জ্বালানি ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বর্তমানে বাংলাদেশ সফর করছে। এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। আজ বুধবার তিনি এ তথ্য জানান।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি ও অর্থ খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো এখানে এসেছে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজতে এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের ৫০ বছরের বেশি সময়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে।”
তিনি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের (ইউএসবিবিসি) নির্বাহী ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশে আসা প্রতিনিধিদলটি ১৩ আগস্ট তাদের সফর শেষ করবে।
এদিকে, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) জানিয়েছে, বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী বর্তমান সদস্য ও সম্ভাব্য আমেরিকান কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ কোটি ইউএস ডলার বিনিয়োগে সহায়তা ও তা সংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছে তারা।মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অ্যামচেমের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের নেতৃত্বে নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
বৈঠকে অ্যামচেম ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে এবং স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরিতে তাদের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথা তুলে ধরে।
অ্যামচেম জানায়, তাদের সদস্য কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ৫০০ কোটি ইউএস ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। ভবিষ্যতে আরও বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করে।
সংগঠনটি আরও জানায়, তাদের সদস্য কোম্পানিগুলো সম্মিলিতভাবে দেশের মোট কর রাজস্বের ২০ শতাংশের বেশি অবদান রাখে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অ্যামচেমের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান স্পষ্ট হয়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্ধারিত বিনিয়োগ লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক পরিবেশ তৈরির জন্য অ্যামচেম প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও সরকারের অংশীদারত্ব চেয়েছে।
অ্যামচেম বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের অগ্রগতির প্রশংসা করেছে। বিশেষ করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সংস্কার প্যাকেজের আওতায় বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ সহজীকরণের দিকে সরকারের অগ্রসর হওয়ার বিষয়টি তারা স্বাগত জানিয়েছে।