চরচা ডেস্ক

খনিজ সম্পদ নিয়ে যখন দেশে দেশে হানাহানি, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা আর ভূরাজনীতির নকশা পাল্টে যাওয়ার অবস্থা, তখন অন্যতম মুল্যবান খনিজ নিয়ে একটু গল্প করা যাক। নিঃসন্দেহে সেই খনিজটির নাম ডায়মন্ড বা হীরা। আর হীরা নিয়ে কেন আজকের গল্প? কারণ আজকের এই দিনেই ১২১ বছর আগে সর্ববৃহৎ হীরকখন্ডটি খুঁজে পাওয়া যায়।
১৯০৫ সালের ২৫ জানুয়ারি (মতান্তরে ২৬ জানুয়ারি), দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ার প্রিমিয়ার খনিতে রুটিন পরিদর্শনের সময় একজন খনি সুপারিনটেনডেন্ট এক হীরক খণ্ড আবিষ্কার করেন। তিন হাজার ১০৬ ক্যারেটের এই হীরাটির ওজন ছিল প্রায় ১ দশমিক ৩৩ পাউন্ড। কালিনান নামের এই হীরাটি এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত বিশ্বের বৃহত্তম হীরা।
সুপারিনটেনডেন্ট ফ্রেডেরিক ওয়েলস যখন মাটির ১৮ ফুট গভীরে ছিলেন, তখন ঠিক মাথার উপরে খনির দেয়ালে তারার মতো এক উজ্জ্বল আলোর ঝিলিক দেখতে পান। সেই বিকেলেই তার এই আবিষ্কারটি খনির মালিক স্যার থমাস কালিনানের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। এতক্ষণে নিশ্চয় বোঝা যাচ্ছে যে কেন হীরাটির নাম হলো কালিনান।
পরবর্তীতে কালিনান হীরাটি ট্রান্সভাল প্রাদেশিক সরকারের কাছে বিক্রি করে দেন এবং সরকার পাথরটি ব্রিটেনের রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডকে জন্মদিনের উপহার হিসেবে পাঠান।
আফ্রিকা থেকে লন্ডন পাঠানোর পথে হীরাটি চুরি হওয়ার আশঙ্কায় রাজা এডওয়ার্ড এক সুচতুর কৌশল অবলম্বন করেন। দৃষ্টি সরানোর জন্য তিনি গোয়েন্দা পরিবেষ্টিত একটি স্টিমার জাহাজে করে একটি নকল হীরা পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সেই ছদ্মবেশী নকল হীরা যখন জাহাজে করে ধীরগতিতে আফ্রিকা থেকে আসছিল, ঠিক সেই সময়েই আসল কালিনান একটি সাধারণ বাক্সে ভরে ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
রাজা এডওয়ার্ড কালিনান হীরাটি কাটার দায়িত্ব দেন আমস্টারডামের ‘অ্যাশার ডায়মন্ড কোম্পানি’র প্রধান জোসেফ অ্যাশারের ওপর। ১৮৯৩ সালে পাওয়া ৯৭১ ক্যারেটের বিখ্যাত এক্সেলসিয়র হীরাটি কাটার অভিজ্ঞতা ছিল তার। তবে এই বিশাল হীরাটিতে হাত দেওয়ার আগে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে তিনি এটি নিয়ে নিবিড় গবেষণা করেন।
হীরাটি কাটার প্রথম প্রচেষ্টায় স্টিলের ব্লেড ভেঙে গেলেও হীরার কিছু হয়নি। তবে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় হীরাটি ঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী নিখুঁতভাবে খণ্ডিত হয়। কথিত আছে, চরম স্নায়বিক উত্তেজনা ও মানসিক অবসাদে জোসেফ অ্যাশার এরপর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন।
পরবর্তীতে কালিনান হীরাটিকে কেটে ৯টি বড় পাথর এবং প্রায় ১০০টি ছোট পাথরে বিভক্ত করা হয়, যার সম্মিলিত বাজারমূল্য কয়েক মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পাথরটির নাম দেওয়া হয়েছে স্টার অফ আফ্রিকা-১ বা কালিনান-১। ৫৩০ ক্যারেটের এই হীরাটি বিশ্বের বৃহত্তম কাটিং করা উন্নত মানের বর্ণহীন হীরা। দ্বিতীয় বৃহত্তম খণ্ডটির নাম স্টার অফ আফ্রিকা-২ বা কালিনান-২, যার ওজন ৩১৭ ক্যারেট।
এই দুটি হীরার পাশাপাশি কালিনান-৩ বর্তমানে লন্ডনের টাওয়ারে ব্রিটিশ রাজপরিবারের অন্যান্য রত্নালঙ্কারের সাথে প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মধ্যে কালিনান-১ হীরাটি ব্রিটিশ রাজদণ্ডে এবং কালিনান-২ হীরাটি ব্রিটিশ রাজমুকুটে বসানো রয়েছে।

