Advertisement Banner

চীনের এআই রোবট যেভাবে পাল্টে দিচ্ছে বিশ্বব্যবস্থা

মেরিনা ঝাং
মেরিনা ঝাং
চীনের এআই রোবট যেভাবে পাল্টে দিচ্ছে বিশ্বব্যবস্থা

স্প্রিং ফেস্টিভ্যাল গালা উপলক্ষে চীনের জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে রক্তমাংসের শিল্পীদের পাশাপাশি হিউম্যানয়েড রোবট দিয়ে বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ওই রোবটগুলোকে দিয়ে ডিগবাজি খাওয়া, মল্লযুদ্ধ ও মার্শাল আর্ট প্রদর্শন করানো হয়েছে। তবে এগুলোকে নিছক বিনোদনই যে ছিল না সেটি স্পষ্ট হয়েছে কয়েকদিন পর।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের হাংঝৌ-ভিত্তিক ইউনিট্রি রোবোটিকস পরিদর্শনের ঘটনা কয়েকদিনের মধ্যেই একে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। এটি নিছক ভাইরাল হওয়ার মতো কোনো চমক ছিল না, বরং এটি ছিল বৈশ্বিক শিল্প খাতের জন্য চীনের এক স্পষ্ট বার্তা। চীন মূলত বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতাকে ক্লাউডভিত্তিক মডেলের পারফরম্যান্স থেকে ভৌত অর্থনীতিতে এমবডিড ইন্টেলিজেন্সের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

বৈশ্বিক এআই বিতর্ক এখনও মূলত ‘ক্লাউডভিত্তিক এআই যেমন ফ্রন্টিয়ার মডেল, কম্পিউটেশনের কেন্দ্রীকরণ, সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম এবং ‘বিজয়ীই সব পাবে’ এমন সব সমীকরণের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে। এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাঠামোগত সুবিধা অনেক যেমন সুগভীর পুঁজিবাজার, হাইপারস্কেলার এবং শীর্ষস্থানীয় গবেষণাগারগুলোর বিপুল অবকাঠামোগত সুবিধা। কিন্তু চীনের কৌশলগত মনোযোগ ক্রমশই ‘স্টিল এআই’ এর দিকে সরছে. অর্থাৎ, বাস্তব জগতে অনুধাবন, নড়াচড়া ও খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম এমন সব যন্ত্রের অভ্যন্তরে এআই সিস্টেম যুক্ত করা।

প্রথমদিকে চীনের বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোকে (ইভি) সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের উৎপাদন পরিসর, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ক্রমাগত উন্নয়নের ইকোসিস্টেম বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার দৃশ্যপটই বদলে দেয়। ঠিক একইভাবে এমবডিড ইন্টেলিজেন্স এবং হিউম্যানয়েড রোবোটিকস এখন এআই-চালিত পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার পরবর্তী চূড়ান্ত নির্ধারক ক্ষেত্র হিসেবে সামনে আসছে। আর চীন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ও বিশাল পরিসরে এসব প্রযুক্তির শিল্পায়ন ঘটাচ্ছে।

চীনে ‘এআই ইন স্টিল’ কৌশলটি এমবডিড বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকসকে একটি সর্বজনীন বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে। হিউম্যানয়েড বা মানবাকৃতির রোবটগুলো এখন নিছক কোনো বিলাসবহুল সামগ্রী নয়, বরং যেসব ক্ষেত্রে শ্রমিকের সংকট রয়েছে, যেখান কাজ পুনরাবৃত্তিমূলক বা বিপজ্জনক, সেখানে শ্রমশক্তি বৃদ্ধি ও পরিচালনগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এগুলো এক কৌশলগত হাতিয়ার। পাশাপাশি, ব্যাপক পরিসরে এসব রোবটের ব্যবহারের ফলে যে বিপুল উপাত্ত তৈরি হয়, তা পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে অপরিহার্য।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং ২০২৬ সালের টু সেশনস সম্মেলনের শুরুতে দেওয়া সরকারি প্রতিবেদনে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস এবং সিক্স-জির মতো বিষয়গুলোর পাশাপাশি এমবডিড ইন্টেলিজেন্স (ভৌত কাঠামোর এআই) এখন চীনের ভবিষ্যতের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, এবারই প্রথম সরকারের এত উচ্চপর্যায়ের কোনো নথিতে এই প্রযুক্তিটিকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়া হলো। এর মানে দাঁড়ায়, এটি এখন আর ছোটখাটো বা সাধারণ কোনো প্রযুক্তি নেই, বরং এটি এখন রাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। শুধু তাই নয়, চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় (২০২৬–২০৩০) উৎপাদন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে এআই যুক্ত করার যে দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা রয়েছে, সেখানেও এই এমবডিড ইন্টেলিজেন্স এবং রোবোটিকসকে যুক্ত করা হচ্ছে।

ভূ-অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

শুধু সফটওয়্যার-ভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চেয়ে এমবডিড ইন্টেলিজেন্স এবং বাস্তব রোবটগুলো একেবারেই আলাদা, কারণ এগুলো বাস্তবে নড়াচড়া করতে ও কাজ সম্পাদন করতে পারে। এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের নিয়মকানুন এবং নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতার কাঠামো থাকা প্রয়োজন। সহজ কথায়, বাস্তব জগতে রোবট যখন কাজ করবে, তখন এর নিরাপত্তা, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং ডেটা ব্যবহারের নিয়মগুলো হেলাফেলা করার সুযোগ নেই, বরং এগুলোকেই বাজারের মূল নিয়ন্ত্রক হতে হবে। আর তাই, এই খাতে আগামী দিনের প্রতিযোগিতা হবে নিরাপত্তা, সমন্বয় এবং শিল্পে ব্যবহারের মূল নিয়মগুলো কে নির্ধারণ করবে, তা নিয়ে।

এসব নিয়মের অনেকগুলোই আবার জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। আর ঠিক এ কারণেই বিশ্বব্যাপী ভৌত এআই ও রোবোটিকস শিল্প ক্রমশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নেতৃত্বাধীন দুটি আলাদা ও প্রতিযোগী বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। এই বিভক্তি গোটা বিশ্বের জন্যই সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। একইসঙ্গে এটি পশ্চিমাদের বর্তমান অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা কৌশলের জন্য একটি বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল প্রযুক্তির ওপর নজরদারি করাটা যৌক্তিক, বিশেষ করে নিরাপত্তার স্বার্থে। কিন্তু সবকিছুর ওপর কড়াকড়ি আরোপের একটা খারাপ দিকও আছে। এমনটা হতে পারে যে পশ্চিমা দেশগুলো হয়তো চমৎকার সব নমুনা বা প্রোটোটাইপ তৈরিতেই ব্যস্ত থাকবে, আর সেই সুযোগে চীন সেগুলো ব্যাপকভাবে উৎপাদন করে পুরো বাজার দখল করে নেবে। বিভিন্ন দেশের নিয়মকানুন আলাদা হওয়ার কারণে, এআই ও রোবট তৈরির কোম্পানিগুলোকে এখন বাধ্য হয়ে ভিন্ন ভিন্ন বাজারের জন্য একই পণ্যের দুটি ভিন্ন রূপ তৈরি করতে হচ্ছে।

ইউরোপ এই সমস্যার বড় একটি উদাহরণ। রোবট এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে জার্মানি অনেক এগিয়ে থাকলেও, তারা এগুলো ব্যাপকভাবে উৎপাদনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। এর মানে হলো, ইউরোপ হয়তো শুধু পরীক্ষামূলক সফলতার মাঝেই আটকে থাকবে— তারা কম খরচে পণ্যগুলো বাজারে ছাড়তে পারবে না। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনকে পাল্লা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন তাদের কৌশলগত খাতের তালিকায় এআই এবং চিপের পাশাপাশি রোবোটিকসকেও যুক্ত করার কথা ভাবছে।

তবে রোবট তৈরিতে চীনেরও কিছু বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চীনের কোম্পানিগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক কম খরচে রোবটের নানা সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশ তৈরি করছে এবং নিজেদের বাজার দখল করছে ঠিকই, কিন্তু তাদের মূল সমস্যাটা অন্য জায়গায়। এসব নিখুঁত যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মেশিনগুলোর জন্য চীন এখনও জাপান ও ইউরোপের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এছাড়া রোবটের সফটওয়্যার এবং অন্যান্য কাজের জন্য তাদের এখনও আমেরিকার এনভিডিয়া এবং বিদেশি ক্লাউড প্রযুক্তির ওপর অনেক বেশি ভরসা করতে হয়।

চীনে স্প্রিং ফেস্টিভ্যালের অনুষ্ঠানে এভাবেই রোবট ব্যবহার করা হয়েছে। ছবি: রয়টার্স
চীনে স্প্রিং ফেস্টিভ্যালের অনুষ্ঠানে এভাবেই রোবট ব্যবহার করা হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

বিশ্বব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব

এমবডিড ইন্টেলিজেন্স এখন উৎপাদনশীলতা, সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) এবং নিরাপত্তার একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর ফলে শুধু প্রযুক্তি খাতেই নয়, এর বাইরেও এর কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। এই প্রযুক্তিগুলো যত বেশি ছড়িয়ে পড়বে, সেগুলো শুধু প্রতিযোগিতাই নির্ধারণ করবে না, বরং বিশ্বব্যবস্থার মূল ভিত্তি যেমন নিয়মকানুন, একে অপরের ওপর নির্ভরতা এবং দরকষাকষির ক্ষমতাকেও নতুন করে সাজাবে।

