Advertisement Banner

সংরক্ষিত নারী আসনে উচ্চশিক্ষিত ও কোটিপতিদের প্রাধান্য, টিআইবি’র বিশ্লেষণ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
সংরক্ষিত নারী আসনে উচ্চশিক্ষিত ও কোটিপতিদের প্রাধান্য, টিআইবি’র বিশ্লেষণ
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। ছবি: বাসস

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এক চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত প্রার্থীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই উচ্চশিক্ষিত এবং কোটিপতি।

তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে মোট ৪৯ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ প্রার্থী কোটিপতি এবং ৬৩ শতাংশের বেশি প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর বা তার বেশি। এই উচ্চশিক্ষার হার সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অর্থাৎ ৫০.৭ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি, যা নারী প্রার্থীদের যোগ্যতার একটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরে।

প্রার্থীদের সম্পদের বিবরণী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের বড় একটি অংশ বেশ বিত্তবান। হলফনামা অনুযায়ী, ৪৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩২ জনই স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে কোটিপতি। দলীয়ভাবে এই বিত্তশালীদের সংখ্যা বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির ৩৬ জন মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে ২৬ জন এবং জামায়াতে ইসলামীর ৯ জনের মধ্যে ৫ জনই কোটিপতি। এমনকি জাগপা’র একমাত্র প্রার্থীও এই তালিকার বাইরে নন।

প্রার্থীদের মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৫২ কোটি টাকা। তবে এর মাঝেও বৈচিত্র্য আছে। কারো কারো সম্পদের পরিমাণ তাদের স্বামীদের চেয়েও বেশি। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, অন্তত তিনজন প্রার্থীর কাছে ১০০ ভরির বেশি স্বর্ণালংকার রয়েছে, যার মধ্যে একজনের এককভাবেই ৫০২ ভরি স্বর্ণের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সম্পদের প্রাচুর্য থাকলেও প্রার্থীদের মধ্যে ২০.৪১ শতাংশের ঋণগ্রস্ততার চিত্রও উঠে এসেছে।

পেশাগত দিক থেকে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের মধ্যে আইনজীবীদের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি, যা ২৬.৫ শতাংশ। এটি সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

আইনজীবীদের পরেই ব্যবসায়ী, গৃহিণী, শিক্ষক ও রাজনীতিবিদদের অবস্থান। সার্বিকভাবে সংসদ সদস্যদের একটি বড় অংশই ব্যবসায়ী হলেও সংরক্ষিত আসনে বিভিন্ন পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ ইতিবাচক বলে মনে করছে টিআইবি।

প্রার্থীদের গড় বয়স ৫২.১৭ বছর, যার মধ্যে ৪৫-৫৪ বছর বয়সীদের সংখ্যাই বেশি। দলীয় বন্টনের ক্ষেত্রে বিএনপির সর্বোচ্চ ৩৬ জন এবং জামায়াতে ইসলামীর ৯ জন প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন।

টিআইবি মনে করছে, সংরক্ষিত আসনে উচ্চশিক্ষিত ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেও সাধারণ আসনের মতো এখানেও সম্পদের প্রভাব এবং নির্দিষ্ট কিছু পেশার আধিপত্য বিদ্যমান, যা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট তথ্যের বিস্তারিত বিবরণ টিআইবি-র নির্ধারিত ড্যাশবোর্ডে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

সম্পর্কিত