামাজ-কোরআন তেলোয়াত শেষে সে পাকঘরে ঢোকে। ইদানীং দেখি গভীর রাতেই ভাত রান্না করে ফ্রিজে রাখছে। পচে যাওয়ার ভয়ে এই ব্যবস্থা। ফ্রিজ থেকে বের করা ভাত চালের মতো শক্ত। ওভেনে গরম করে দেয় না কেন জিজ্ঞেস করার সাহস হলো না। বিদ্যুতের দাম অস্বাভাবিক। শুধু বাসা-বাড়ি নয়, পুরো জীবনযাত্রাই বিদ্যুৎ-গ্যাসের কাছে জিম্মি।

পরিবহন খাতও অচলপ্রায়। আত্মীয়ের দাওয়াতে সিএনজির জন্য এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে খালি গাড়ি না পেয়ে বাসায় ফিরেছি। পরে জানলাম, গ্যাসের অভাবে অধিকাংশ সিএনজি বন্ধ। ট্রাক-বাসও একই অবস্থায়। জ্বালানি তেলে চললে পরিবহন খরচ বাড়ে, আর সেই চাপ পড়ে সবজির বাজারে। এখন কেজি প্রতি একশ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। নসিহতকারীদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বউ বাজারে যায়, বাজার থেকে এসে ঘ্যানঘ্যান করে, আমি শুনেও না শোনার ভান করি। নিম্ন আয়ের মানুষ কীভাবে টিকবে এই প্রশ্নের উত্তর কারো কাছে নেই। সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে শিল্পে। সারা দেশের কারখানা ভয়াবহ গ্যাস সংকটে। শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে অনেক কারখানা বন্ধ। গাজীপুরে দৈনিক চাহিদা ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, সরবরাহ ৩০ মিলিয়ন। সময়মতো পোশাক রপ্তানি না হলে কার্যাদেশ বাতিল কিংবা মূল্যছাড় দিতে হবে। শুধু পোশাক নয়, গ্যাসনির্ভর প্রতিটি শিল্পের উৎপাদন হুমকিতে। আমাদের নিজস্ব গ্যাস চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। তাই এলএনজি আমদানি করতেই হয়। বিগত আওয়ামী লীগের আমলে দুটি ভাসমান টার্মিনাল হয়েছিল। গত ২১ জুলাই একটি অগ্নিকাণ্ডে বন্ধ। সেটি চালু না হওয়া পর্যন্ত সংকট থাকবেই। কাচশিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। গ্যাসের অভাবে চুল্লি বন্ধ হলে সেটি আর চালু হয় না, নতুন করে বানাতে হয়। ইস্পাতেও একই অবস্থা। ফার্নেস অয়েল বা ডিজেলে যেতে হচ্ছে, কিন্তু ডিজেলও নেই। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ভেঙে পড়ছে।

লোডশেডিং এখন নিত্য সঙ্গী। গরমে, ঠান্ডায়, দিনে, রাতে। ঘরের ফ্রিজ, টিভি নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী লাকড়ি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। ড. ইউনূস দেশকে ‘সিঙ্গাপুর’ বানাতে গিয়ে ‘ইথিওপিয়া’ বানিয়ে দিয়ে গেছেন। আবার ভারতের কাছ থেকে ডিজেলের জন্য ধরনা। গত দুই বছরে হাজার হাজার কারখানা বন্ধ। কয়েক লাখ শ্রমিক বেকার। ফুটপাতে হকারের পাশাপাশি ভিক্ষুকও বেড়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

দুর্নীতির অভিযোগও থেমে নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, ইউনূসের আমলেই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে। অথচ ১৮ মাস ধরে ‘ধরা-ছোঁয়ার বাইরে’ থাকার সংস্কৃতি চলছে। বিরাট বাজেট, এই বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হলে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। কিন্তু জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখতে না পারলে বাজেট ফেল করলে দেশ ডুববে, জনগণের ভোগান্তিও বাড়বে। আনুপাতিক হিসাবে ইউনূস সরকার আওয়ামী লীগের চেয়েও বেশি ঋণ করেছে, এখনকার সরকারও ঋণে চলছে।

জনগণ ভোট দিয়ে বিএনপি জামায়াতকে সংসদে পাঠিয়েছে। সংসদে আলোচনা করে সরকারকে ভালোকাজে বাধ্য করা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখাই বিরোধী দলের কাজ। সেটা না করে সচিবালয় ঘেরাও কেন? সচিবালয় কি সংসদের চেয়ে বড়? আমলাতন্ত্র নিয়েও টানাটানি। ইউনূসের সময় থেকে আমলাতন্ত্র বিএনপি-জামায়াতের দখলে, এখন আবার ‘দলীয়করণমুক্ত’ করার নামে গণহারে ছাঁটাই হচ্ছে। দুয়েকজন বাদে আমলাদের তো রং নেই, সুযোগ বুঝে রং বদলায়।

সবশেষে একটা কথা, রাজনীতির অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে অর্থনীতির চাহিদা দিয়ে। মানুষ এখন স্লোগান নয়, গ্যাস চায়; ভাষণ নয়, বিদ্যুৎ চায়; মিছিল নয়, কারখানা চালু থাকা চায়। বিএনপির হাতে এখন রাষ্ট্রক্ষমতা। মাত্র ছয় মাস। দেশটা ভালো চলছে না—এই বাক্যটা যত দ্রুত ‘ভালো চলছে’তে বদলানো যায়, ততই মঙ্গল।

জিয়াউদ্দীন আহমেদ: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক

বিষয়: সরকারবিএনপিজ্বালানিমতামত
সর্বশেষ
  • ১

    এশিয়া কাপ: শিরোপায় চোখ রেখে বাংলাদেশের ‘ভারত পরীক্ষা’

  • ২

    সিএমএসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংকের চুক্তি

  • ৩

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ৪

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৫

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া