খনিজ সম্পদ নিয়ে যখন দেশে দেশে হানাহানি, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা আর ভূরাজনীতির নকশা পাল্টে যাওয়ার অবস্থা, তখন অন্যতম মুল্যবান খনিজ নিয়ে একটু গল্প করা যাক। নিঃসন্দেহে সেই খনিজটির নাম ডায়মন্ড বা হীরা। আর হীরা নিয়ে কেন আজকের গল্প? কারণ আজকের এই দিনেই ১২১ বছর আগে সর্ববৃহৎ হীরকখন্ডটি খুঁজে পাওয়া যায়।
১৯০৫ সালের ২৫ জানুয়ারি (মতান্তরে ২৬ জানুয়ারি), দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ার প্রিমিয়ার খনিতে রুটিন পরিদর্শনের সময় একজন খনি সুপারিনটেনডেন্ট এক হীরক খণ্ড আবিষ্কার করেন। তিন হাজার ১০৬ ক্যারেটের এই হীরাটির ওজন ছিল প্রায় ১ দশমিক ৩৩ পাউন্ড। কালিনান নামের এই হীরাটি এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত বিশ্বের বৃহত্তম হীরা।
সুপারিনটেনডেন্ট ফ্রেডেরিক ওয়েলস যখন মাটির ১৮ ফুট গভীরে ছিলেন, তখন ঠিক মাথার উপরে খনির দেয়ালে তারার মতো এক উজ্জ্বল আলোর ঝিলিক দেখতে পান। সেই বিকেলেই তার এই আবিষ্কারটি খনির মালিক স্যার থমাস কালিনানের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। এতক্ষণে নিশ্চয় বোঝা যাচ্ছে যে কেন হীরাটির নাম হলো কালিনান।
পরবর্তীতে কালিনান হীরাটি ট্রান্সভাল প্রাদেশিক সরকারের কাছে বিক্রি করে দেন এবং সরকার পাথরটি ব্রিটেনের রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডকে জন্মদিনের উপহার হিসেবে পাঠান।
আফ্রিকা থেকে লন্ডন পাঠানোর পথে হীরাটি চুরি হওয়ার আশঙ্কায় রাজা এডওয়ার্ড এক সুচতুর কৌশল অবলম্বন করেন। দৃষ্টি সরানোর জন্য তিনি গোয়েন্দা পরিবেষ্টিত একটি স্টিমার জাহাজে করে একটি নকল হীরা পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সেই ছদ্মবেশী নকল হীরা যখন জাহাজে করে ধীরগতিতে আফ্রিকা থেকে আসছিল, ঠিক সেই সময়েই আসল কালিনান একটি সাধারণ বাক্সে ভরে ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
রাজা এডওয়ার্ড কালিনান হীরাটি কাটার দায়িত্ব দেন আমস্টারডামের ‘অ্যাশার ডায়মন্ড কোম্পানি’র প্রধান জোসেফ অ্যাশারের ওপর। ১৮৯৩ সালে পাওয়া ৯৭১ ক্যারেটের বিখ্যাত এক্সেলসিয়র হীরাটি কাটার অভিজ্ঞতা ছিল তার। তবে এই বিশাল হীরাটিতে হাত দেওয়ার আগে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে তিনি এটি নিয়ে নিবিড় গবেষণা করেন।
হীরাটি কাটার প্রথম প্রচেষ্টায় স্টিলের ব্লেড ভেঙে গেলেও হীরার কিছু হয়নি। তবে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় হীরাটি ঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী নিখুঁতভাবে খণ্ডিত হয়। কথিত আছে, চরম স্নায়বিক উত্তেজনা ও মানসিক অবসাদে জোসেফ অ্যাশার এরপর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন।
পরবর্তীতে কালিনান হীরাটিকে কেটে ৯টি বড় পাথর এবং প্রায় ১০০টি ছোট পাথরে বিভক্ত করা হয়, যার সম্মিলিত বাজারমূল্য কয়েক মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পাথরটির নাম দেওয়া হয়েছে স্টার অফ আফ্রিকা-১ বা কালিনান-১। ৫৩০ ক্যারেটের এই হীরাটি বিশ্বের বৃহত্তম কাটিং করা উন্নত মানের বর্ণহীন হীরা। দ্বিতীয় বৃহত্তম খণ্ডটির নাম স্টার অফ আফ্রিকা-২ বা কালিনান-২, যার ওজন ৩১৭ ক্যারেট।
এই দুটি হীরার পাশাপাশি কালিনান-৩ বর্তমানে লন্ডনের টাওয়ারে ব্রিটিশ রাজপরিবারের অন্যান্য রত্নালঙ্কারের সাথে প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মধ্যে কালিনান-১ হীরাটি ব্রিটিশ রাজদণ্ডে এবং কালিনান-২ হীরাটি ব্রিটিশ রাজমুকুটে বসানো রয়েছে।