Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> মতামত

শিশু রামিসা, ধর্ষণ ও আমাদের বিচারবোধ

শরীফুল আলম

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬, ১৬: ৫৪
শিশু রামিসা, ধর্ষণ ও আমাদের বিচারবোধ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে এখন বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, অবরোধ ও নানা কর্মসূচি চলছে। কেউ ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছেন, কেউ শরিয়া আইনে বিচার চান, আবার কেউ বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই তাৎক্ষণিক মৃত্যুদণ্ডের দাবিও তুলছেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই ক্ষোভ, প্রতিবাদ সবই স্বাভাবিক। কারণ, একটি শিশুর ওপর এমন নির্মমতা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দেয়। তবে এই ঘটনাকে আমি খুব সরল কোনো সমীকরণে ফেলতে চাই না। বাংলাদেশে এটাই প্রথম শিশু ধর্ষণ বা হত্যার ঘটনা নয়। শুধু শিশুরাই নয়, নারীরাও আজ বহু ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীন। এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়েও নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

রামিসার ঘটনায় মানুষ রাস্তায় নেমেছে এটি ইতিবাচক দিক। কারণ, জনসচেতনতা তৈরি করতে সামাজিক প্রতিবাদের বিকল্প নেই। রাষ্ট্র ও নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহির মুখোমুখি করতেও এ ধরনের আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের নিশ্চয়ই অ্যাসিড সন্ত্রাসের কথা মনে আছে। একসময় বাংলাদেশে অ্যাসিড নিক্ষেপ ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি হয়ে উঠেছিল। কিন্তু দীর্ঘ সামাজিক আন্দোলন, কঠোর আইন প্রয়োগ ও জনসচেতনতার ফলে এখন এ ধরনের অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে ধর্ষণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কেন এখনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ফল দেখাতে পারছে না?

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এবার আসি বিচার প্রসঙ্গে।

অনেকেই ধর্ষকের ফাঁসি দাবি করছেন। আমিও এই অপরাধের সর্বোচ্চ বিচার চাই। কিন্তু একটি রাষ্ট্রে বিচারিক প্রক্রিয়া বলে তো কিছু আছে। তদন্ত হবে, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ হবে, ফরেনসিক রিপোর্ট আসবে, সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আদালতে উপস্থাপন করা হবে, এরপর বিচারক প্রচলিত আইনের আলোকে রায় দেবেন। তার আগেই যদি আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যার দাবি তুলি, তাহলে আইনের শাসনের জায়গাটি কোথায় দাঁড়াবে?

সভ্য রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিই হলো বিচার হবে আইনের মাধ্যমে, প্রতিশোধের মাধ্যমে নয়।

ধর্ষণের বিরুদ্ধে আজ সারা দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ এটি অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। তবে আমার প্রশ্ন হলো, যারা ধর্ষণের বিচারে শরিয়া আইন প্রয়োগের দাবি তুলছেন, তারা কি ভেবে দেখেছেন বাংলাদেশ একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে বিচারব্যবস্থা সংবিধান ও প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়? এখানে শরিয়া আইন রাষ্ট্রীয় আইনব্যবস্থার ভিত্তি নয়।

আরেকটি বিষয়ও স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ধর্ষণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর শাস্তির বিধান রেখেছে। অনেকেই হয়তো না জেনেই শরিয়া আইনের কথা বলছেন। অথচ ইসলামী ফিকহে ধর্ষণ ও ‘জিনা’ (সম্মতিসূচক অবৈধ যৌনসম্পর্ক) এক বিষয় নয়। তাদের প্রমাণ পদ্ধতি ও বিচারিক কাঠামোও ভিন্ন।

ইসলামী আইনশাস্ত্রে ধর্ষণ প্রমাণের প্রশ্নটি অত্যন্ত জটিল। ঐতিহাসিকভাবে চারজন প্রত্যক্ষ সাক্ষীর প্রসঙ্গ এসেছে মূলত ‘জিনা’ প্রমাণের ক্ষেত্রে। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ফরেনসিক, ডিএনএ, আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বিচার সম্পন্ন হয়। ফলে ধর্মীয় আবেগের জায়গা থেকে নয়, বাস্তব বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা বিবেচনা করেই আমাদের আলোচনা করা উচিত।

আরও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, ধর্ষণ ও হত্যা একসঙ্গে সংঘটিত হলে সেটি কেবল যৌন অপরাধ নয়, বরং মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ। রামিসার ক্ষেত্রে সেটিই ঘটেছে। তাই এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। তবে অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

আজ আমরা রামিসার জন্য প্রতিবাদ করছি। কিন্তু কেবল একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করলেই চলবে না। আমি চাই, ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক। একজন রামিসা নয় পৃথিবীর প্রতিটি শিশুই আমাদের সবার দায়িত্ব।

শেষে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি নিজে ভিকটিম পরিবারের বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ঘটনার বিচার তদারকির আশ্বাস দিয়েছেন। সরকার প্রধানের এই মানবিক উপস্থিতি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেশবাসী চায় এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো রামিসাকে এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

লেখক: কলামিস্ট ও কবি, নিউইয়র্ক, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র

ইমেইল: [email protected]

বিষয়: ধর্ষণমুক্ত আলোচনাহত্যামুক্ত মত
সর্বশেষ
  • ১

    ময়মনসিংহে পেট্রোল ঢেলে যুবককে পুড়িয়ে হত্যা

  • ২

    খুলনায় আওয়ামী লীগের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

  • ৩

    বিদ্যুৎ খাতে নেই সুসংবাদ, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা

  • ৪

    বাব আল-মান্দেবের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দখলে নিল হুতিরা

  • ৫

    বরিশালের সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।