রাশিয়ার সঙ্গে সক্রিয় যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ইউক্রেনীয়দের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়ে দেশটি ‘ধ্বংস’ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
গত সপ্তাহে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ এক চাঞ্চল্যকর বক্তব্যে যুদ্ধের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার মন্তব্যের পর আজ রোববার সাংবাদিকদের কাছে জেলেনস্কি প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে কথা বললেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানা যায়, গত মাসে ফেদোরভকে আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করার ঘটনায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। তবে পরে তাকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনকারীরা নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান থেকে সরে আসেন। ২০২২ সালে রাশিয়া পূর্ণমাত্রায় ইউক্রেনে হামলা শুরু করার পর দেশটির কোনো বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পক্ষ থেকে এটিই ছিল নির্বাচনের প্রথম এমন দাবি।
জেলেনস্কি বলেন, “আমি মনে করি, আমরা যদি দেশটিকে ধ্বংস করতে চাই, তাহলে এই ধরনের যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।”
ইউক্রেনের আইন অনুযায়ী যুদ্ধের সময় নির্বাচন নিষিদ্ধ। বিশ্লেষকেরাও বলছেন, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং বিদেশে থাকা, রুশ দখলে থাকা কিংবা সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেওয়া লাখ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিকের কারণে এখন নির্বাচন আয়োজন করা অত্যন্ত কঠিন হবে।
জেলেনস্কির জনপ্রিয়তা সাধারণত প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে জনমত জরিপকারীরা বলছেন, ইউক্রেনীয়রা রাজনীতিতে নতুন মুখ দেখতে চাইলেও এখন ভোট দেওয়ার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ কম।
৫ আগস্ট কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় চান, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই কেবল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।
এ বিষয়ে তার আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কিয়েভের মিত্ররা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারলে যুদ্ধের মধ্যেও নির্বাচন সম্ভব হতে পারে। তবে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা এখনো কেউ প্রস্তাব করেনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, “এই মুহূর্তে নির্বাচন রাষ্ট্রের জন্য একটি সুনামির মতো, যা ইউক্রেনকে বিভক্ত করে দেবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এ কারণেই আমার কৌশল হলো দেশকে যুদ্ধের সমাপ্তির দিকে নিয়ে যাওয়া এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রকে অক্ষুণ্ন রাখা।”
জেলেনস্কির দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সম্ভাব্য প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত ফেদোরভ ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন কি না, তা স্পষ্ট করে বলেননি।