Advertisement Banner

আন্দোলন ছাড়া আমাদের আর কী করার আছে: জামায়াত আমির

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
আন্দোলন ছাড়া আমাদের আর কী করার আছে: জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের ওয়াকআউটের পর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

আন্দোলন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “নিঃসন্দেহে আন্দোলন ছাড়া আমাদের আর কী করার আছে? আন্দোলন আমরা করব, জনগণকে সাথে নিয়েই করব। আন্দোলনের বিষয়ে ১১টি দল আমরা দ্রুত বসে সিদ্ধান্ত নেব এবং আপনাদের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজে পুরো সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও প্রচার করা হয়।

এতে জামায়াত আমির আরও বলেন, “যেহেতু সংসদে জনগণের চূড়ান্ত অভিপ্রায় মূল্য পায়নি, তাই আমরা আবারও জনগণের কাছে যাব। এটি কোনো গোষ্ঠী, ব্যক্তিস্বার্থের দাবি নয়। যেহেতু সংসদে আমরা জনগণের দাবি আদায় করতে পারিনি, তাই আমরা আবারও জনগণের কাছে ফিরে যাবো।”

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণভোটের দাবি কীভাবে আদায় করা যায় সেই চেষ্টা করবেন জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “যেহেতু জনগণের রায় সম্মান করা হয়নি সেহেতু আমরা জনগণের কাছে ফিরে যাব। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেভাবে গণভোট রায় বাস্তবায়ন করা যায় সেই পথেই হাঁটবে বিরোধী দল।”

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ–২০২৫ বাস্তবায়নের জন্য আনা বিরোধীদলীয় নেতার নোটিশের ওপর সংসদে ২ ঘণ্টা আলোচনা হয়। তবে এ বিষয়ে সংসদের স্পিকারের পক্ষ থেকে আজও কোনো সিদ্ধান্ত না আসার প্রতিবাদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদরা ওয়াকআউট করেন।

‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক আহ্বান প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের একটি মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সংসদে আলোচনা হয়। ওই আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। পরে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান স্পিকারকে ওই কমিটি গঠনের জন্য আহ্বান জানান। তবে তারা কমিটিতে সমানসংখ্যাক সদস্য দাবি করেন।

এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা।

বুধবার প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে দাঁড়ান বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। আগের দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান নিয়ে মুলতবি প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেহেতু এটা জন আকাঙ্ক্ষার বিষয়, গণভোটের বিষয়, প্রায় ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের বিষয়, তাই তাদের প্রত্যাশা ছিল স্পিকারের মাধ্যমে প্রতিকার পাবেন। তিনি স্পিকারকে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত হলো কি না, তা তিনি বুঝতে পারেননি। এ বিষয়টি তিনি স্পষ্টভাবে জানতে চান।

এর জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “কালকের প্রস্তাবটি ছিল একটি মুলতবি প্রস্তাব। যেটি আমার অনুপস্থিতিতে গৃহীত হয়েছিল। বাংলাদেশের ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে মাত্র তিনটি মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। একটি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর, অপরটি ছিল গ্রেনেড হামলা সম্পর্কিত এবং আরেকটি ছিল নূরুল ইসলাম মনির কোস্টগার্ড সম্পর্কিত। বছর পর বছর চলে যায় কোনো মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয় না সংসদে। তারপরও প্রাণবন্ত আলোচনার জন্যে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে মুলতবি প্রস্তাবটি নেওয়া হয়েছিল। আপনি জানেন, যেই সমস্যার সমাধান আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই কেবল করা যেতে পারে, সেটি নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব হতে পারে না। তারপরও উদারভাবে বিরোধী দলকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্যে এটি নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আরও একটি কথা আমি বলতে চাই, এই সম্পর্কিত আরও একটি নোটিশ, আরও একটি মুলতবি প্রস্তাবের নোটিশ আজকে আমরা বিবেচনা করব। আপনাদের মধ্যে যদি কোনো কথা বলার বাকি থাকে, আমি বলেছিলাম, বাকি কথা আগামীকাল হবে। আজকেও যদি প্রয়োজন হয় সেই নোটিশটি সম্পর্কে যখন আলাপ-আলোচনা করব, আপনাদের আরও যদি বক্তব্য থাকে, কথা বলার অবারিত সুযোগ আপনারা পাবেন। এটি একটি জাতীয় সমস্যা। যত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে আমরা আশা করি, ট্রেজারি বেঞ্চ এবং বিরোধী দল মিলে খোলাখুলিভাবে কথাবার্তা বলে সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনার মাধ্যমে আপনারা সিদ্ধান্ত নিবেন সেই সুযোগ আপনাদের রয়েছে। এটি মহান হাউজ অফ দ্য পিপল। আপনারাই ডিসাইড করবেন রুলস অফ প্রসিডিউর অনুসারে আমরা যাতে পরিচালিত হতে পারি।”

এর জবাবে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা প্রতিকার যে পেলাম না, এটা আমরা না এটা দেশবাসী তাদের রায়ের প্রতিফলন হল না, মূল্যায়ন হল না, আমরা বিরোধী দলে বসে এই অবমূল্যায়ন মেনে নিতে পারি না। এজন্য তার প্রতিবাদে আমরা ওয়াক আউট করছি।”

তখন বিরোধী দলীয় নেতার উদ্দেশে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতা, আপনি আমার বক্তব্য তো সম্পূর্ণ করতে দিলেন না। আমি আপনার পুরো বক্তব্য শুনেছি। আপনার ওয়াকআউট করা আপনাদের অধিকার। কিন্তু আমি বলতে চাই, আজকে একটু পরে আরেকটি মূলতবি প্রস্তাব বিবেচিত হবে। সেখানে আমার মনে হয় যে, আপনি আপনাদের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন এবং সেখানে মন খুলে আপনারা আরও কথা পারবেন।”

তখন বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “ওই নোটিশটাও আমাদের নজরে কিছুটা এসেছে। আমরা মনে করি, মূল নোটিশকে চাপা দেওয়ার জন্য ওই নোটিশটা সামনে আনা হয়েছে। এ কারণে দুইটার প্রতিবাদেই আমরা এই সংসদ থেকে আপাতত ওয়াকআউট করছি।”

এর জবাবে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “নোটিশই তো উত্থাপন হয় নাই, আপনি কি করে বুঝলেন কোনটা চাপা দেওয়ার জন্য এটা করা হচ্ছে? আমি অনুরোধ করছি, একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন। নোটিশের বিষয়বস্তু শুনেন। তারপর আপনারা ফিল ফ্রি টু ওয়াকআউট।”

জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আপনার অ্যাবসেন্সে এই হাউসে নোটিশটা পড়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সদস্য এটা পড়েছেন আমরা শুনেছি। এ কারণে আমরা বুঝে শুনেই বলছি, এই দুই কারণেই আমরা এখন ওয়াকআউট করছি।”

তখন স্পিকার বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী আপনারা ওয়াকআউট করতে পারেন।

এরপর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।

সম্পর্কিত