পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত, আতঙ্কে স্থানীয়রা

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত, আতঙ্কে স্থানীয়রা
নিপাহ ভাইরাস মূলত শূকর এবং ফলখেকো বাদুড়ের মতো প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। ছবি: রয়টার্স

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দুইজনের শরীরে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

নিপাহ ভাইরাস মূলত শূকর এবং ফলখেকো বাদুড়ের মতো প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। এছাড়া দূষিত খাবার গ্রহণের মাধ্যমে এবং মানুষ থেকে মানুষে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপাহ ভাইরাস অত্যন্ত মারাত্মক। এতে মৃত্যুর হার প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রাথমিকভাবে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, বমি এবং গলাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা যায়।

পরবর্তীতে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে তন্দ্রাচ্ছন্নতা, আচরণগত অসংলগ্নতা, নিউমোনিয়া এবং এমনকি এনসেফালাইটিস—অর্থাৎ মস্তিষ্কে প্রদাহ দেখা দিতে পারে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসের জন্য কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা নেই। তবে ভাইরোলজিস্টরা জানিয়েছেন, এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি টিকা নিয়ে গবেষণা চলছে।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ভারতে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমিত পরিসরে এ ধরনের সংক্রমণ নতুন নয় এবং সাধারণ জনগণের জন্য ঝুঁকি এখনো তুলনামূলকভাবে কম।

প্রায় দুই দশক পর পশ্চিমবঙ্গে আবার নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হলো। এর আগে ২০০৭ সালে এই রাজ্যে নিপাহ ভাইরাসে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সচেতন থাকার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার এবং গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

সম্পর্কিত