ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের তৈরি কিছু ক্ষেপণাস্ত্র এখন উড্ডয়নকালে দিক পরিবর্তন এবং লক্ষ্যপথ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম, যা শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সহজেই ফাঁকি দিতে পারে।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে উদ্ধৃত করে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর কাজভিনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহাবি জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন আর আগের মতো কেবল এক স্থান থেকে উৎক্ষেপণ করে অন্য স্থানে গিয়ে পড়ার সাধারণ প্রযুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে এখন গাইডেড প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে এবং এগুলোর পথ পরিবর্তন করার ক্ষমতা রয়েছে। ফলে উড্ডয়নকালেই গতিপথ বদলে শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় এড়িয়ে এগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
হোসেইন মোহাবি আরও বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সময় ইরানের এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের ‘বিদ্যুৎ সক্ষমতা কাঠামোর’ বেশ কিছু অংশে আঘাত হানা হয়েছিল। প্রযুক্তিগত এই যুদ্ধের ক্ষেত্রে ইরানের উদ্দেশ্য কেবল শত্রুভাবাপন্ন দেশের অবকাঠামো ও সরঞ্জাম ধ্বংস করা নয়, বরং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে অকার্যকর করে দেওয়া।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সামরিক সংঘাত জড়িয়ে পড়ে ইরান। এর জবাবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা সম্পদ ধারণকারী ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে হামলা চালায় তেহরান।
পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং সংঘাত নিরসন ও স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে জুনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তবে গত মাসে সেই চুক্তি ভেঙে যায় এবং দুই দেশ পুনরায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই এই বোমাবর্ষণ স্থগিত করার নির্দেশ দেন এবং বিষয়টি সমাধানের জন্য আলোচনার কথা সামনে আসে।