Advertisement Banner

রেকর্ডকে সঙ্গী করেই ‘বদলে যাওয়া’ মুশফিকের ছুটে চলা

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
রেকর্ডকে সঙ্গী করেই ‘বদলে যাওয়া’ মুশফিকের ছুটে চলা
শতক পূর্ণ হতেই সেই খ্যাপাটে উদযাপন মুশফিকের। ছবি: বিসিবি

শতক পূর্ণ হতেই সেই খ্যাপাটে উদযাপন। এক হাতে ব্যাট ঘুরিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে কী যেন বললেন। এরপর ‘কাম অন’ চিৎকারে পাকিস্তানের অসহায় বোলারদের যেন আরও কুঁকড়ে দিতে চাইলেন। নিয়ম মেনে আকাশের দিকে তাকিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করলেন, আর সবার শেষে সিজদাহ দিলেন।

চেনা দৃশ্য? সবই মুশফিকুর রহিমের ট্রেডমার্ক উদযাপনের অংশ। তবে পার্থক্যটা ছিল সেঞ্চুরিতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায়।

নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে ক্যারিয়ারে অনেকবার নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে তার। তবে বহু যুদ্ধের পোড় খাওয়া সৈনিক মুশফিকুর ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে অনেকটাই বদলে গেছেন। তাই এবার ৯০-এর ঘরে পা রেখেই হাঁকালেন বাউন্ডারি। কালক্ষেপণ না করে খানিক পর সেঞ্চুরিও পূর্ণ করলেন চার মেরে। সিলেট টেস্টে বাংলাদেশকে সুবিধাজনক অবস্থানে নেওয়ার পাশাপাশি এই ইনিংসে কয়েকটি রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন দেশের ইতিহাসের অন্যতম সফল এই ব্যাটসম্যান।

এই ইনিংসের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক এখন তিনিই, যা নিঃসন্দেহে বড় এক অর্জন। তবে আশি কিংবা নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে যদি বারবার আউট না হতেন, তাহলে সংখ্যাটা হয়তো ২০ ছুঁয়ে ফেলত।

সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে শতকের পথে হাঁটতে গিয়ে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ১৬ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মুশফিকুর। দেশের ইতিহাসের প্রথম ১০০ টেস্ট খেলা এই ক্রিকেটার তার সেরা ক্রিকেট খেলেছেন লাল বলেই। যদিও ক্যারিয়ারের শুরুতে এই ফরম্যাটে তার পরিসংখ্যান ছিল বেশ মলিন। প্রথম ৫০ টেস্ট শেষে ৩১.৯৮ গড়ে মাত্র ৪ সেঞ্চুরিতে করেছিলেন ২ হাজার ৭৫০ রান।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এর পেছনে বড় কারণ ছিল সেই সময়ের উইকেটকিপিংয়ের বাড়তি চাপ। নিচের দিকে ব্যাটিং করার কারণে বড় ইনিংস খেলার সুযোগও মিলেছে কম। আর যেগুলো পেয়েছেন, অনেকগুলোই বড় করতে পারেননি। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইনিংস দীর্ঘ করার শিল্পটা দারুণভাবে আয়ত্ত করেছেন তিনি।

মুশফিকুর রহিম। ছবি: বিসিবি
মুশফিকুর রহিম। ছবি: বিসিবি

পরিসংখ্যানও সেটাই বলছে। ৫১তম থেকে ১০১তম টেস্ট পর্যন্ত ৪৪.৬১ গড়ে ৯ সেঞ্চুরি ও ১৫ ফিফটিতে করেছেন ৩ হাজার ৭৪৭ রান। এর মধ্যে রয়েছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্যারিয়ারসেরা ২১৯ রানের ইনিংসও। ৩৯ বছর বয়সেও মুশফিক তাই কেবল দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারই নন, ব্যাটিংয়ের অন্যতম বড় ভরসাও।

সেই কারণেই নামের পাশে মাত্র ১৪টি টেস্ট সেঞ্চুরি কিছুটা বেমানানই লাগে। অবশ্য এই ইনিংসের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক এখন তিনিই, যা নিঃসন্দেহে বড় এক অর্জন। তবে আশি কিংবা নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে যদি বারবার আউট না হতেন, তাহলে সংখ্যাটা হয়তো ২০ ছুঁয়ে ফেলত।

তবে আশার কথা, এই বয়সেও মুশফিকুর রহিম দলের অন্যতম ফিট ও ফর্মে থাকা ক্রিকেটার। তাই আরও অন্তত দুই বছর খেলে যাওয়াটা তার পক্ষে অসম্ভব নয়। আর সেটা হলে বদলে যাওয়া এই মুশফিকুর হয়তো ক্যারিয়ার শেষ করতে পারেন ২০টিরও বেশি টেস্ট সেঞ্চুরি নিয়ে। তিনি কি পারবেন সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে?

সম্পর্কিত