চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমানকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপরীত অবস্থান নেয়ার ঘটনার সূত্র ধরে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে চাকসুর প্রতিনিধিরা প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। এই ঘটনা সাম্প্রতিক সিন্ডিকেটে নিয়োগ অনুমোদনের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা কি না এমন প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
এদিকে সর্বশেষ ৫৬৫তম সিন্ডিকেট বৈঠকে (পদোন্নতি ব্যতীত) মোট ১০৫ জনের নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে শিক্ষক ১৮ জন, তৃতীয় শ্রেণির ৩৩ জন, চতুর্থ শ্রেণির ৪৭ জন এবং কর্মকর্তা ৭ জন। এই নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন উপ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহিরা শামিম, ফিন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংঘর্ষের ঘটনায় বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে বহিষ্কৃত জামায়াতে ইসলামীর হাটহাজারী উপজেলা আমির সিরাজুল ইসলাম সেকশন অফিসার থেকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এসব নিয়োগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছিল।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৪তম সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাসান মোহাম্মদ রোমানের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকলেও তিনি ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
যদিও, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক প্রতিবাদ এবং নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করায় আইন বিভাগেই ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত ছিলেন তিনি। সর্বশেষ ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার দিন তাকে আইন অনুষদের প্রাঙ্গণ থেকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হয়।
যদিও, এর আগেও তিনি তিন দিন সর্বমোট চার দিন ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মোট তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি তদন্ত কমিটিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তার বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়। আরেকটি তদন্ত কমিটির কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও বর্তমানে আরেকটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে।
চাকসুর এজিএস ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, “এর আগেও ভিসি ও প্রোভিসি রোমানের সঙ্গে চেয়ার শেয়ার করেছিলেন। আমরা অতীত ঘটনার বিচার চেয়েছি, কিন্তু প্রশাসনের সদিচ্ছা দেখিনি। প্রশাসনের শেল্টারেই তিনি পরীক্ষার ডিউটি করছেন। একদিকে চাকসু ধাওয়া করছে, অন্যদিকে প্রশাসন দায়িত্ব দিচ্ছে এটা দ্বিচারিতা। এর পেছনে সাম্প্রতিক নিয়োগের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।”
চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “আমরা শিক্ষককে প্রক্টর অফিসে এনেছি, তাকে কোনো আঘাত বা হয়রানি করা হয়নি। বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে হাটহাজারী প্রশাসন মামলা নেয়নি। আইন বিভাগের ডিনের কাছে জানতে গিয়েছিলাম, এমন একজন শিক্ষককে কীভাবে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি বিষয়টি জেনে পালিয়ে হওয়ার চেষ্টা করলে, আমরা তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। এভাবে দৌড়ানো এবং এসব পরিকল্পনা ছিল না আমাদের।"
আল নোমান আরও বলেন, "নিয়োগের বিষয়টা প্রশাসন দেখবে তারা বলছে তারা সুষ্টু ও নিরপেক্ষ নিয়োগ দিচ্ছে। তবে এর জন্য অবশ্যই প্রশাসনকে দায়বদ্ধতার মধ্যে আনা হবে। আর নিয়োগের বিষয়টা লুকানোর জন্য আমরা কেন করব এটা। এর আগেও আমরা এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি ও স্মারকলিপি দিয়েছি।”
শাখা ছাত্রদলের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল নোমান লিখেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চাকসু'র ভিপি,জিএসের সম্মতি আছে এবং তাদের আদর্শিক বড় ভাইয়েরা নিয়োগ পেয়েছে তাই চুপচাপ, চাকসু থেকে অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কোন প্রতিবাদ ও বিবৃতি আসবেনা।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি দায়িত্বে থাকাকালীন নিয়োগে কোনো অসৎ উপায় প্রমাণিত হলে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দেব। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে আমি দুর্নীতি করেছি, তাহলে শিক্ষকতাও ছেড়ে দেব। যোগ্য ব্যক্তিকেই নিয়োগ দেওয়া হবে। আমাদের অনেক দপ্তর ও বিভাগে এখনো জনবল সংকট রয়েছে তাই এত লোক নিচ্ছি আমরা।"
