সেরা ছন্দের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র যে একটি দলের জন্য বড় সম্পদ, সেটা রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকরা খুব ভালো করেই জানেন। তবে ব্রাজিলের জার্সিতে এখনো সেভাবে নিজেকে ধারাবাহিকভাবে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। এবারের বিশ্বকাপের চিত্রটা অবশ্য একেবারেই ভিন্ন। হাইতির বিপক্ষে গোল ছাড়াও ম্যাচ জুড়ে তার পারফরম্যান্স ছিল পরিণত, কার্যকর ও প্রাণবন্ত।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে ১৭১ মিনিট খেলে ভিনিসিয়ুস ২টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট করেছেন। গোলের লক্ষ্যে চারটি শট নিয়ে লক্ষ্যভেদ করেছেন দুটিতেই। ৫২টি পাসের মধ্যে ৪২টি সফল ছিলেন তিনি। পাস সফলতার হার ৮০.৭৭ শতাংশ।
প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। হাইতির বিপক্ষে তিনি উপহার দেন আরও গোছানো ফুটবল। ২১টি পাসের মধ্যে ১৬টি ছিল সফল। এর একটি পাস থেকেই তৈরি হয় গোলের বড় সুযোগ। দুটি লং বলের একটি অবশ্য অসফল ছিল।
২৫ বছর বয়সী ভিনিসিয়ুস ম্যাচে বল টাচ করেন ৩৫ বার। বল নিয়ন্ত্রণেও ছিলেন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যময়। যদিও ক্ষিপ্রগতিতে এগিয়ে যাওয়ার সময় বলের দখল হারিয়েছেন ১২ বার, তবে তার মতো উইঙ্গারদের জন্য এটা মোটেও অস্বাভাবিক নয়।
বল নিয়ে ভিনিসিয়ুস মোট ১২৮.৭৭ মিটার কভার করেছেন। এর মধ্যে তিনটি ছিল ‘প্রোগ্রেসিভ ক্যারি’। সবচেয়ে কার্যকর একা বল নিয়ে দৌড়ে ২৪.৬৭ মিটার এগিয়ে যান। ম্যাচে সব মিলিয়ে ভিনিসিয়ুসের ‘প্রোগ্রেশন’ ছিল ৭০.৫১ মিটার।
রক্ষণেও অবদান রেখেছেন ভিনিসিয়ুস। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের কাছ থেকে একটি বল কেড়ে নিতে সক্ষম হন তিনি। আর সাতটি ডুয়েলে তিনি জেতেন তিনটিতে।
৮১তম মিনিটে একবারের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় ভিনিসিয়ুসকে মাঠ থেকে তুলে নেন কার্লো আনচেলত্তি। এর আগে তিনি ব্রাজিলের আক্রমণে গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন, সঠিক সময়ে দৌড় শুরু করেছেন এবং অযাচিত ‘ড্রিবলিং’ করার চেষ্টা করেননি।
আর ঠিক এভাবেই ভিনিসিয়ুসকে জাতীয় দলের জার্সিতে দেখতে চান সেলেসাও সমর্থকরা। নকআউট পর্বেও যদি তিনি এই ছন্দ বজায় রাখতে পারেন, ব্রাজিল তাহলে বড় স্বপ্ন দেখতেই পারে।