আরমান হোসেন মুরাদ

মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি বৈদ্যুতিক বিস্ফোরণ বদলে দিয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি ইলেকট্রিশিয়ান ইব্রাহিম মিয়ার জীবন। সৌদি আরবে কাজ করার সময় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৈদ্যুতিক প্যানেল বোর্ডে বিস্ফোরণের ঘটনায় তার মুখ, ঠোঁট, চোখ ও হাত মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। প্রায় ছয় মাস পরও তিনি স্বাভাবিকভাবে খেতে, ঘুমাতে কিংবা কথা বলতে পারছেন না। দীর্ঘ চিকিৎসা, আর্থিক সংকট এবং সীমিত সরকারি সহায়তার কারণে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার।
ইব্রাহিম মিয়া জানান, ২০২২ সালে বৈধ ভিসা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সৌদি আরবের দাম্মামে যান তিনি। ফরিদপুরের এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। সৌদিতে পৌঁছে কফিল (স্পন্সর) পরিবর্তন করে নতুন আকামা (রেসিডেন্স পারমিট) নেন। পরে একজন দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক প্যানেল বোর্ড, সার্কিট ব্রেকার ও টার্মিনেশন-সংক্রান্ত কাজ শুরু করেন।
তিনি বলেন, “আমি বৈধভাবেই সৌদি গিয়েছিলাম। ভিসা, পাসপোর্ট, ইকামা—সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী ছিল। কাজও ভালো চলছিল। মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতাম।”
চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে একটি বৈদ্যুতিক প্যানেল বোর্ডে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছিলেন ইব্রাহিম। কাজের একপর্যায়ে বোর্ডের ভেতরে থাকা উচ্চক্ষমতার সার্কিট ব্রেকারে হঠাৎ বিকট শব্দে একটি ইলেকট্রিক্যাল আর্ক ব্লাস্ট ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে বজ্রপাতের ঝলকের মতো তীব্র বৈদ্যুতিক আর্ক ও আগুনের শিখা তার মুখে আঘাত হানে। নিজেকে রক্ষা করতে মুখ ঢাকতে গেলে একই তাপ ও বৈদ্যুতিক আর্ক তার হাতেও লাগে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তার মুখমণ্ডল ও হাত মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়।
ইব্রাহিম বলেন, “যেমন আকাশে বজ্রপাত হলে বিদ্যুতের ঝলক দেখা যায়, ঠিক তেমন একটা আগুনের ঝলক আমার মুখে এসে লাগে।”
দুর্ঘটনার পর সৌদি আরবের একটি স্থানীয় হাসপাতালে প্রথমে ১৪ দিন আইসিইউতে এবং পরে সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তার দাবি, চিকিৎসার মোট বিল হয় প্রায় ২ লাখ ৭৫ থেকে ২ লাখ ৭৬ হাজার সৌদি রিয়াল। তবে সেই ব্যয় তিনি পরিশোধ করতে পারেননি। পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করছিলেন, তারা চিকিৎসার খরচও বহন করেনি বলে দাবি করেন ইব্রাহিম।

দুর্ঘটনার পর দেশে ফেরার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ইব্রাহিম মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও বিপুল চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধ করতে না পারায় তিনি সৌদি আরব ছাড়তে পারবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন। তার দাবি, যে প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করতেন, তারা চিকিৎসার দায়িত্ব না নিয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নেয়। এমন পরিস্থিতিতে এক সৌদি পুলিশ সদস্য তাকে দ্রুত দেশে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
ইব্রাহিম বলেন, “পুলিশ আমাকে বলেছিল, অনলাইনে মামলা হয়ে গেলে আর দেশে ফিরতে পারবা না। তাই যত দ্রুত সম্ভব টিকিট কেটে চলে যাও। ওই পুলিশ সদস্যের পরামর্শেই নিজের টাকায় টিকিট কেটে দেশে ফিরেছি। আর দুই-তিন দিন দেরি হলে হয়তো আজও সৌদি আরবে আটকে থাকতে হতো।”
দেশে ফিরে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ইব্রাহিম। পরে জানতে পারেন, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দগ্ধ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে জানানো হয়, যেহেতু তিনি ইতোমধ্যে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে চিকিৎসা শুরু করেছেন, তাই একই চিকিৎসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেখানেই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। এরপর তিনি আবার ঢাকা মেডিকেলেই ফিরে যান।
ইব্রাহিম বলেন, “পরে ঢাকা মেডিকেলে আমার চোখ ও ঠোঁটের অপারেশন করা হয়। পায়ের থেকে চামড়া নিয়ে চোখে লাগানো হয়েছিল। কিন্তু আমি যে ফল আশা করেছিলাম, সেটা পাইনি। এখনো একটি চোখের পাতা ঝুলে আছে, মুখ ছোট হয়ে গেছে। ঠিকমতো খেতে পারি না, কথা বলতেও কষ্ট হয়।”
চিকিৎসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “শারীরিক কষ্ট তো ছিলই, এর সঙ্গে চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়াটাও আমার জন্য খুব কঠিন হয়ে গেছে। হাসপাতালে নিচে বেডে থাকতে হয়েছে। চারপাশের পরিবেশ, গন্ধ আর দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নেওয়ার অভিজ্ঞতা আমাকে মানসিকভাবেও ভেঙে দিয়েছে। অনেক সময় কী চিকিৎসা হচ্ছে, পরের ধাপে কী হবে, সেটাও পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারিনি।”
বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে ইব্রাহিম বলেন, “দেশে আসার পর মনে হচ্ছে আমার মুখের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হয়েছে। চাপ দিলে পুঁজ ও রক্ত বের হয়। ঠোঁট বেঁকে গেছে, ঠিকমতো খেতে পারি না। রাতে ঘুমাতেও প্রচণ্ড কষ্ট হয়। আমি শুধু এমন চিকিৎসা চাই, যাতে অন্তত আবার স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে পারি।”
বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি নন। ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে থেকেই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করছেন। পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইব্রাহিমের দাবি, ভারতের চিকিৎসকেরা ছবি ও ভিডিও দেখে জানিয়েছেন, মুখের ক্ষতিগ্রস্ত চামড়া অপসারণ করে নতুন টিস্যু তৈরির জন্য একাধিক ধাপে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হবে। প্রাথমিক ধাপেই প্রায় ১৫ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। পুরো চিকিৎসায় প্রায় ২০ লাখ টাকা লাগবে বলে ধারণা করছেন তিনি।
এ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিকাশের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সহায়তায় প্রায় সাত লাখ টাকা সংগ্রহ হয়েছে বলে জানান ইব্রাহিম। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার তুলনায় এ অর্থ অপ্রতুল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারি সহায়তার বিষয়ে ইব্রাহিম বলেন, “প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সেখানে নুরুল হক নুর আমার পুরো বিষয়টি শুনেছেন এবং সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমাকে বলা হয়েছে, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের আওতায় সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে। তবে সেই অর্থ পেতে অন্তত দেড় মাস সময় লাগতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “নুর ভাই আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, আমার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দুই লাখ টাকায় আমার চিকিৎসা সম্ভব নয়। চিকিৎসকরা বলেছেন, সামনে আরও অনেকগুলো অপারেশন করতে হবে। আমি চাই তারা আমার অবস্থা নিজের চোখে দেখুক। আমি আবার স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে চাই।”
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুরুননাহার লতা বলেন, ইব্রাহিম মিয়ার ঘটনাটি উচ্চ ভোল্টেজজনিত বৈদ্যুতিক দগ্ধের একটি জটিল উদাহরণ। তার ভাষ্য, এ ধরনের দুর্ঘটনায় শুধু ত্বক নয়, মুখের নিচের চর্বি, পেশি, স্নায়ু, রক্তনালি, চোখ এবং মুখের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এটি সাধারণ আগুনে দগ্ধ হওয়ার তুলনায় অনেক বেশি জটিল।

তিনি বলেন, “রোগীর ল্যাব রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, তার হিমোগ্লোবিন, শ্বেত রক্তকণিকা, রক্তে গ্লুকোজ, কিডনির কার্যকারিতা নির্দেশক ক্রিয়েটিনিন এবং শরীরের ইলেকট্রোলাইট স্বাভাবিক রয়েছে, যা ইতিবাচক লক্ষণ। তবে শুধু ল্যাব রিপোর্ট দেখে মুখমণ্ডলের ক্ষতির গভীরতা বা ভবিষ্যৎ চিকিৎসার পূর্ণ মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। এজন্য রোগীকে সরাসরি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।”
ডা. নুরুননাহার লতা জানান, ইব্রাহিমের মুখ, ঠোঁট ও চোখের ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনমূলক চিকিৎসার বিষয়। সম্পূর্ণ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সব সময় সম্ভব না হলেও আধুনিক প্লাস্টিক ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব। ধাপে ধাপে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখ, ঠোঁট ও মুখের কার্যক্ষমতা অনেকাংশে ফিরিয়ে এনে রোগীকে স্বাভাবিকভাবে খাওয়া, কথা বলা ও দৈনন্দিন জীবনে ফিরতে সহায়তা করা যায়।
