ক্ষুধা কাকে বলে তা বই পড়ে বা সিনেমা দেখে নয়, নিজের জীবন থেকে জেনেছিলেন তিনি। তিনি নিজেও না খেয়ে থেকেছেন, অন্যের ফেলে দেওয়া কাপড় পরেছেন। সেই কষ্ট থেকেই তিনি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
তার নাম—হুসেইন মানসুরী। তিনি একজন উদ্যোক্তা, সমাজসেবক ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। তাকে বলা হচ্ছে ভারতের ‘নতুন হাতেম তাই’। কেননা তিনি এখন অসহায় মানুষের নির্ভরতার প্রতীক।
হুসেইন মানসুরীর শৈশব কেটেছে মুম্বাইয়ের মাহিম এলাকায়। তিনি যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে—তখন থেকেই পরিবারকে সাপোর্ট করতে কাজে নেমে পড়তে হয়। অভাব-অনটন থাকা সত্ত্বেও হুসেইন স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন শিক্ষাই দ্রারিদ্র্য থেকে বের হওয়ার উপায়। অনেক কষ্টে তিনি উচ্চশিক্ষা শেষ করেন।
২০১১ সালে একটি এয়ারলাইন কোম্পানিতে চাকরি পেয়ে যান। কিন্তু তিনি চাইছিলেন নিজের কিছু করবেন। চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেন, প্রথমে একটি ব্রিজের নিচে পোশাকের স্টল দেন। এই ব্যবসা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। তবে তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় একটি ভিডিও।
একদিন তিনি একজন ক্লান্ত-দরিদ্র নারীকে চা কিনে দেন এবং তার সঙ্গে বসে কিছুক্ষণ কথা বলেন। এই ভিডিও ধারণ করেন হুসেইনের এক বন্ধু। কয়েক মাস পর হুসেইন সেই ভিডিওটির সঙ্গে মানুষকে বিনয়ী ও মানবিক হওয়ার বার্তাজুড়ে দিয়ে অনলাইনে শেয়ার করেন। ভিডিওটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। হু হু করে বাড়তে থাকে তার ফলোয়ার। তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, তিনি ভালোবাসা বিলিয়েছেন, তার দর্শকরাও তাকে দুহাত খুলে সমর্থন দিয়ে গেছেন। তার একেকটি মানবিক ভিডিও মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ হচ্ছে।
এখন ফেসবুকে তার ফলোয়ারের সংখ্যা কমপক্ষে ১৮ মিলিয়ন। ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার প্রায় ২ কোটি ৫ লাখ। আর ইউটিউবে সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ৮১ লাখেরও বেশি।
এই গল্প শুধু একজন মানুষের নয়। এই গল্প প্রমাণ করে, জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টকেও সবচেয়ে বড় মানবিক শক্তিতে পরিণত করা সম্ভব। এ জন্য শুধু দরকার হুসেইন মানসুরীর মতো আত্মবিশ্বাস। যে মানুষ একদিন ক্ষুধার জ্বালায় কেঁদেছেন, আজ সে-ই অন্যের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন।
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া