আজ বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার মধ্যেই চাঁদের চারদিকে ১০ দিনের এক অভিযানে চারজন মহাকাশচারীকে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত এক খবরে এ তথ্য জানা যায়। এটি গত কয়েক দশকের মধ্যে আমেরিকার সবচেয়ে ‘উচ্চাভিলাষী’ মহাকাশ অভিযান এবং চীনের প্রথম মানববাহী চন্দ্রাভিযানের আগেই চাঁদের পৃষ্ঠে পুনরায় মানুষ ফিরিয়ে নেওয়ার পথে একটি বড় পদক্ষেপ।
সবকিছু ঠিক থাকলে বুধবার সন্ধ্যা ৬:২৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৪:২৪ মিনিট) ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে আর্টেমিস ২ মিশনের সফল উৎক্ষেপণ হতে পারে। ৩২২ ফুট উচ্চতার বিশালাকার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেটে চড়ে ওরিয়ন ক্যাপসুলে করে মহাকাশচারীরা চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি জমাবেন।
১০ দিনের এই অভিযানে চারজন মহাকাশচারী চাঁদের চারপাশ দিয়ে প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার মাইল পথ পাড়ি দেবেন, যা মহাকাশে মানুষের ভ্রমণের ইতিহাসে দীর্ঘতম পথের নতুন রেকর্ড। এর আগে ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো-১৩ মিশন ২ লাখ ৪৮ হাজার মাইল পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। আর্টেমিস ২-এর মূল লক্ষ্য হলো মহাকাশযানের জীবনরক্ষা ব্যবস্থা ও ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা করা, যা ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী বসতি স্থাপনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
ক্রু দলে রয়েছেন নাসার মহাকাশচারী ক্রিস্টিনা কোক, ভিক্টর গ্লোভার, রিড ওয়াইজম্যান এবং কানাডার মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন। দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইন শেষে তারা এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতির অপেক্ষায়। লঞ্চ ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন জানিয়েছেন, কারিগরি ও আবহাওয়াগত দিক থেকে মিশনটি এখন পর্যন্ত বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি বা প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উৎক্ষেপণ পিছিয়ে গেলে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বিকল্প সুযোগ রাখা হয়েছে।
এই অভিযানটি ২০২৮ সালে আর্টেমিস ৪ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষ নামানোর প্রাথমিক ধাপ। মূলত চীন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য নিয়েছে, তার আগেই নিজেদের আধিপত্য পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর নাসা। বোয়িং ও লকহিড মার্টিনের মতো প্রতিষ্ঠান এবং স্পেসএক্সের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলো এই বিশাল কর্মযজ্ঞে নাসার অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।