Advertisement Banner

কমিশন বাড়ানোর দাবিতে সিএনজি স্টেশনের ধর্মঘটের আলটিমেটাম

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
কমিশন বাড়ানোর দাবিতে সিএনজি স্টেশনের ধর্মঘটের আলটিমেটাম
ছবি: সংগৃহীত

কয়েক দফায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং উচ্চ পরিচালন ব্যয়ের কারণে দেশের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো চরম লোকসানের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংকট মোকাবিলায় গ্যাস বিক্রিতে তাদের বর্তমান কমিশন প্রতি ঘনমিটারে ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ শনিবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর লিখিত বক্তব্যে এই আলটিমেটাম তুলে ধরেন।

মহাসচিব ফারহান নূর জানান, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে তাদের এই যৌক্তিক দাবি পূরণ করা না হলে, ব্যবসায়ী ও খাতটিকে বাঁচাতে আগামী ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী সিএনজি স্টেশনগুলোতে অনির্দিষ্টকালের কঠোর ধর্মঘট পালন করা হবে।

মহাসচিব ফারহান নূর আরও জানান, সম্প্রতি পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম এক লাফে ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি করায় সিএনজি স্টেশনগুলোর উৎপাদন ও পরিচালন খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে। বর্তমানে সরকার নির্ধারিত ৮ টাকা কমিশনের মধ্যে প্রায় ৬ টাকাই চলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে। অবশিষ্ট মাত্র ২ টাকা দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, স্টেশন ইজারা ফি, লাইসেন্স নবায়ন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ডলারের বিপরীতে যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধির খরচ মেটানো কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

ফারহান নূর আরও জানান, ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম অন্তত সাতবার বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি উৎপাদনে শুধুমাত্র বিদ্যুতের কারণেই অতিরিক্ত ১ দশমিক ৬০ টাকা বাড়তি খরচ যুক্ত হয়েছে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে মালিকদের বিক্রয় কমিশন এক পয়সাও বাড়ানো হয়নি। এই বৈষম্যের কারণে দেশের অধিকাংশ সিএনজি স্টেশন এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সরকারের কাছে গ্যাস বিক্রির বর্তমান মার্জিন বা কমিশন দ্রুত ৫ টাকা ৯৬ পয়সা বাড়িয়ে সর্বমোট ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ ও ভবিষ্যতে বিদ্যুতের দাম বা অন্য কোনো পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পেলে তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সিএনজি বিক্রির কমিশনও যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়, এমন একটি স্থায়ী আইনি ব্যবস্থা চালুর দাবি জানায়।

অন্য নেতৃবৃন্দরা জানান, তারা সাধারণ জনগণকে জিম্মি বা ভোগান্তিতে ফেলতে চান না, কিন্তু স্টেশন টিকিয়ে রাখতে না পারলে এই পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই এই সংকট নিরসনে তারা অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্তসহ অন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত