Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> মতামত

ভালোবাসা যার আর কোনো নাম নেই

ফারহানা আহমেদ লিসা

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬: ৫১
ভালোবাসা যার আর কোনো নাম নেই

ঘটনাটার শুরু দুই সপ্তাহ আগে। বিভিন্ন কারণে হাসপাতালে চরম ব‍্যস্ততা চলছে। এর মাঝে একজন রোগী এলেন, ৪৮ বছর বয়স। সাধারণত ইমার্জেন্সি থেকে হাসপাতলে রোগী ভর্তি হওয়ার দরকার না থাকলে ওরা কল করেন না। সকাল সকাল একজন ডাক্তার কল করলেন। বললেন, ফারহানা রোগীটা একটু দেখবে? চলে যেতে চাইছে বাসায় কিন্তু সব ল‍্যাব টেস্ট এবনরমাল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

গেলাম দেখতে। গিয়ে দেখি গম্ভীর ভঙ্গীতে রোগী বসা। সাথে কান্না কান্না চেহারার বউ ওর হাত ধরে বসা।

আমি ঢুকতেই রোগীর বউ বলে উঠলেন, একটু দেখ কি হয়েছে ওর। আমাদের বিয়ে হয়েছে এতগুলো বছর, কোনোদিন এত বাজে ঝগড়া করেনি ও আমার সাথে।

আমি অবাক হয়ে বললাম, এজন‍্য হাসপাতালে নিয়ে এসেছ?

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বউ বললেন, হ‍্যাঁ। হাইস্কুল সুইট হার্ট আমরা, বিয়ের পর থেকে সকালের কফি কোনোদিন নিজে বানিয়ে খাইনি। সব কিছু একসাথে করি। একমাস আগেও কাজের তাড়া থাকাতে কফি না নিয়ে চলে যাচ্ছিলাম। রিয়ার ভিউ মিররে দেখি খালি পায়ে ও দৌড়ে রাস্তা পর্যন্ত চলে এসেছে কফি হাতে। আর এই ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে ও আমাকে প্রথম বকা দিল, বলল নিজের কফি নিজে বানিয়ে খাও। সব সময় এত অলসতা কেন কর?

আমি হাসব না, হাসব না করেও হেসে ফেললাম। তারপর মাথার সিটি স্ক্যান করতে বলে এক কাপ কফি খেলাম। সিটি স্ক‍্যান দেখে অবাক হলাম। মনে হলো একটা এবনরমাল গ্রোথ নাকের অনেক গভীরে। সাথে সাথে বায়োপসির জন‍্য যোগাযোগ করলাম। বায়োপসি করা গেল না, নাকের খুব গভীরে বেকায়দা একটা জায়গায় গ্রোথের জন‍্য।

আমি রোগীকে বলতে গেলাম। দেখি বউটা কাঁদছে। মেরি ওর নাম। রোগী বলছে, মেরি কেন যে এতটা ঝামেলা করে। ডাক্তার আমাদের চলে যেতে দাও। আমি বললাম, আরেকজন ডাক্তার আছেন যার ওপেনিয়ন নিতে হবে। তিনি তোমাদের চলে যেতে বললে আমি ডিসচার্জ করে দেব, সমস‍্যা নেই।

লেখক
লেখক

অনকোলজিস্ট আমার বন্ধু, ভীষণ মেধাবী একজন মানুষ। ওকে ফোন করলাম, একসাথে রিভিউ করলাম সিটি স্ক্যান। তিনি বললেন, ফারহানা ভীষণ অ্যাগ্রেসিভ একটা ক‍্যানসার মনে হয় আমরা খুব আর্লি স্টেজে ধরে ফেলেছি। দেখতে আসছি রোগীকে।

সেই রোগী ভর্তি হলেন, পুরো শরীরে স্ক‍্যান করা হলো জরুরিভিত্তিতে। তারপর কয়েক দিন রেডিয়েশন পেলেন, তারপর কেমোথেরাপি।

ভ্যালেন্টাইনস ডের সকালে রোগীকে দেখতে গেলাম। ঝলমলে আনন্দিত একজন মানুষ বসে আছেন। একটু পর নার্সের সাথে কথা কাটাকাটি করতে করতে মেরি এলেন। আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, দেখতো ডাক্তার জীবনে এই প্রথম ভালোবাসা দিবসে আমার স্বামীর জন‍্য ফুল এনেছি, নার্স ফুল রুমের ভেতরে আনতে দেবে না। বলছে, কেমো পেশেন্টকে ফ্রেস ফুল, ফল, সবজি কিচ্ছু দেওয়া যায় না। মেরির কথা শুনে রোগী হাসছেন।

আমি বললাম তুমি তো একে সুস্থ করে বাসায় নিয়ে যেতে চাও তাই না?

মেরি বললেন, হ‍্যাঁ।

আমি বললাম, তাহলে ফুল নার্সদের ষ্টেশনে থাকুক।

রোগী বললেন, তাহলে ডাক্তার তোমার বাসায় নিয়ে যাও না?

আমি বললাম, কেন?

মেরি চোখ মুছতে মুছতে বললেন, নিয়ে যাও বাসায় ডাক্তার। তোমাকে ধন‍্যবাদ আমার হাবিকে আগের মতো করে ফিরিয়ে দেবার জন‍্য।

মনে মনে আল্লাহকে ধন‍্যবাদ জানালাম। তারপর হেসে বললাম আমার বাসায় দুটি বিড়াল ছানা আছে। অনেক ফুল ওদের জন‍্য টক্সিক।

একগুচ্ছ টিউলিপ ফুল কে যেন দিয়েছিল সেদিন। বাসার পিছনে রাখাতে সেই ফুল গাছ মারা গেছে। আমার বোনের সে কি রাগ শুনে। কেন গাছেরও তো প্রাণ আছে। তুই কি মনে করে গাছ মেরে ফেললি? আমি যতই বোঝাই ব‍্যাপারটা সেটা না, আমি চেষ্টা করেছি পানি দিয়ে…বোন ততই রাগ হয়। বাবা একই ঝামেলায় দুবার যাব না। আমাদের রমজান আসছে। আমি তোমাদের জন‍্য মন খুলে দোয়া করব, তুমি সুস্থ হলেই আমার সব কিছু পাওয়া হবে।

ওরা দুজনই খুব হাসছে। রোগীর রুম থেকে বের হয়ে দেখি অপূর্ব কিছু ফুল সাজানো। ভালোবাসার রঙে রাঙ্গানো। ভালোবাসা, যার আর কোনো নাম নেই।


*ফারহানা আহমেদ লিসা: সান ডিয়াগো, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র

বিষয়: মুক্ত আলোচনাভালোবাসা দিবসভালোবাসামুক্ত মত
সর্বশেষ
  • ১

    ময়মনসিংহে পেট্রোল ঢেলে যুবককে পুড়িয়ে হত্যা

  • ২

    খুলনায় আওয়ামী লীগের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

  • ৩

    বিদ্যুৎ খাতে নেই সুসংবাদ, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা

  • ৪

    বাব আল-মান্দেবের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দখলে নিল হুতিরা

  • ৫

    বরিশালের সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।