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান বলেন, “ফিন্যান্স বিভাগে নিয়োগ বোর্ডে আমি নিজেই ছিলাম না, সেখানে এক্সপার্টরা ছিলেন। যোগ্যতা ও ভালো সিজিপিএ থাকলে যে কেউ নিয়োগ পাবে।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমানকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপরীত অবস্থান নেয়ার ঘটনার সূত্র ধরে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে চাকসুর প্রতিনিধিরা প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। এই ঘটনা সাম্প্রতিক সিন্ডিকেটে নিয়োগ অনুমোদনের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা কি না এমন প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
এদিকে সর্বশেষ ৫৬৫তম সিন্ডিকেট বৈঠকে (পদোন্নতি ব্যতীত) মোট ১০৫ জনের নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে শিক্ষক ১৮ জন, তৃতীয় শ্রেণির ৩৩ জন, চতুর্থ শ্রেণির ৪৭ জন এবং কর্মকর্তা ৭ জন। এই নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন উপ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহিরা শামিম, ফিন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
এ ছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংঘর্ষের ঘটনায় বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে বহিষ্কৃত জামায়াতে ইসলামীর হাটহাজারী উপজেলা আমির সিরাজুল ইসলাম সেকশন অফিসার থেকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এসব নিয়োগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছিল।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৪তম সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাসান মোহাম্মদ রোমানের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকলেও তিনি ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
যদিও, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক প্রতিবাদ এবং নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করায় আইন বিভাগেই ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত ছিলেন তিনি। সর্বশেষ ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার দিন তাকে আইন অনুষদের প্রাঙ্গণ থেকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হয়।
যদিও, এর আগেও তিনি তিন দিন সর্বমোট চার দিন ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মোট তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি তদন্ত কমিটিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তার বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়। আরেকটি তদন্ত কমিটির কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও বর্তমানে আরেকটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে।
চাকসুর এজিএস ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, “এর আগেও ভিসি ও প্রোভিসি রোমানের সঙ্গে চেয়ার শেয়ার করেছিলেন। আমরা অতীত ঘটনার বিচার চেয়েছি, কিন্তু প্রশাসনের সদিচ্ছা দেখিনি। প্রশাসনের শেল্টারেই তিনি পরীক্ষার ডিউটি করছেন। একদিকে চাকসু ধাওয়া করছে, অন্যদিকে প্রশাসন দায়িত্ব দিচ্ছে এটা দ্বিচারিতা। এর পেছনে সাম্প্রতিক নিয়োগের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।”
চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “আমরা শিক্ষককে প্রক্টর অফিসে এনেছি, তাকে কোনো আঘাত বা হয়রানি করা হয়নি। বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে হাটহাজারী প্রশাসন মামলা নেয়নি। আইন বিভাগের ডিনের কাছে জানতে গিয়েছিলাম, এমন একজন শিক্ষককে কীভাবে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি বিষয়টি জেনে পালিয়ে হওয়ার চেষ্টা করলে, আমরা তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। এভাবে দৌড়ানো এবং এসব পরিকল্পনা ছিল না আমাদের।"
আল নোমান আরও বলেন, "নিয়োগের বিষয়টা প্রশাসন দেখবে তারা বলছে তারা সুষ্টু ও নিরপেক্ষ নিয়োগ দিচ্ছে। তবে এর জন্য অবশ্যই প্রশাসনকে দায়বদ্ধতার মধ্যে আনা হবে। আর নিয়োগের বিষয়টা লুকানোর জন্য আমরা কেন করব এটা। এর আগেও আমরা এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি ও স্মারকলিপি দিয়েছি।”
শাখা ছাত্রদলের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল নোমান লিখেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চাকসু'র ভিপি,জিএসের সম্মতি আছে এবং তাদের আদর্শিক বড় ভাইয়েরা নিয়োগ পেয়েছে তাই চুপচাপ, চাকসু থেকে অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কোন প্রতিবাদ ও বিবৃতি আসবেনা।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি দায়িত্বে থাকাকালীন নিয়োগে কোনো অসৎ উপায় প্রমাণিত হলে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দেব। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে আমি দুর্নীতি করেছি, তাহলে শিক্ষকতাও ছেড়ে দেব। যোগ্য ব্যক্তিকেই নিয়োগ দেওয়া হবে। আমাদের অনেক দপ্তর ও বিভাগে এখনো জনবল সংকট রয়েছে তাই এত লোক নিচ্ছি আমরা।"
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান বলেন, “ফিন্যান্স বিভাগে নিয়োগ বোর্ডে আমি নিজেই ছিলাম না, সেখানে এক্সপার্টরা ছিলেন। যোগ্যতা ও ভালো সিজিপিএ থাকলে যে কেউ নিয়োগ পাবে।”