ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের চার দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে বাবা-ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বরাত দিয়ে এই সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।
গত বুধবার আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে এরই মধ্যে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। উদ্ধার ও অনুসন্ধান তৎপরতা জোরদার করতে বর্তমানে অঞ্চলটিতে ১ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি বিদেশি উদ্ধারকারী কর্মী কাজ করছেন।
উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয়রা ধরেই নিয়েছিলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অন্যতম লা গুয়াইরা রাজ্যের কংক্রিটের স্তূপের নিচে আর কোনো প্রাণের অস্তিত্ব নেই।
কিন্তু রোববার হঠাৎ করেই সেখানে আলোড়ন দেখা গেল। ভার্জিনিয়া, ফ্রান্স এবং ভেনেজুয়েলার যৌথ উদ্ধারকারী দল ধুলোবালিতে মাখামাখি এক জোড়া পা একটি গর্ত থেকে টেনে বের করে আনে।
চার দিন ধরে আটকা থাকা ওই ব্যক্তির শরীর ছিল নিস্তেজ, তবে হাত তখনও শক্ত করে ধরে রেখেছিল নিজের ফোনটি। এরপর তাকে একটি পলিথিনের চাদরে শুইয়ে স্যালাইন দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই উদ্ধার করা হয় তার ছোট ছেলেকে। খালি গায়ে প্রায় অচেতন অবস্থায় ছেলেটিকে একের পর এক উদ্ধারকারীর হাতবদল করে বের করে আনেন।
দুজনকে উদ্ধারের সময় ‘ধীরে, ধীরে, সাবধানে, সাবধানে’ স্প্যানিশ ও ইংরেজি মিলিয়ে আওয়াজ তুলছিলেন উদ্ধারকারীরা। এরপর বাবা ও ছেলেকে উৎসুক জনতার ভিড় ঠেলে কাছাকাছি থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেওয়া হয় হাসপাতালের উদ্দেশে।
টানা কয়েকদিন ধরে চলা উদ্ধার অভিযানের একপর্যায়ে যখন জীবিত কাউকে পাওয়ার আশা প্রায় ফিকে হয়ে আসছিল, ঠিক তখনই এই সাফল্যে হাততালিতে ফেটে পড়েন উদ্ধারকারীরা।
পরপর আঘাত হানা দুটি ভূমিকম্প দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির ইতিহাসে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়।
সাধারণত যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ধরা হয়। তবে আটকে পড়া মানুষের কাছে যদি খাবার ও পানি পৌঁছানোর সুযোগ থাকে, তবে তাদের বেঁচে থাকার সময় আরও দীর্ঘ হতে পারে।