Advertisement Banner

অন্তর্বর্তী সরকারের ২০ অধ্যাদেশ এখনই বিল নয়: সংসদীয় কমিটি

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তী সরকারের ২০ অধ্যাদেশ এখনই বিল নয়: সংসদীয় কমিটি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে। ছবি: সংগৃহীত

মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ ২০টি এখনই আইন না করার সুপারিশ করেছে বিশেষ সংসদীয় কমিটি।

আজ বৃহস্পতিবার অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় গঠিত বিশেষ কমিটির রিপোর্ট সংসদে তোলা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সংসদে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি সংসদে হুবহু বিল আকারে তোলা এবং ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে বিল তোলার জন্য সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি।

বাকি ২০টির মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে আরও যাচাই-বাছাই করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া এখনই যে ২০টি অধ্যাদেশ বিল আকারে তোলা হবে না সেগুলোর মধ্যে চারটি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে।

চারটি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য বিল আনার সুপারিশ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে- জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আগামী সোমবার থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা পর্যায়ক্রমে ১১৩টি বিল সংসদে উত্থাপন করবেন।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ পুনরায় বসার পর ৩০ দিনের মধ্যে আইন না হলে অধ্যাদেশ বিলুপ্ত হয়ে যায়।

সে হিসেবে ৯ এপ্রিলের মধ্যে এসব বিল পাস করতে হবে। সংসদের হাতে থাকবে চার কার্যদিবস। যেসব অধ্যাদেশ ৯ এপ্রিলের মধ্যে সংসদের অনুমোদন পাবে না সেগুলোর কার্যকারিতা লোপ পাবে।

মোট ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে বিশেষ কমিটিতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সংসদ না থাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এগুলোর মধ্যে ১১৩টিকে কোনো না কোনোভাবে সংসদে তোলার সুপারিশ করে এ বিষয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি।

বিরোধী দলের আপত্তি না থাকা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে আছে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে যে ১৫টি সংশোধিত আকারে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশও রয়েছে। আগের আইনের সঙ্গে অধ্যাদেশটিতে নির্দিষ্ট কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যোগ করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে নিষিদ্ধ সত্তার মিছিল, মিটিং, প্রকাশনাসহ কী কী কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে, তাও যুক্ত করা হয়। এই অধ্যাদেশ সংশোধন করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই অধ্যাদেশে কোনো নিদিষ্ট সত্তার কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয় এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তার মিছিল–মিটিং, প্রকাশনাসহ যেসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যাবে তার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সম্পর্কিত