Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১

বাঙালির মুক্ত স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন পূরণের দিন

ফজলে রাব্বি

ফজলে রাব্বি

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২: ৫১
বাঙালির মুক্ত স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন পূরণের দিন

ভারতীয় সেনা বাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ ১৫ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মধ্যরাত থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বিমান হামলা বন্ধ রাখে। তবে ভারত-বাংলাদেশ যৌথবাহিনী আর্টিলারি ইউনিটগুলো ঢাকা শহরের সামরিক অবস্থানে সর্বাত্মক গোলাবর্ষণ চালিয়ে যায়। মিরপুর ও টঙ্গী সেতু দখল করে ভারতীয় প্যারা ট্রুপার ও পদাতিক বাহিনী ঢাকার একদম উপকণ্ঠে পৌঁছে যায়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

রণাঙ্গনে আর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ধরাশায়ী পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু লজ্জা আর অহমিকার কারণে তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণে রাজি হচ্ছিলেন না পূর্বাঞ্চলের পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল এ এ কে নিয়াজি। এই গোলাবর্ষণ তাকে আলোচনার টেবিলে বসানোর জন্য চূড়ান্ত সামরিক চাপ তৈরি করে।

ভারতীয় সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের কাছে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠায়। ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল মানেকশ-এর পক্ষ থেকে জেনারেল নিয়াজিকে জানানো হয় যে, শর্তহীন আত্মসমর্পণ করলেই বেসামরিক নাগরিক এবং সামরিক বন্দীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। চরম মানসিক চাপ নিয়েই জেনারেল নিয়াজি ঢাকার গভর্নর হাউসে (বর্তমানে বঙ্গভবন) ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক থেকে সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ফ্রন্টে পরাজয় নিশ্চিত হওয়ায় শর্তহীন আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুযায়ী সামরিক বন্দীদের (POWs) সঙ্গে ব্যবহার এবং তাদের সম্মান রক্ষা করার শর্ত পূরণ করে ভারতীয় ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জে এফ আর জ্যাকব তৈরি করেন ‘Instruments of Surrender’ বা আত্মসমর্পণ দলিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

অবশেষে বিকেল ৪ টা ৩১ মিনিটে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে জনসমুদ্রের সামনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ এ কে নিয়াজি আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন। যেখানে লেখা ছিলো “The Pakistan Eastern Command agrees to surrender all Pakistan Armed Forces in Bangladesh to the Joint Forces Commander, Eastern Theatre (পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ড বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তানের সমস্ত সশস্ত্র বাহিনী ইস্টার্ন থিয়েটারের যৌথ বাহিনী কমান্ডারের নিকট আত্মসমর্পণে সম্মত হচ্ছে)।” নিয়াজি তার কোমরের পিস্তল খুলে জেনারেল অরোরার হাতে তুলে দেন। বিশ্বের মানচিত্রে নিশ্চিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার শিরোনাম ছিল ‘BANGLADESH LIBERATED’। এতে বলা হয়, স্বাধীন রাষ্ট্রের আবেগে ঢাকা শহর ফেটে পড়েছে। ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তি বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর জনগণ রাস্তায় নেমে আসে, যা ছিল দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর স্বস্তি ও মুক্তির এক বাঁধভাঙা প্রকাশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস এর শিরোনাম ছিল, ‘PAKISTANIS SURRENDER IN DACCA; INDIA ORDERS CEASE-FIRE ON WEST’। এতে বলা হয় ঢাকায় ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্যের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের যুদ্ধ শেষ হলো। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পশ্চিম রণাঙ্গনেও একতরফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন, যা উপমহাদেশে দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনবে। যুদ্ধ শেষে ঢাকার সামগ্রিক চিত্রকে ভয়াবহ ‘গণহত্যা-পরবর্তী ধ্বংসযজ্ঞ’-এর জ্বলন্ত সাক্ষী হিসাবে তুলে ধরে বিদেশি গণমাধ্যমগুলো। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলো এটিকে কেবল সামরিক যুদ্ধ হিসেবে নয়, বরং জাতিগত নির্মূল (Ethnic Cleansing) এবং পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ধ্বংস হিসেবে বর্ণনা করে। একই সঙ্গে প্রায় সব খবরেই চূড়ান্ত উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করা হয় পাকিস্তানে বন্দী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থান নিয়ে।

বিশ্ববাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ অবিলম্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি দাবি করেন। ভারতের লোকসভায় ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এখন মুক্ত, স্বাধীন।

তথ্যসূত্র:

আনন্দবাজার পত্রিকা, ভারত

একাত্তরের দিনপঞ্জি, সাজ্জাদ শরিফ, রাশেদুর রহমান

বিষয়: মুক্তিযুদ্ধবাংলাদেশবিজয় দিবস১৬ই ডিসেম্বর
সর্বশেষ
  • ১

    ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে: হাইকোর্ট

  • ২

    খুলনায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

  • ৩

    ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে আগুন, সবশেষ যা জানা গেল

  • ৪

    হানিট্র্যাপে ফেলে শিক্ষককে জিম্মি, গ্রেপ্তার ৪

  • ৫

    ই-সিগারেটসহ নতুন তামাকপণ্য ব্যবহারকারী সাড়ে ৫% তরুণ: গবেষণার ফল

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া