তিনি আরও জানান, এ ধরনের রোগীর চিকিৎসা একবারে শেষ হয় না। ইব্রাহিমের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ১০ থেকে ১২টি পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপে শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রয়োজনীয় ত্বক ও টিস্যু সংগ্রহ করে মুখমণ্ডলের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে প্রতিস্থাপন করতে হতে পারে। প্রতিটি অস্ত্রোপচারের পর ক্ষত নিরাময় এবং পরবর্তী ধাপের জন্য নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয়। ফলে পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি এবং ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়।
বাংলাদেশে চিকিৎসার সক্ষমতা প্রসঙ্গে ডা. লতা বলেন, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মুখমণ্ডলের জটিল দগ্ধ রোগীদের জন্য পুনর্গঠনমূলক ও প্লাস্টিক সার্জারিসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। রোগীর ক্ষতের ধরন, গভীরতা ও কার্যক্ষমতার ক্ষতি মূল্যায়ন করে পর্যায়ক্রমে স্কিন গ্রাফট, বিভিন্ন ধরনের রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করা হয়।
তবে এই চিকিৎসক বলেন, রোগীর আঘাতের মাত্রা, চিকিৎসার জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত প্রযুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তবে রোগীকে সরাসরি ক্লিনিক্যালি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন ছাড়া বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।
ডা. নুরুননাহার লতার মতে, উচ্চ ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক দগ্ধ রোগীদের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পর যত দ্রুত সম্ভব বিশেষায়িত বার্ন সেন্টারে চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ ধরনের দগ্ধে বাহ্যিক ক্ষতের তুলনায় অভ্যন্তরীণ টিস্যুর ক্ষতি বেশি হতে পারে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ফলোআপ, পর্যায়ক্রমিক পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার, ফিজিওথেরাপি এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করা গেলে রোগীর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়ে।
প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, ঢাকার উপ-পরিচালক (কল্যাণ) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রবাসে দুর্ঘটনায় আহত বা অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের আওতায় চিকিৎসা সহায়তা, প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। এ সহায়তা পেতে আবেদনকারীকে জাতীয় পরিচয়পত্র, বৈধ পাসপোর্ট, বিদেশে কর্মসংস্থানের তথ্য, মেডিকেল রিপোর্ট, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, ব্যাংক হিসাবের তথ্যসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। যাচাই-বাছাই শেষে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী চিকিৎসা সহায়তা অনুমোদন করা হয়।
ইব্রাহিম মিয়ার আবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তার আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই, আবেদন মূল্যায়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষে বিধি অনুযায়ী চিকিৎসা সহায়তার অর্থ প্রদান করা হবে।”
আহত প্রবাসীদের জন্য সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা চিকিৎসা সহায়তার বিষয়ে শরিফুল ইসলাম বলেন, “এই সহায়তা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রচলিত আর্থিক সহায়তা নীতিমালার আওতায় দেওয়া হয়। আবেদনকারীর শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসকের মতামত, মেডিকেল ডকুমেন্ট, দুর্ঘটনার প্রকৃতি এবং যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়।”
বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হয়। কোনো আবেদন মানবিক বা ব্যতিক্রমধর্মী বিবেচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেলে বোর্ডের প্রচলিত বিধি-বিধান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
এদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ইব্রাহিম মিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। ইব্রাহিমের ভাষ্য, তার শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার জটিলতা ও আর্থিক সংকটের বিষয়টি শুনে প্রতিমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি বৈদ্যুতিক বিস্ফোরণ বদলে দিয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি ইলেকট্রিশিয়ান ইব্রাহিম মিয়ার জীবন। সৌদি আরবে কাজ করার সময় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৈদ্যুতিক প্যানেল বোর্ডে বিস্ফোরণের ঘটনায় তার মুখ, ঠোঁট, চোখ ও হাত মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। প্রায় ছয় মাস পরও তিনি স্বাভাবিকভাবে খেতে, ঘুমাতে কিংবা কথা বলতে পারছেন না। দীর্ঘ চিকিৎসা, আর্থিক সংকট এবং সীমিত সরকারি সহায়তার কারণে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার।
