বিদেশি বিনিয়োগের নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার আরও ২

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
বিদেশি বিনিয়োগের নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার আরও ২
রনজিত বসাক এবং পলাশ চন্দ্র বসাক । ছবি: চরচা

টেলিগ্রামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া বিনিয়োগ গ্রুপ খুলে সাধারণ মানুষ থেকে কোটি টাকা প্রতারণার ঘটনায় আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

আজ মঙ্গলবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সিআইডি জানায়, পল্টন থানার মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ এলাকা থেকে রনজিত বসাক রওনক এবং আজ মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুরের সুইহারী এলাকা থেকে পলাশ চন্দ্র বসাককে গ্রেপ্তার করা হয়। দুজনের স্থায়ী ঠিকানা ঠাকুরগাঁও জেলার রানিশংকৈল উপজেলায়।

এর আগে মামলার মূলহোতা ফারদিন আহমেদ প্রতীক ও তার সহযোগী সাগর আহমেদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই রনজিত ও পলাশকে শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে টেলিগ্রাম অ্যাপে ‘বিদেশি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম’সহ আকর্ষণীয় নামে ভুয়া গ্রুপ পরিচালনা করত। দ্রুত লাভের লোভ দেখিয়ে মানুষকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতো।

গ্রুপে আগে থেকেই থাকা চক্রের সদস্যরা সাজানো লাভের পোস্ট করত, যা পুরোপুরি মিথ্যা ছিল। এতে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন। প্রতারণার বেশিরভাগ অ্যাকাউন্ট ছিল তৃতীয় পক্ষের নামে, যাদের অনেকেই প্রতারণা সম্পর্কে জানতেন না।

সিআইডি আরও জানায়, প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থকে নগদে রূপান্তরের জন্য মূলহোতা ফারদিন অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করত। ব্যাংকের টাকা দিয়ে গাড়ি কিনে পরে কম দামে বিক্রি করে কাগজে লোকসান দেখানো হতো, এতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ পেত তারা।

গ্রেপ্তার রনজিত বসাক টেলিগ্রাম গ্রুপে আর্থিক লেনদেনে যুক্ত ছিল। অপরদিকে পলাশ ‘মিশন’ নামের একটি গ্রুপের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করত। কমিশনভিত্তিক এ কাজে তার দৈনিক আয় ছিল ১৫০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। নিজের নামে একাধিক সিমকার্ড ব্যবহার করে তিনি মূলহোতার নির্দেশনা বাস্তবায়ন করত।

গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সম্পর্কিত