দুর্নীতিতে আরও অবনতি বাংলাদেশের

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
দুর্নীতিতে আরও অবনতি বাংলাদেশের
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন। ছবি: চরচা

বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় আরও এক ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালে দুর্নীতিতে আরও অবনতি হয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন নিচের দিক থেকে ১৩তম। ২০২৪ সালে এই অবস্থান ছিল ১৪ম। বিশ্বের ১৮২টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে জরিপের ভিত্তিতে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের করাপশন পারসেপশন ইনডেক্স (সিপিআই) বা ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০২৫’ প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই তথ্য তুলে ধরেন।

জার্মানির বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, দুর্নীতির মাত্রা কোন দেশে কেমন, সে সম্পর্কে ধারণা দিতে প্রতিবছর তারা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

সিপিআই অনুযায়ী, দুর্নীতির ধারণার মাত্রাকে ০ (শূন্য) থেকে ১০০ (এক শ)–এর স্কেলে নির্ধারণ করা হয়। এই পদ্ধতি অনুসারে স্কেলের ০ (শূন্য) স্কোরকে দুর্নীতির ব্যাপকতা সর্বোচ্চ এবং ১০০ স্কোরকে দুর্নীতির ব্যাপকতা সর্বনিম্ন বলে ধারণা করা হয়।

সিপিআই অনুযায়ী বাংলাদেশের স্কোর ২৪। যা গত বছরের তুলনায় এক পয়েন্ট বেশি হলেও চৌদ্দ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।

২০২৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪তম। ২০২৩ সালে এই অবস্থান ছিল ১০ম।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “যেসব দেশে গণতন্ত্র নেই এবং যেসব দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন রয়েছে, সেসব দেশের চেয়েও বাংলাদেশে দুর্নীতির মাত্রা বেশি।”

সিপিআই অনুসারে, ১০০ স্কোরের মধ্যে বৈশ্বিক গড় স্কোর ৪২। অর্থাৎ বৈশ্বিক গড় স্কোরের তুলনায় বাংলাদেশ স্কোর ১৮ পয়েন্ট কম। তা ছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের গড় স্কোর ৪৫-এর তুলনায় ২১ পয়েন্ট কম। গত ১৪ বছরের মধ্যে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর, যা ২০২৩ সালের স্কোরের সমতুল্য। দুর্নীতি ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দেশে দুর্নীতির ব্যাপকভাবে বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

শুধু আফগানিস্তান ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার (ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ অন্যান্য দেশ) দেশগুলোর মধ্যে দুর্নীতির মাত্রা বাংলাদেশে বেশি।

এ দিকে, দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০২৫ অনুযায়ী ডেনমার্কে দুর্নীতির মাত্রা সবচেয়ে কম এবং দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়াতে দুর্নীতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি।

সম্পর্কিত