ইব্রাহিম মিয়া জানান, ২০২২ সালে বৈধ ভিসা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সৌদি আরবের দাম্মামে যান তিনি। ফরিদপুরের এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। সৌদিতে পৌঁছে কফিল (স্পন্সর) পরিবর্তন করে নতুন আকামা (রেসিডেন্স পারমিট) নেন। পরে একজন দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক প্যানেল বোর্ড, সার্কিট ব্রেকার ও টার্মিনেশন-সংক্রান্ত কাজ শুরু করেন।
তিনি বলেন, “আমি বৈধভাবেই সৌদি গিয়েছিলাম। ভিসা, পাসপোর্ট, ইকামা—সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী ছিল। কাজও ভালো চলছিল। মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতাম।”
চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে একটি বৈদ্যুতিক প্যানেল বোর্ডে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছিলেন ইব্রাহিম। কাজের একপর্যায়ে বোর্ডের ভেতরে থাকা উচ্চক্ষমতার সার্কিট ব্রেকারে হঠাৎ বিকট শব্দে একটি ইলেকট্রিক্যাল আর্ক ব্লাস্ট ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে বজ্রপাতের ঝলকের মতো তীব্র বৈদ্যুতিক আর্ক ও আগুনের শিখা তার মুখে আঘাত হানে। নিজেকে রক্ষা করতে মুখ ঢাকতে গেলে একই তাপ ও বৈদ্যুতিক আর্ক তার হাতেও লাগে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তার মুখমণ্ডল ও হাত মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়।
ইব্রাহিম বলেন, “যেমন আকাশে বজ্রপাত হলে বিদ্যুতের ঝলক দেখা যায়, ঠিক তেমন একটা আগুনের ঝলক আমার মুখে এসে লাগে।”
দুর্ঘটনার পর সৌদি আরবের একটি স্থানীয় হাসপাতালে প্রথমে ১৪ দিন আইসিইউতে এবং পরে সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তার দাবি, চিকিৎসার মোট বিল হয় প্রায় ২ লাখ ৭৫ থেকে ২ লাখ ৭৬ হাজার সৌদি রিয়াল। তবে সেই ব্যয় তিনি পরিশোধ করতে পারেননি। পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করছিলেন, তারা চিকিৎসার খরচও বহন করেনি বলে দাবি করেন ইব্রাহিম।

দুর্ঘটনার পর দেশে ফেরার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ইব্রাহিম মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও বিপুল চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধ করতে না পারায় তিনি সৌদি আরব ছাড়তে পারবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন। তার দাবি, যে প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করতেন, তারা চিকিৎসার দায়িত্ব না নিয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নেয়। এমন পরিস্থিতিতে এক সৌদি পুলিশ সদস্য তাকে দ্রুত দেশে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
ইব্রাহিম বলেন, “পুলিশ আমাকে বলেছিল, অনলাইনে মামলা হয়ে গেলে আর দেশে ফিরতে পারবা না। তাই যত দ্রুত সম্ভব টিকিট কেটে চলে যাও। ওই পুলিশ সদস্যের পরামর্শেই নিজের টাকায় টিকিট কেটে দেশে ফিরেছি। আর দুই-তিন দিন দেরি হলে হয়তো আজও সৌদি আরবে আটকে থাকতে হতো।”
দেশে ফিরে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ইব্রাহিম। পরে জানতে পারেন, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দগ্ধ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে জানানো হয়, যেহেতু তিনি ইতোমধ্যে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে চিকিৎসা শুরু করেছেন, তাই একই চিকিৎসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেখানেই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। এরপর তিনি আবার ঢাকা মেডিকেলেই ফিরে যান।
ইব্রাহিম বলেন, “পরে ঢাকা মেডিকেলে আমার চোখ ও ঠোঁটের অপারেশন করা হয়। পায়ের থেকে চামড়া নিয়ে চোখে লাগানো হয়েছিল। কিন্তু আমি যে ফল আশা করেছিলাম, সেটা পাইনি। এখনো একটি চোখের পাতা ঝুলে আছে, মুখ ছোট হয়ে গেছে। ঠিকমতো খেতে পারি না, কথা বলতেও কষ্ট হয়।”
চিকিৎসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “শারীরিক কষ্ট তো ছিলই, এর সঙ্গে চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়াটাও আমার জন্য খুব কঠিন হয়ে গেছে। হাসপাতালে নিচে বেডে থাকতে হয়েছে। চারপাশের পরিবেশ, গন্ধ আর দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নেওয়ার অভিজ্ঞতা আমাকে মানসিকভাবেও ভেঙে দিয়েছে। অনেক সময় কী চিকিৎসা হচ্ছে, পরের ধাপে কী হবে, সেটাও পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারিনি।”
বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে ইব্রাহিম বলেন, “দেশে আসার পর মনে হচ্ছে আমার মুখের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হয়েছে। চাপ দিলে পুঁজ ও রক্ত বের হয়। ঠোঁট বেঁকে গেছে, ঠিকমতো খেতে পারি না। রাতে ঘুমাতেও প্রচণ্ড কষ্ট হয়। আমি শুধু এমন চিকিৎসা চাই, যাতে অন্তত আবার স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে পারি।”
বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি নন। ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে থেকেই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করছেন। পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইব্রাহিমের দাবি, ভারতের চিকিৎসকেরা ছবি ও ভিডিও দেখে জানিয়েছেন, মুখের ক্ষতিগ্রস্ত চামড়া অপসারণ করে নতুন টিস্যু তৈরির জন্য একাধিক ধাপে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হবে। প্রাথমিক ধাপেই প্রায় ১৫ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। পুরো চিকিৎসায় প্রায় ২০ লাখ টাকা লাগবে বলে ধারণা করছেন তিনি।
এ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিকাশের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সহায়তায় প্রায় সাত লাখ টাকা সংগ্রহ হয়েছে বলে জানান ইব্রাহিম। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার তুলনায় এ অর্থ অপ্রতুল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারি সহায়তার বিষয়ে ইব্রাহিম বলেন, “প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে গিয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সেখানে নুরুল হক নুর আমার পুরো বিষয়টি শুনেছেন এবং সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমাকে বলা হয়েছে, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের আওতায় সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে। তবে সেই অর্থ পেতে অন্তত দেড় মাস সময় লাগতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “নুর ভাই আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, আমার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দুই লাখ টাকায় আমার চিকিৎসা সম্ভব নয়। চিকিৎসকরা বলেছেন, সামনে আরও অনেকগুলো অপারেশন করতে হবে। আমি চাই তারা আমার অবস্থা নিজের চোখে দেখুক। আমি আবার স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে চাই।”
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুরুননাহার লতা বলেন, ইব্রাহিম মিয়ার ঘটনাটি উচ্চ ভোল্টেজজনিত বৈদ্যুতিক দগ্ধের একটি জটিল উদাহরণ। তার ভাষ্য, এ ধরনের দুর্ঘটনায় শুধু ত্বক নয়, মুখের নিচের চর্বি, পেশি, স্নায়ু, রক্তনালি, চোখ এবং মুখের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এটি সাধারণ আগুনে দগ্ধ হওয়ার তুলনায় অনেক বেশি জটিল।

তিনি বলেন, “রোগীর ল্যাব রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, তার হিমোগ্লোবিন, শ্বেত রক্তকণিকা, রক্তে গ্লুকোজ, কিডনির কার্যকারিতা নির্দেশক ক্রিয়েটিনিন এবং শরীরের ইলেকট্রোলাইট স্বাভাবিক রয়েছে, যা ইতিবাচক লক্ষণ। তবে শুধু ল্যাব রিপোর্ট দেখে মুখমণ্ডলের ক্ষতির গভীরতা বা ভবিষ্যৎ চিকিৎসার পূর্ণ মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। এজন্য রোগীকে সরাসরি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।”
ডা. নুরুননাহার লতা জানান, ইব্রাহিমের মুখ, ঠোঁট ও চোখের ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনমূলক চিকিৎসার বিষয়। সম্পূর্ণ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সব সময় সম্ভব না হলেও আধুনিক প্লাস্টিক ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব। ধাপে ধাপে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখ, ঠোঁট ও মুখের কার্যক্ষমতা অনেকাংশে ফিরিয়ে এনে রোগীকে স্বাভাবিকভাবে খাওয়া, কথা বলা ও দৈনন্দিন জীবনে ফিরতে সহায়তা করা যায়।
তিনি আরও জানান, এ ধরনের রোগীর চিকিৎসা একবারে শেষ হয় না। ইব্রাহিমের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ১০ থেকে ১২টি পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপে শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রয়োজনীয় ত্বক ও টিস্যু সংগ্রহ করে মুখমণ্ডলের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে প্রতিস্থাপন করতে হতে পারে। প্রতিটি অস্ত্রোপচারের পর ক্ষত নিরাময় এবং পরবর্তী ধাপের জন্য নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয়। ফলে পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি এবং ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়।
