দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচটা যেন স্রেফ ভারতের হাতে তুলে দিলেন বাংলাদেশের মেয়েরা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক শিরোপার হাতছানিতে শুরু হওয়া ফাইনালটা যেভাবে শুরু করেছিল বাংলাদেশ, দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্স তার ঠিক উল্টো। খেলার ধরন, শরীরী ভাষা—কোনো কিছুতেই বাংলাদেশ হুমকি হতে পারল না ভারতের জন্য। ফলে যা হওয়ার তা–ই হলো, বাংলাদেশকে ৩–১ গোলে হারিয়ে মেয়েদের সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধার করল ভারত।
ভারতের মারগাঁওয়ে এবারের সাফে নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালটা ছাড়া বাকি তিনটি ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য হতাশার। প্রথম ম্যাচে দুর্বল মালদ্বীপের বিপক্ষে ‘কষ্ট’ করে পাওয়া জয়ে শুরু, এরপর গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৩–০ গোলে উড়ে যাওয়ার পর সেমিফাইনালে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছানো—গল্পটা এমনই। ফাইনালের শুরুটা উজ্জ্বল হলেও সময় যতো গড়ালো, হতাশার মাত্রাটা বাড়িয়েই সাফ শেষ করছে বাংলাদেশ। ফাইনালে ঝলক বলতে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মারিয়া মান্ডার অ্যাসিস্ট থেকে ঋতুপর্না চাকমার দারুণ গোলটাই। এর আগে ৪২ মিনিটে গোলরক্ষক মিলি আক্তার বলের ফ্লাইট বুঝতে গড়বড় করে ফেলায় অদ্ভুত এক গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়তে হয়েছিল।
ঋতুর গোলে সমতায় ফিরেছিল বাংলাদেশ। ছবি: বাফুফে
১৩ মিনিটেই গোল করে এগিয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ। তহুরা ওয়ান–টু–ওয়ান পজিশনে বল পেয়েও গোল করতে পারেননি। ৪০ মিনিটে আবারও তহুরা গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। এর পরই এগিয়ে যায় ভারত। পিয়ারি সাসার পাহারায় ছিলেন সুরভি আকন্দ আফরিন। কিন্তু সাসার শট তার পায়ে লেগেই গোলরক্ষক মিলির মাথার ওপর দিয়ে জালৈ জড়ায়। মিলি এই সময় সঠিক জায়গায় ছিলেন না।
গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পরপরই অনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর জোরাল শট কর্নার করে দের ভারতীয় গোলরক্ষক পান্থোই চানু। তবে যোগ করা সময়ে আনিকা–তহুরার যুগলে ভারতের বক্সের মধ্যে বল পেয়ে ঋতুপর্না বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান। স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ভারতের চেহারা একেবারেই অন্যরকম দেখাল। প্রথম আক্রমণ থেকেই পিয়ারি সাসার ক্রস থেকে দারুণ হেডে ভারতকে ২–১ গোলে এগিয়ে দেন সানফিদা ননগ্রাম।
৫০ মিনিটে ঋতুপর্নার ক্রস থেকে শামসুন্নাহার জুনিয়রের হেড গোল পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। ৫৬ মিনিটে মারিয়া মান্ডার শট গোল লাইন থেকে কোনোমতে ফেরান ভারতীয় গোলরক্ষক চানু।
ম্যাচের ৮৩ মিনিটের সর্বনাশের চূড়ান্তটাই করেন আফঈদা খন্দকার। তিনি যে কতটা অফ ফর্মে, সেটার প্রমাণ আবার রাখেন। তার ভুলেই গোল খেয়ে সাফ ফাইনালে ঘুরে দাঁড়ানোর সব আশার জলাঞ্জলি দেয় বাংলাদেশ।
মলিনতা, জড়তার এক সাফ শেষ করল বাংলাদেশ। টানা দুটি সাফজয়ী দল, এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্ব খেলে আসা দলটিকে কেন অনুজ্জ্বল দেখাল, সেটা বড় প্রশ্ন। মারগাঁওয়ের সাফ বাংলাদেশ শেষ করল সেই সঙ্গে আরও অনেক প্রশ্ন রেখেই। সেই প্রশ্নের উত্তর শিগগিরই পাওয়া দরকার বাংলাদেশের ফুটবলের।