Advertisement Banner

এবারের এল নিনো ভয়াবহ হবে, সতর্ক করল অস্ট্রেলিয়া

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
এবারের এল নিনো ভয়াবহ হবে, সতর্ক করল অস্ট্রেলিয়া
ছবি: রয়টার্স

চলতি বছরের শেষার্ধে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তৈরি হওয়া আবহাওয়ার বিশেষ রূপ ‘এল নিনো’ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এটি বিগত সাত দশকের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী রূপ নিতে যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার এক সতর্কবার্তায় এসব তথ্য জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরো (বিওএম)।

আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এই শক্তিশালী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমেরিকার দেশগুলোতে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং এশিয়ায় তীব্র তাপদাহ ও খরা দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যে এশিয়ার বেশ কিছু অঞ্চলে ফসল রোপণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এই অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এল নিনোর জন্য নির্ধারিত সীমা পার হয়ে গেছে এবং বায়ুমণ্ডলীয় সব সূচকও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে মিলে গেছে। কেন্দ্রীয় প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণায়নের মাত্রা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি ‘শক্তিশালী থেকে অতি শক্তিশালী’ এল নিনো হতে যাচ্ছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস সংক্রান্ত মডেলগুলোর প্রায় অর্ধেকই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এবারের এল নিনোর তীব্রতা ১৯৫০ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়গুলোর একটিতে পৌঁছাতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এবারের এল নিনোর প্রভাব আরও মারাত্মক ও বিধ্বংসী হবে।

সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা পর্যায়ক্রমিক বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াকে এল নিনো বলা হয়। এর ফলে শীত ও বসন্তকালে বৃষ্টিপাত অনেক কমে যায় এবং দিনের বেলার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পায়।

এই আবহাওয়া পরিস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গম, চিনি এবং গরুর মাংস রপ্তানিকারক দেশ অস্ট্রেলিয়া। এর আগে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের এল নিনোর সময় দেশটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে শুষ্ক তিন মাস পার হয়েছিল।

তারও আগে, ২০১৫-২০১৬ সালের তীব্র এল নিনোর কারণে দেশজুড়ে ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছিল এবং শস্য ও তৈলবীজের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছিল। এবারের শক্তিশালী এল নিনোও অস্ট্রেলিয়ার কৃষি খাতে বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত