Advertisement Banner

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশংকা, বড় হুমকির মুখে দরিদ্র দেশগুলো

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশংকা, বড় হুমকির মুখে দরিদ্র দেশগুলো
আইইএ এর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেছেনছবি: রয়টার্স

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেছেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট অত্যন্ত ভয়াবহ। তার মতে, বিশ্ব অর্থনীতি এখন এক মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ফাতিহ বিরোল জানান, বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৭৩ ও ১৯৭৯ সালের টানা দুটি তেল সংকটের চেয়েও খারাপ। ওই সময় বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। এমনকি ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর গ্যাসের বাজারে যে ধস নেমেছিল, বর্তমান অবস্থা তার চেয়েও ভয়াবহ।

আইইএ প্রধান জানান, বিশ্ববাজারে তেলের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে তারা কানাডা ও মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের সাথে আলোচনা করছেন। বিরোল বলেন, “আমাদের কাছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং যেসব দেশে তেল শোধনাগার (রিফাইনারি) আছে, তাদের আমরা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত কাজ করতে উৎসাহিত করছি।”

ফাতিহ বিরোল আরও জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়া এই শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা করলেও একা তাদের পক্ষে এটি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।

তার মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলএনজি আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যে বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা একা অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে মেটানো সম্ভব নয়। তবে অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে কিছু নতুন এলএনজি খুব শিগগিরই বাজারে আসবে।

বাজারের অস্থিরতা সামাল দিতে আইইএ ইতোমধ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে তাদের মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছেড়েছে। বিরোল জানান, তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রয়োজন হলে আরও তেল বাজারে ছাড়া হতে পারে।

বিরোলের দেওয়া তথ্যমতে, এই সংঘাতে ৯টি দেশের অন্তত ৪৪টি জ্বালানি স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি বাঁচাতে কিছু সময়ের জন্য রেশনিং বা কোভিডের

সময়কার মতো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজন হতে পারে, যার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে দরিদ্র দেশগুলো।

সম্পর্কিত