নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ১০, আহত ৪৭৬: অধিকার

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ১০, আহত ৪৭৬: অধিকার
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার। ছবি: ফেসবুক থেকে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে মাত্র ১৫ দিনে (১৩-২৮ ফেব্রুয়ারি) দেশব্যাপী ১০৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় শিশুসহ ১০ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং ৪৭৬ জন গুরুতর আহত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে নির্বাচন-পরবর্তী সংঘাত ও সহিংসতার এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

ইউরোপীয় পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি)-এর সহায়তায় ৫‌০টি সংসদীয় আসনে পরিচালিত সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং জাতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, মোট সহিংসতার ঘটনার ২৮ শতাংশই ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বা এর সংশ্লিষ্ট অংশের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। এই কোন্দলে ৪ জন নিহত এবং ১৩৬ জন আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের তালিকায় বিএনপি ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী, আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক এবং সাধারণ নাগরিকরাও রয়েছেন। বিশেষত সিলেটে একটি হিন্দু মন্দিরে রাতের আঁধারে হামলার ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্বাচনের আগের সহিংসতা মূলত গ্রামাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলেই সমানভাবে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে।

সহিংসতার ভয়াবহতা অনুযায়ী অধিকার জেলাগুলোকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করেছে। নিহতের ঘটনার প্রেক্ষিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি হতাহত রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে ৩ জন নিহত এবং ১৯১ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া রাজশাহী, বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। হতাহতের সংখ্যার ভিত্তিতে লাল, কমলা, হলুদ ও সবুজ জোনে ভাগ করে একটি সহিংসতার ‘মানচিত্র’ তৈরি করেছে সংস্থাটি, যা দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির রূপরেখা তুলে ধরে।

অধিকারের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ৪৪ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পদক্ষেপ নিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিক্রিয়ার হার ছিল অসম ও বৈষম্যমূলক। এই পরিস্থিতি উত্তরণে সংস্থাটি পাঁচ দফা সুপারিশ পেশ করেছে।

এর মধ্যে রয়েছে–

রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বতন্ত্র ও সময়াবদ্ধ তদন্ত নিশ্চিত করা, দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তিতে কঠোর হওয়া, ‘উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ’ জোনগুলোতে নাগরিক সুরক্ষা বাড়ানো এবং নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু করা।

নির্বাচনের দিন পার হলেও সংঘাতের ঝুঁকি যে শেষ হয় না, এই প্রতিবেদন তারই এক বাস্তব প্রমাণ। রাজনৈতিক অখণ্ডতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধকে জাতীয় নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার স্থায়ী অংশ করার আহ্বান জানিয়েছে ‘অধিকার’।

সম্পর্কিত