মানবাকৃতির রোবটগুলো রাতারাতি সব মানুষের কাজের জায়গা দখল করে নেবে না ঠিকই। তবে যেসব দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি এবং শ্রমিকের অভাব রয়েছে, সেখানে এই রোবটগুলো অনেক বড় সমস্যার সমাধান করতে পারে। বিশেষ করে—পরিদর্শন, রক্ষণাবেক্ষণ, মালামাল আনা-নেওয়া, সাধারণ জিনিসপত্র জোড়া লাগানো (অ্যাসেম্বলি), পণ্য ঠিকানায় পৌঁছানো এবং বিপজ্জনক কাজগুলোর ক্ষেত্রে এগুলো বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কম খরচে উৎপাদন এবং বাস্তব পরিবেশে ব্যবহারের বিপুল অভিজ্ঞতার কারণে চীন এখন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বেশ সস্তায় এসব স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি (অটোমেশন) রপ্তানি করার মতো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উৎপাদন খাতে চীনের তৈরি রোবটগুলো ইতিমধ্যেই বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিচ্ছে।

এর ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন বাড়ানোর প্রযুক্তির সহজলভ্যতা বাড়ছে, তেমনি অন্যদিকে নতুন নতুন বাজারে চীনের প্রযুক্তিগত ইকোসিস্টেম ও নিয়মকানুন ছড়িয়ে পড়ছে। ভূ-অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে এটি এমন একটি দিক, যা নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয় না। এতে করে চীন সবার আগে মাঠে নামার বাড়তি সুবিধা (ফার্স্ট-মুভার অ্যাডভান্টেজ) পাবে, তাদের প্রযুক্তিগুলো দ্রুত শিল্পের রূপ নেবে, কাজ করতে করতে শেখার মাধ্যমে তারা আরও দক্ষ হবে এবং পণ্যের দাম, মান, ব্যবহারপদ্ধতি ও কাজের ধরন নিয়ে পুরো বিশ্বের প্রত্যাশা কেমন হবে তা ক্রমশ তারাই নির্ধারণ করে দেবে।

তবে এত কিছুর পরও, আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণকারী সংস্থাগুলো এখনও এই ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আইএসও টিসি ২৯৯ নামের একটি কমিটি দীর্ঘমেয়াদি ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে মানবাকৃতির রোবটের নিরাপত্তার জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন তৈরি করছে। এর ফলে অন্ততপক্ষে এমন একটি সাধারণ ভিত্তি তৈরি হচ্ছে, যেখানে সবাই একমত হতে পারে। এর মানে হলো, রোবট প্রযুক্তির দুনিয়া যে স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের মতো পুরোপুরি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাবে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। দেশগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন এখনও একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। তাই খরচ বেশি হলেও অনেক কোম্পানি কোনো নির্দিষ্ট বলয়ে যোগ না দিয়ে দুই বাজারের জন্যই আলাদা নিয়মে (ডুয়াল-স্ট্যাক) পণ্য তৈরির চেষ্টা করবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যখন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে এবং প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে বিশ্ব যখন একে অপরের ওপর নির্ভরশীল, তখন ঝুঁকি বুঝে ধাপে ধাপে কাজ করাটা খুবই জরুরি। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পুরো বিশ্বকে অকারণে সম্পূর্ণ আলাদা ও সাংঘর্ষিক দুটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় (অটোমেশন) ভাগ হতে বাধ্য না করে, কেবল উচ্চ ঝুঁকির জায়গাগুলোকে সুরক্ষিত রাখা। একইসঙ্গে প্রাথমিক নিরাপত্তা, দুর্ঘটনার রিপোর্ট করা এবং কম ঝুঁকির শিল্পগুলোতে একে অপরের প্রযুক্তি ব্যবহারের ন্যূনতম সাধারণ সুযোগটুকু টিকিয়ে রাখা।

এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপে যারা জিতবে তারা শুধু সেরা মডেলই বানাবে না, বরং সেগুলোকে তারা ব্যাপকভাবে শিল্পেও কাজে লাগাবে। বসন্ত উৎসবের সময় টিভিতে দেখানো সেই নৃত্যরত রোবটগুলো আসলে একটা সংকেত ছিল। এই সংকেত হলো চীন এখন বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) মতোই এমবডিড ইন্টেলিজেন্সের জন্য একটি বিশাল শিল্পকাঠামো তৈরি করছে, যার মধ্যে নিয়মকানুন, যন্ত্রাংশ, ডেটা এবং ক্রমাগত উন্নত হওয়ার প্রক্রিয়া- সবই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

লেখাটি দ্য ডিপ্লোম্যাটে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে অনূদিত

সম্পর্কিত