বাংলাদেশে চিকিৎসার সক্ষমতা প্রসঙ্গে ডা. লতা বলেন, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মুখমণ্ডলের জটিল দগ্ধ রোগীদের জন্য পুনর্গঠনমূলক ও প্লাস্টিক সার্জারিসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। রোগীর ক্ষতের ধরন, গভীরতা ও কার্যক্ষমতার ক্ষতি মূল্যায়ন করে পর্যায়ক্রমে স্কিন গ্রাফট, বিভিন্ন ধরনের রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করা হয়।
তবে এই চিকিৎসক বলেন, রোগীর আঘাতের মাত্রা, চিকিৎসার জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত প্রযুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তবে রোগীকে সরাসরি ক্লিনিক্যালি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন ছাড়া বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।
ডা. নুরুননাহার লতার মতে, উচ্চ ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক দগ্ধ রোগীদের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পর যত দ্রুত সম্ভব বিশেষায়িত বার্ন সেন্টারে চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ ধরনের দগ্ধে বাহ্যিক ক্ষতের তুলনায় অভ্যন্তরীণ টিস্যুর ক্ষতি বেশি হতে পারে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ফলোআপ, পর্যায়ক্রমিক পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার, ফিজিওথেরাপি এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করা গেলে রোগীর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়ে।
প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, ঢাকার উপ-পরিচালক (কল্যাণ) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রবাসে দুর্ঘটনায় আহত বা অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের আওতায় চিকিৎসা সহায়তা, প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। এ সহায়তা পেতে আবেদনকারীকে জাতীয় পরিচয়পত্র, বৈধ পাসপোর্ট, বিদেশে কর্মসংস্থানের তথ্য, মেডিকেল রিপোর্ট, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, ব্যাংক হিসাবের তথ্যসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। যাচাই-বাছাই শেষে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী চিকিৎসা সহায়তা অনুমোদন করা হয়।
ইব্রাহিম মিয়ার আবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তার আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই, আবেদন মূল্যায়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষে বিধি অনুযায়ী চিকিৎসা সহায়তার অর্থ প্রদান করা হবে।”
আহত প্রবাসীদের জন্য সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা চিকিৎসা সহায়তার বিষয়ে শরিফুল ইসলাম বলেন, “এই সহায়তা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রচলিত আর্থিক সহায়তা নীতিমালার আওতায় দেওয়া হয়। আবেদনকারীর শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসকের মতামত, মেডিকেল ডকুমেন্ট, দুর্ঘটনার প্রকৃতি এবং যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়।”
বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হয়। কোনো আবেদন মানবিক বা ব্যতিক্রমধর্মী বিবেচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেলে বোর্ডের প্রচলিত বিধি-বিধান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
এদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ইব্রাহিম মিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। ইব্রাহিমের ভাষ্য, তার শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার জটিলতা ও আর্থিক সংকটের বিষয়টি শুনে প্রতিমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাজনীতির মাঠে এখনো বড় কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েনি বিএনপি। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে ক্ষমতাসীন দলটি। দীর্ঘদিন পর দলীয় প্রতীক ছাড়া হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন একদিকে যেমন দলটির জন্য সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে তৈরি করেছে

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারোয়ার আলমের আকস্মিক প্রত্যাহার নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে। হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং নজরানার অর্থ স্বচ্ছতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার পরপরই এই বদলির